• আজ ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ভিডিও ফেসবুকে দেওয়ায় যুবক গ্রেপ্তার

১০:০৭ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, জুন ২৮, ২০২০ রংপুর
fbb

শাহ আলম শাহী, স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর থেকেঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ৯ম শ্রেণির স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে সিরাজুল ইসলাম নামে এক যুবকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে পর্নগ্রাফি আইনে মামলা হওয়ায় আজ শনিবার তাকে জেল-হাজতে প্রেরণ করেছে আদালত।

গ্রেপ্তার হওয়া সিরাজুল ইসলাম দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের লক্ষণপুর পাঠকপাড়া গ্রামের মো. আফজাল মন্ডলের ছেলে। সিরাজুল ইসলাম পেশায় একজন মুদি দোকানদার।

শনিবার ফেসবুকে ধর্ষণের ভিডিও এবং স্থির ছবি ছড়িয়ে দেয়ার কারণে ওই ছাত্রীর মা বাদি হয়ে ফুলবাড়ী থানায় সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। পরে পুলিশ সিরাজুল ইসলামকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। দুপুরেই আদালতে প্রেরণ করা হলে সিরাজুল ইসলামকে আদালত জেল-হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহারে প্রাপ্ত বিবরণীতে জানা গেছে, সিরাজুল ইসলাম নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করার ভিডিও এবং স্থির চিত্র ধারণ করে। পরে আবার ধর্ষণ করার ভয় দেখিয়ে ভিডিওটি ফেসবুকে ছেড়ে দিয়ে ভাইরাল করার ভয় দেখায়। মেয়েটিকে পরে ধর্ষণ করতে না পেরে সিরাজুল ইসলাম ভিডিওটি ফেসবুকে ছেড়ে দেয়।

পুলিশ জানায়, সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে লক্ষণপুর পাঠকপাড়ার নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর বাড়িতে যায় সিরাজুল ইসলাম। এ সময় ওই বাড়িতে কেউ না থাকায় একা পেয়ে কৌশলে ধষর্ণ করে মেয়েটিকে। ধর্ষণ করার সময় কৌশলে ভিডিও ধারণ করেন তিনি। ওই ভিডিও দেখিয়ে সিরাজুল ইসলাম দ্বিতীয়বার ধর্ষণ করে। পরে তৃতীয়বার আবারও ধর্ষণ করার চেষ্টা করলে মেয়েটি অস্বীকৃতি জানালে সিরাজুল ইসলাম ভয় দেখিয়ে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।

পরে সিরাজুল ইসলাম ধর্ষণের ভিডিওটি ফেসবুকে প্রচার করে। ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসুবকে ছড়িয়ে পড়লে ওই ছাত্রীর পরিবার বিষয়টি জানতে পারে। পরে বিষয়টি গত শুক্রবার রাতেই পুলিশকে অবগত করেন ওই শিক্ষার্থীর পরিবার। শনিবার সকালে থানায় মামলা দায়ের করলে আসামি সিরাজুলকে গ্রেপ্তার করেে পুলিশ।

ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফখরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘শনিবার গ্রেপ্তার সিরাজুল ইসলামকে আইনের মাধ্যমে কোর্টে প্রেরণ করা হয়। বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে আসামিকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন। ভিকটিমকে পরীক্ষার জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেন্সিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।