সংবাদ শিরোনাম
উইঘুর সংস্কৃতি বিলুপ্ত করতেই হাজার মসজিদ ধ্বংস করে চীন | যে কারণে এই মুহূর্তে সরকার পতনের আন্দোলন করবেন না নুর | টাঙ্গাইলে বন্যায় সড়ক বিভাগের ৬০ কিলোমিটার রাস্তার ক্ষয়ক্ষতি | এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ, ছাত্রলীগের যাদের খুঁজছে পুলিশ | মসজিদে নামাজ পড়তে আসলেই উপহার পাচ্ছে শিশুরা | স্কুলছাত্রী নীলা হত্যার প্রধান আসামি মিজান গ্রেফতার | করোনায় বিশ্বে ২০ লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে: ডব্লিউএইচও | এমসি কলেজ হোস্টেলে স্বামীকে বেধে স্ত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে | নুর ধর্ষক নয়, ধর্ষকদের বিচার না করায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে: মামলার বাদী | ২০ নারীর ভিডিও নিয়ে ব্লাকমেইল, কলেজছাত্র গ্রেফতার |
  • আজ ১১ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে মৃত্যুর হার ইউরোপ আমেরিকার চেয়ে অনেক কম: তথ্যমন্ত্রী

৯:১৯ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, জুলাই ৩, ২০২০ চট্টগ্রাম
tottho

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশে মৃত্যুর হার ভারত পাকিস্তানের চেয় কম, ইউরোপ আমেরিকার চেয়ে অনেক কম উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, পৃথিবীর কোনো দেশ এই করোনাভাইরাস মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত ছিল না। আমরা আমাদের সীমিত সামর্থ্য নিয়ে মোকাবেলা করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা যদি সঠিকভাবে মোকাবেলা করতে না পারতাম মৃত্যুর হারতো ভারত পাকিস্তানের চেয়ে অন্তত বেশি হতো।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত সাংবাদিকদের মাঝে করোনাকালীন সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাস শুরু হবার পর অনেকেই শঙ্কা-আশঙ্কার কথা বলেছিলেন। অনেক ধরণের বিশেষজ্ঞ নানা ধরণের মত দিয়েছিলেন। কিন্তু অনেকের ধারণা ও মতামত ভুল প্রমাণিত হয়ে আজকে করোনাভাইরাসের সাড়ে তিন মাসে বাংলাদেশে আল্লাহর রহমতে একজন মানুষও নাখেয়ে মৃত্যুবরণ করেনি। অনেকে আশা করেনি এ ধরণের সাহায্য সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হবে। কিন্তু সরকার মোবাইল ফোনে মানুষের কাছে টাকা পৌঁছে দিয়েছে। মসজিদের ইমামদের কাছে টাকা পৌঁছে দিয়েছে। প্রায় ৭ কোটি মানুষ সরাসরিভাবে সরকারের সহায়তা পেয়েছে। আমাদের দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও ১ কোটি ২৫ লাখ মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছানো হয়েছে। মানুষের জন্য ত্রাণ তৎপরতা করতে গিয়ে দলের অনেক নেতা ও মন্ত্রী-এমপি আক্রান্ত হয়েছে, কেন্দ্রিয় কমিটির তিন নেতা মৃত্যুবরণ করেছেন।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির এই পরিস্থিতিতে সমগ্র পৃথিবীর সবরাষ্ট্রগুলো পর্যুদস্ত। বলা হচ্ছে চায়না খুব ভালোভাবে এটাকে মোকাবেলা করেছে। কিন্তু প্রথম দিকে চায়নাও এই ভাইরাসকে অস্বীকার করেছে। যে ডাক্তার এই ভাইরাসের সন্ধান দিয়েছিল তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মিসাইল এন্টিমিসাইল কোনোটিই কাজ করছে না। তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি কোনোটাই কাজে লাগছে না, ইউরোপের দেশগুলোতে মৃত্যুর মিছিল হয়েছে। পৃথিবীর কোনো দেশ মুক্ত থাকেনি। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষকে শারীরিকভাবে সুরক্ষা দেয়ার জন্য প্রথম থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। একই সাথে মানুষ যাতে না খেয়ে না থাকে মানুষের যাতে অসুবিধা না হয় সেজন্য তিনি ব্যাপক ত্রাণ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, করোনাভাইরাসের শুরুতে চট্টগ্রামে চিকিৎসা ক্ষেত্রে নানা সমস্যা ছিল। আমি তিনবার এসে এখানে সমন্বয় মিটিং করেছি। চট্টগ্রামের প্রশাসন ও সমস্ত মন্ত্রী এমপিরাও ছিল। পরিস্থিতি দু’মাস আগে যা ছিল তারচেয়ে এখন অনেক ভালো হয়েছে। সাংবাদিকদের জন্য ইউএসটিসির বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, কভিড-১৯ জনিত পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের সহায়তা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করলে তিনি আমাকে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রথমে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছিলাম। এরপর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অব্যয়িত অর্থ থেরেক আরো ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মোট ৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সাথে দফায় দফায় আলোচনা করে কারা সহায়তা পাবেন তারা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সাংবাদিক ইউনিয়ন গুলোই তালিকা করেছেন। যারা ইউনিয়নের বাইরে আছেন তাদের জন্য ডিসির সুপারিশ নিয়ে অন্তর্ভুক্তের অপশন রাখা হয়েছে। প্রথম দফায় ১ হাজার ৫০০ সাংবাদিকদের এই সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। সেখানে চট্টগ্রাম থেকে ২৫০ জন সাংবাদিক পাচ্ছেন। এবারে যারা বাদ যাবে অসহায় দুঃস্থ তারা পরবর্তিতে পাবে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, নবম ওয়েজবোর্ড ঘোষণা না করার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে দুইটা মামলা হয়েছে। তথ্য সচিব দুই মামলাতেই আসামি। প্রথম মামলা করা হলো তথ্য মন্ত্রণালয় এটা করার অধিকার রাখে না। পরবর্তিতে করা হলো পূর্বের মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এটা অগ্রবর্তী করা যাবে না। এটা ঘোষণা করাই একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। পত্রিকার সম্পাদক-মালিক পক্ষ নবম ওয়েজ বোর্ডের বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেভাবে এগিয়ে আসার প্রয়োজন ছিল সেভাবে আসেনি, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

চাকরিজীবীকে শুধু চাকরিজীবী নয় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার অনুরোধ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, করোনাকালে বিভিন্ন মিডিয়ার মালিক পক্ষকে প্রথম থেকে অনুরোধ জানিয়ে আসছিলাম যাতে কোনো সাংবাদিককে চাকুরিচ্যুত করা না হয় এবং পাওনা যাতে পরিশোধ করা হয়। এতদসত্ত্বেও যেখানে প্রধানমন্ত্রী মানবিকতার উদাহরণ দিয়েছেন সেখানে অনেক জায়গা থেকে অনেকে মানবিকতা দেখাতে পারেননি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে’র সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাস, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, বিএফইউজে’র যুগ্ম মহাসচিব মহসিন কাজী প্রমূখ।