বেশির ভাগ মানুষেরই করোনার টিকা লাগবে না: অক্সফোর্ডের গবেষক

১০:০৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, জুলাই ২, ২০২০ আন্তর্জাতিক
pjimage

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর নতুন এক করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় চীন। এরপর গত ছয় মাসে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশে এই ভাইরাসের বিস্তার ঘটেছে।

মাত্র ১৮০ দিনের ব্যবধানে বিশ্বে আক্রান্ত হয়েছে ১ কোটি ৩ লাখের বেশি মানুষ। আর মারা গেছে ৫ লাখ ৫ হাজার মানুষ। এমন এক পরিস্থিতিতে আশার বাণী শুনিয়েছেন অক্সফোর্ডের মহামারিবিষয়ক গবেষক সুনেত্রা গুপ্তা।

ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুনেত্রা গুপ্তা জানিয়েছেন, অধিকাংশ মানুষের করোনার ভ্যাকসিন প্রয়োজন হবে না। আর দীর্ঘমেয়াদি লকডাউন আরোপ করে করোনার বিস্তার ঠেকানো যাবে না।

তিনি জানান, সাধারণ ফ্লু বা জ্বরের ক্ষেত্রে যতটা ঝুঁকি থাকে, করোনার ক্ষেত্রে একজন সম্পূর্ণ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরও ঠিক ততটাই ঝুঁকি রয়েছে। যারা বয়স্ক বা যাদের আগে থেকেই কোনো বড় রকমের স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেই করোনায় বিশেষ ঝুঁকি রয়েছে।

তাঁর দাবি, যাদের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, শুধু তাদের ক্ষেত্রেই প্রতিষেধক করোনায় স্বাস্থ্যহানির ঝুঁকি কমানোর পক্ষে সহায়ক হতে পারে। প্রতিষেধক এসে গেলে আমরা তাদের সাপোর্ট দিতে পারব। খুব সহজেই করোনার মোকাবেলা করা সম্ভব হবে। তবে অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রেই এই ভাইরাস নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

গুপ্ত বলেন, তিনি মনে করেন করোনাভাইরাস মহামারি প্রাকৃতিকভাবেই শেষ হয়ে যাবে এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার মতোই এটা মানুষের জীবনে একটা অংশ হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, আশা করি ইনফ্লুয়েঞ্জার চেয়ে কোভিড-১৯ এ মৃত্যু কম হবে। আমি মনে করি করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির কাজ মোটামুটি সহজ। চলতি গ্রীষ্মের শেষের দিকে আমাদের হাতে ভ্যাকসিন কার্যকর হওয়ার প্রমাণ চলে আসা উচিত।

তবে লকডাউনকে অত্যন্ত বিচক্ষণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করলেও ভাইরাসকে দীর্ঘ সময়ের জন্য দূরে রাখতে এটি যথেষ্ঠ নয় বলে মন্তব্য করেন গুপ্ত।

ভাইরাসের দ্বিতীয় প্রাদুর্ভাব বিশ্বের অনেক জায়গায় শুরু হয়েছে বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। অক্সফোর্ডের এই অধ্যাপক বলেন, অনেক দেশ সফলভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে এবং এখন তারা ভাইরাসের পুনরুত্থান দেখছে।