• আজ ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ময়ূর-২ লঞ্চে চালকের পরিবর্তে আসনে ছিলেন মাস্টার!

২:১১ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, জুন ৩০, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ

রাজু আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার- বুড়িগঙ্গা নদীতে দুর্ঘটনা কবলিত ঘাতক লঞ্চটির ইঞ্জিন সংশ্লিষ্ট কোনো ত্রুটি নয়, বরং চালকের আসনে বসা শিক্ষানবিশ মাস্টারের ভুলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে বুড়িগঙ্গায় ঢাকা-চাঁদপুর রুটের ময়ূর-২ নামের যে ঘাতক লঞ্চের ধাক্কায় ‘এমএল মর্নিং বার্ড’ লঞ্চটি ডুবে ৩২ জনের প্রাণহানি হয় ওই সময় সেই ঘাতক লঞ্চ ‘ময়ূর-২’ এর চালকের আসনে মূল চালক ছিলেন না। অভিযোগ উঠেছে, দুর্ঘটনার সময় লঞ্চটি একজন শিক্ষানবিশ চালাচ্ছিলেন।

‘ময়ূর-২’ লঞ্চের সাবেক চালক শিপন হাওলাদার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত ২১ জুন থেকে ওই লঞ্চে তার চাকরি নেই। বেতন পরিশোধ করে তাকে লঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যারা লঞ্চ চালানোর কথা নয়, তারা ময়ূর-২ চালাচ্ছিলেন। ওই লঞ্চে কোনো চালক নেই। মাস্টার লঞ্চটি চালাচ্ছিলেন বলে জানান তিনি।

এর আগে, সোমবার সকাল ১০ টার দিকে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ রুটের মর্নিং বার্ড লঞ্চটি সদরঘাটের কাছে শ্যামবাজারে পৌঁছালে ঘাতক লঞ্চটির আঘাতে ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পর থেকে এ পর্যন্ত ৩২ জনের লাশ ও ২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধারের কার্যক্রম এখনও চলছে।

নৌপরিবহন অধিদফতরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড শিপ সার্ভেয়ার মনজুরুল কবীর গণমাধ্যমকে বলেন, গতকালের দুর্ঘটনার কারন খুঁজতে সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আপত দৃষ্টিতে মনে হয়েছে ওখানে (ময়ূর-২ লঞ্চ) মাস্টার ও অন্যান্য যারা কাজ করেছেন তাদের ‘হিউম্যান ফেইলিওর’। দুর্ঘটনার অবস্থায় ‘সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস’ ওই পার্টিকুলার পরিস্থিতিতে সে তার দায়িত্বটা হ্যান্ডেল করতে পারেনি।

তিনি আরো বলেন, গতকাল সরেজমিনে দুর্ঘটনা কবলিত স্পটে গিয়ে সিসি টিভির একটা ফুটেজও দেখেছি। যখন কোন দুর্ঘটনা ঘটে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে অ্যানালাইসিস করার চেষ্টা করি সেটি কীভাবে ঘটল? প্রাথমিকভাবে ডুবে যাওয়া লঞ্চের সার্ভে ও রেজিস্ট্রেশন ঠিক ছিল কিনা চেক করলেও এ দিক থেকে আমরা কোন সমস্যা পাইনি। সব ঠিকঠাকই ছিল। একটি দুর্ঘটনার পেছনে অসংখ্য কারণ থাকতে পারে। বৈরি আবহাওয়া হতে পারে, নির্মাণ ত্রুটি হতে পারে, ইকুইপমেন্ট ফেইলিওর হতে পারে। তদন্তে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট বিষয়টি উঠে আসে।

এদিকে, লঞ্চ ডুবির ঘটনা তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। কমিটি আগামী সাত দিনের মধ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

কমিটি দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটন, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তি/সংস্থাকে শনাক্তকরণ এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় উল্লেখ করে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রদান করবে।