• আজ ৮ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নোবিপ্রবির করোনা পরীক্ষার মান যাচাইয়ে শতভাগ সাফল্য

১০:০২ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, জুন ৩০, ২০২০ চট্টগ্রাম
nstuu

এস আহমেদ ফাহিম, নোবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ করোনা মহামারী মোকাবিলায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) এর অণুজীববিজ্ঞান বিভাগে চালু হয় করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা। এই পরীক্ষার মান যাচাইয়ের জন্য আইইডিসিআর এর নির্দেশনায় পাঠানো হয় ২০ টি নমুনা যার মধ্যে ছিল ১৫ টি পজিটিভ ও ৫ টি নেগেটিভ নমুনা এবং আইইডিসিআর সেই নমুনাগুলো পরীক্ষা করে একই ফলাফল পায়। এর ফলে করোনা পরীক্ষার মান যাচাইয়ে শতভাগ সফলতা পেয়েছে নোবিপ্রবি।

আজ ৩০ জুন আইইডিসিআর থেকে নমুনা পরীক্ষার ফলাফল জানানো হয়। যাতে নোবিপ্রবি থেকে পাঠানো ২০ টি নমুনার মধ্যে ১৫ টি পজিটিভ এবং ৫ টি নেগেটিভ আসে।

এ বিষয়ে নোবিপ্রবির অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড.ফিরোজ আহমেদ বলেন, ডায়াগনস্টিক ল্যাব এর কোয়ালিটি নিশ্চিতকরণের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটি হলো- External Quality Assurance Scheme (EQAS)-এ শতভাগ নিশ্চিত ফলাফল পাওয়া। সেই যখন থেকে ডায়াগনস্টিক সেক্টরে কর্মরত আছি, তখন থেকেই বিষয়টি আমার মাথা ব্যথার কারণ। মনের মধ্যে একটা ভয় কাজ করে যে, EQAS পরীক্ষায় শতভাগ সফলতা না এলে নিজের কাজের ব্যাপারে নিজেকে ক্ষমা করতে পারবোনা।

তিনি বলেন, EQAS কি তা সবার জানার জন্য একটু ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। ডায়াগনস্টিক ল্যাবে একটি টেস্ট ঠিকমত করা হচ্ছে কিনা তা জানার জন্য একটি রেফারেন্স ল্যাবরেটরি থেকে পাঠানো অজানা নমুনা পরীক্ষা করে ফলাফল ফেরত পাঠানো হয়। রেফারেন্স ল্যাবরেটরীতে সেই ফলাফল মূল্যায়ন করে স্কোর পাঠালে সেটা শতভাগ হলে টেস্ট ঠিকমত করা হচ্ছে তা বোঝা যায়। অন্যভাবে, ডায়াগনস্টিক ল্যাব থেকে রেফারেন্স ল্যাবে নমুনা পাঠানো হয় এবং তারা তা পরীক্ষা করে ফলাফল জানিয়ে দেয়। এখানেও শতভাগ স্কোর করাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

ড.ফিরোজ আহমেদ বলেন, করোনা মহামারীর এই দুঃসময়ে আমরা অসুস্থ এবং অসহায় মানুষের নমুনা পরীক্ষার দায়িত্ব নিয়েছি। ভুল ফলাফল যেমন অসুস্থ মানুষকে বিপদ ডেকে আনে তেমনি এই অসুস্থ মানুষটির মাধ্যমে ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে পরিবার, সমাজ এবং দেশ বিপর্যস্ত হচ্ছে। অসহায় মানুষ ও দেশের কথা ভেবে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের কোভিড-১৯ ল্যাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং স্বেচ্ছাসেবকরা অত্যন্ত সতর্কতা ও সততার সাথে কাজ করে যাচ্ছে।

সম্প্রতি আমরা আইইডিসিআর-এর নির্দেশনায় কুড়িটি নমুনা পাঠিয়েছিলাম যার মধ্যে পনেরটি টি পজিটিভ এবং পাঁচটি নেগেটিভ নমুনা ছিল। আজ গর্বভরে সবাইকে জানাচ্ছি যে, আমাদের টিম হাজারো সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তাঁদের পরীক্ষায় শতভাগ সফল হয়েছে। আমি আমার টিমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দেশ ও জাতির কাছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সম্মান অর্জন করায় আমি প্রিয় শিক্ষক শাহাদাত হোসেন রিয়াদ ও তাঁর টিমকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাচ্ছি।