নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে মির্জাপুরের করোনা পরিস্থিতি!

৮:০২ অপরাহ্ণ | শনিবার, জুন ২৭, ২০২০ ঢাকা
maat

মো. সানোয়ার হোসেন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ করোনা মোকাবেলায় দিন রাতের কোন পার্থক্য নেই উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে। দীর্ঘ প্রায় ৩ মাস যাবৎ নিরলস ভাবে ছুটে চলেছেন বিভাগগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্তরা। কিন্তু করোনা মোকাবেলায় সফলতার মুখ দেখার সৌভাগ্য হয়নি তাদের। কেননা মির্জাপুর উপজেলা শুরু থেকেই জেলায় শনাক্তের শীর্ষে অবস্থান করছে এবং এখনো তা ধরে রেখেছে। প্রতিদিনই শনাক্তের সংখ্যা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। ফলে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে মির্জাপুরের করোনা পরিস্থিতি।

শনিবার (২৭ জুন) নতুন করে ১৮ জন শনাক্ত হওয়ার মধ্যদিয়ে এই সংখ্যা এখন ১৭৩ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। তাই টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের করোনা পরিস্থিতির এমন অবনতির কারণ খুঁজে ফিরছেন অনেকে, খুঁজছেন পরিত্রানের উপায়ও। বিভিন্ন পেশাজীবী, শ্রমজীবি, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের সাথে ধারাবাহিকভাবে এই প্রতিবেদকের কথা হলে এটিকে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে বিচার করেছেন তারা।

অনেকের মতে, গত রমজানের ঈদের ছুটিই কাল হয়েছে উপজেলার জন্য। কারণ সে সময় করোনার হটস্পট নারায়নগঞ্জ ও গাজীপুরে কর্মরত অসংখ্য মানুষ এই এলাকায় ফিরেছিলেন। গত ৮ এপ্রিল প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ঈদের আগের দিন ২৪ মে পর্যন্ত ৪৬ দিনে উপজেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা ছিলো মাত্র ১৮ জন। কিন্তু ঈদের দিন অর্থাৎ ২৫ মে থেকে শুরু করে ২৬ জুন পর্যন্ত এক মাসেই শনাক্ত হয়েছেন ১৩৭ জন। যাদের অধিকাংশই নারায়নগঞ্জ ও গাজীপুর ফেরত বা তাদের মাধ্যমে সংক্রমিত। লকডাউন ঠিক মতো কার্যকর না হওয়া ও গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠানের ছুটি নিয়ে নানা নাটকিয়তার কারনে এই উপজেলায় করোনা বিস্তার লাভ করেছে। দেশব্যাপি করোনা মোকাবেলায় সরকারি সিদ্ধান্তের সমন্বয়হীনতাকেও অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করেন অনেকে।

অপরদিকে, করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে নমুনা দেয়ার পর ফলাফল আসতে কমপক্ষে সপ্তাহ খানেক লেগে যাওয়ার বিষয়টিকে পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যাওয়ার জন্য দায়ী করেন অনেকে। কেননা নমুনা দেয়ার পর ঘরে থাকার রেকর্ড দুর্লভই বলা চলে। ফলে নমুনা প্রদানকারিদের মাধ্যমেও এটি ছড়িয়েছে ব্যাপকভাবে। যদিও নমুনা দেয়ার পর স্বাস্থ্যবিভাগের তরফ থেকে বার বার তাদেরকে আইসোলেশনে বা কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি কেউ মানেননি। উল্লেখ্য, মির্জাপুরে যে ৪ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের ৩ জনের নমুনা ফলাফলই তাদের মৃত্যুর পর এসেছে।

তবে, উপজেলার জনসাধারণের মাঝে করোনা নিয়ে ব্যাপক অসচেতনতা লক্ষ করা গেছে। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে প্রশাসনকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিষয়টি অনেকটা চোর পুলিশ খেলার মতো। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের রাস্তাঘাট ও স্থানীয় হাট বাজারে এখনো মানুষের অসচেতন চলাফেরা অব্যাহত রয়েছে। যদিও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় অনেককে জরিমানা করা হয়েছে এবং হচ্ছে। শুক্রবারও উপজেলার পাকুল্লা এলাকায় মাস্ক না পড়ায় দুইজনকে জরিমানা করেছেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. জুবায়ের হোসেন। এছাড়া সম্প্রতি লকডাউনকৃত মির্জাপুর পৌর ৩ নং ওয়ার্ডেই বিভিন্ন কারনে জরিমানা করা হয়েছে আড়াই লক্ষাধিক টাকা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাকসুদা খানম বলেন, আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করছি। কারও দায়িত্বে কোন গাফলতি নেই, নেই আন্তরিকতারও ঘাটতি। তবুুুও পরিস্থিতি খারাপের দিকেই যাচ্ছে। করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, এমতাবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে নিজ দায়িত্বে গুরুত্ব দিতে হবে। মাস্ক পরিধান করলে করোনা সংক্রমিত হওয়ার হার অনেক কম উল্লেখ করে সবাইকে মাস্ক ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেয়ার আহবান জানান তিনি।