কাজে ভুল হলেই আসমার ওপর চলত নির্যাতন, দিতো সিগারেটের ছ্যাঁকাও

১১:৫০ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, জুলাই ২, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

মোশারফ হোসাইন তযু, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: আসমা খাতুন। ১৪ বছরের কিশোরী। গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর নয়নপুর গ্রামের ইমান আলীর মেয়ে। গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

জানা গেছে, আসমার বাড়ির পাশেই ফারসিং নীট কম্পোজিট লিমিটেড নামের কারখানার মালিক আবু তাহের মাসিক পাঁচ হাজার টাকা বেতন দেওয়ার কথা বলে উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের ৭/বি রোডের একটি বাসায় নিয়ে যান আসমাকে।

জানা যায়, বছরখানেক আগে কৃষক ইমান আলীর মেয়ে আসমা উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের ৭/বি রোডের ওই বাড়িতে কাজে যোগ দেন। শুরুটা ভালোই ছিল। আদর, স্নেহ ও ভালোবাসার কমতি ছিলনা। কিন্তু ছয়মাস না পেরোতেই আসমার ওপর চালানো হয়েছে ভয়াবহ নির্যাতন। কাজে ভুল হলেই তাঁকে নির্যাতন করতেন গৃহকর্ত্রী। শরীরে গরম তেল ঢেলে দেওয়া, লাঠিপেটা করা এবং বিভিন্ন সময় সিগারেটের ছ্যাঁকাও দেওয়া হতো। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম তৈরি হয়। তাকে ঠিকমতো খেতে দেওয়া হতো না। এ অবস্থায় কিশোরীকে কোনও চিকিৎসা করানো হয়নি।

করোনার অজুহাতে বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগও করতে দেওয়া হতো না। একপর্যায়ে আসমার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ২৯ জুন বিকেলে তাকে তার বাড়ির উদ্দেশে গাড়িচালকের মাধ্যমে একটি যাত্রীবাহী বাসে তুলে দেওয়া হয়। পরে কিশোরী বাড়িতে ফিরে এসব ঘটনা তার বাবা-মাকে জানায়।

কিশোরীর বাবা ইমান আলী বলেন, বাসার মালিক আবু তাহের ও তার সহধর্মিণী শাহজাদী আমার মেয়ের ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের উপযুক্ত সাজা হোক।

আসমা অভিযোগ করে বলেন, বাড়ির মালিক আবু তাহের মাঝে মধ্যেই কিল-ঘুষি দিয়ে নির্যাতন করতেন। কয়েকবার সিগারেটের আগুনের ছ্যাঁকাও দিয়েছেন। তার স্ত্রী শাহজাদীও শরীরে দিতেন গরম তেলের ছিটা। তারপর দগ্ধ ঘায়ের ওপর মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দিতেন। গত চার মাস ধরে এমন নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ইমাম হোসেন জানান, ওই কিশোরীকে নিয়ে গত মঙ্গলবার মা-বাবা থানায় এসেছিলেন মামলা করতে। যেহেতু ঘটনাটি ঢাকার উত্তরার সেখানে গিয়ে মামলা করার জন্য তাদেরকে পরামর্শ দিয়েছি।

তিনি আরো জানান, ওই থানার সার্কেল স্যার ও ওসির সঙ্গে গৃহকর্মীর ওপর নির্মম নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে কথা বলেছি। মামলা হবার পর নির্যাতনকারীদের ধরতে শ্রীপুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।