করোনার কারণে দেশে জীবাণুনাশক পণ্যের রমরমা ব্যবসা

১১:০৬ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, জুলাই ২, ২০২০ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্তের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল গত ৮ মার্চ। এরপর থেকে দেশে বেড়েই চলেছে জীবাণুনাশক পণ্যের চাহিদা।

দেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি উৎপাদক প্রতিষ্ঠান বলছে, কাঁচামাল সংকটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী তারা বাজারে পণ্য সরবরাহ করতে পারছে না। আর এ সুযোগে বাজার ছেয়ে গেছে নকল জীবাণুনাশক পণ্যে। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

এমনকি জীবাণুনাশক পণ্যের চাহিদা এত বেড়েছে যে চার-পাঁচ গুণ বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও এসেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের কয়েকটি জায়গায় এমন বেশি দামের কারণে ব্যবসায়ীদের জরিমানার ঘটনাও ঘটেছে। একপর্যায়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে সাতটি কোম্পানির হ্যান্ড স্যানিটাইজারের দাম পর্যন্ত বেঁধে দিতে হয়েছে। তারপরও এখনো অনেক জায়গায় অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে স্যাভলন কিংবা সেপনিলের মতো জীবাণুনাশক লিকুইডের বোতল।

একটি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির মার্কেটিং বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, জীবাণুনাশক সাবানসহ সব ধরনের পণ্যের বার্ষিক বাজার সর্বোচ্চ ৫০০ কোটি টাকার মতো ছিল, যা এবার বছর শেষে পাঁচ থেকে আট হাজার কোটি টাকায় দাঁড়াবে বলে ধারণা করছেন তাঁরা।

ঢাকার মগবাজারের বাসিন্দা সানোয়ারা বেগম একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। গত মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে তিনি দুটি ৫০ মিলিলিটারের জীবাণুনাশকের বোতল কিনেছিলেন আড়াইশ টাকায়, যদিও এর প্রকৃত মূল্য ছিল ৪০ টাকা করে মোট ৮০ টাকা।

সানোয়ারা বেগম বলেন, ‘আগে পাড়ার মুদি দোকানেও স্যাভলন পেতাম। বাসার সামনেই ছোট ফার্মেসিতেই জীবাণুনাশক দেখতাম। কিন্তু মার্চের ১০-১২ তারিখে অনেক দোকান খুঁজে শেষে একটি বড় ফার্মেসিতে জীবাণুনাশক পেয়েছিলাম, কিন্তু দাম নিয়েছিল আড়াইশ টাকা।’

একপর্যায়ে দেশের বাজারে কোনো ধরনের জীবাণুনাশকই পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে এখন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। উৎপাদক কোম্পানিগুলো বলছে, তারা সর্বাধিক উৎপাদন করেও চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে পারছে না।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে মাস্ক পরা এবং কিছুক্ষণ পরপর ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ওপর। বাংলাদেশে সাধারণ সাবান আর কাপড় ধোয়ার সাবানের ব্যবহার বেশি হতো। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে এসব সাবানের বিক্রির পাশাপাশি ব্যাপক বেড়েছে অ্যান্টিসেপটিক সাবানেরও বিক্রিও। এর বাইরে হ্যান্ড রাব ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহার বেড়েছে বহুগুণ। এ পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে বেশি দামে বিক্রি ঠেকাতে হস্তক্ষেপ করতে হয় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে।

পাশাপাশি বাসাবাড়িতে লিকুইড অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার করে ফ্লোর পরিষ্কার এখন স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ফলে এ ধরনের লিকুইডও ব্যাপকভাবে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান ইস্কাটন এলাকার একজন দোকানদার লিটন মিয়া।

লিটন মিয়া বলেন, ‘আগে দিনে দু-তিনটা স্যাভলন লিকুইড বিক্রি করতাম। করোনা আসার পর কিছুদিন কোম্পানি থেকেই আনতে পারিনি উৎপাদন কম থাকায়। গত দুমাসে দিনে ৩০/৩৫টি করে বিক্রি করছি।’

কত বেড়েছে জীবাণুনাশক পণ্যের উৎপাদন ও বিক্রি?

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় যেসব কোম্পানি জীবাণুনাশক পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করে তার মধ্যে আছে স্কয়ার, এসিআই, এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস, ইনসেপ্‌টা, ক্লিনজেল, গ্রিনল্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস ও অপসোনিন। এর মধ্যে এসিআইয়ের স্যাভলন বা হেক্সাসল এবং স্কয়ারের সেপনিল স্যানিটাইজারের বিক্রি বেড়েছে কয়েকশ গুণ।

সংকটের সুযোগে গড়ে উঠছে নকল পণ্যের বাজার

জীবাণুনাশক পণ্যের সংকটের সুযোগে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে নকল জীবাণুনাশক পণ্য। প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির পণ্যের নামের কাছাকাছি ধরনের নাম দিয়ে বিক্রি করার সময় অনেককে আটকও করেছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। গত মে মাসেই চাঁদপুরে একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে নকল স্যাভলনের মজুদ খুঁজে পায় পুলিশ এবং এ ঘটনায় আটক করা হয় কয়েকজনকে।

এসিআই তাদের পণ্যের নকল করার ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে একটি বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করে।

ঢাকায় গুলশানে দুটি ফার্মেসিকে নকল পণ্য রাখার দায়ে জরিমানাও করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।