সংবাদ শিরোনাম
২২ ঘণ্টা ঘিরে রাখার পর জানা গেল বস্তুটি বোমা নয়, টাইলস কাটার যন্ত্র | নন্দীগ্রামে দেশীয় অস্ত্রসহ ডাকাত দলের ৪ সদস্য গ্রেফতার | স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী কিনতে বাংলাদেশকে ৩০ লাখ ডলার দেবে এডিবি | শ্রীমঙ্গলে ৫ শতাধিক পথচারীকে মাস্ক দিলেন আব্দুস শহীদ এমপি | কোটালীপাড়ায় সুদখোরের চাপে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যার চেষ্টা | ‘হোম অফিস’ বাতিল, স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফিসে আসতে হবে সবাইকে | হবিগঞ্জে মাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা, তরুণ আটক | মেজর সিনহা ‌‘হত্যা’: ওসি প্রদীপসহ ৯ পুলিশকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ | ওএসডি হলেন মাহবুব কবির মিলন | বাড়িতে কেউ না থাকায় মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা, লম্পট বাবার বিরুদ্ধে মামলা |
  • আজ ২২শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মিরপুরে বেপরোয়া কিশোর অপরাধী চক্র, ছিনতাই-চুরি সবই করেন তারা

১২:৫৩ অপরাহ্ণ | শনিবার, জুলাই ৪, ২০২০ আলোচিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়ের কণ্ঠস্বর- রাজধানীর মিরপুরে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে কিশোর অপরাধী গ্রুপ। মিরপুরস্থ হযরত শাহ্ আলী মাজারসহ গোটা মিরপুরে এলাকাকে ঘিরে চুরি, ছিনতাই, মাদক সেবন, মাদকদ্রব্য বহনসহ এহেন অপকর্ম নেই যা এই কিশোর অপরাধী গ্রুপের নেতৃত্বে হয় না।

স্থানীয়রা জানায়, অপরাধী চক্রের এই গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছে মামুন (ভাগিনা মামুন- ১৭)। আর এই ভাগিনা মামুনের কিশোর অপরাধী চক্রের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করে উত্তর বিশিলের কুসুমবাগ আবাসিক এলাকার পানির পাম্পের পাশের নুরুল ইসলামের বাড়ির ভাড়াটিয়া মৃত জাফরের ছেলে রবিন (পিচ্চি রবিন-১৭)।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিরপুরের একজন ফুটপাত ব্যবসায়ী বলেন, মিরপুর ১, ২, ১০ নম্বর এলাকা ঘিরে চিহ্নিত ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাঙের সক্রিয় সদস্য ভাগিনা মামুনের নেতৃত্বে হযরত শাহ্ আলী (রঃ) মাজার থেকে সনি সিনেমা হল, চিড়িয়াখানা এলাকা, মিরপুর ১, ২, ১০ নম্বর পর্যন্ত মার্কেট, শপিংমল, বাজার ও ফুটপাট ঘিরে প্রায় ৬০ জন ৮ থেকে ১৬-১৭ বছর বয়সী পথশিশু-কিশোর রয়েছে। যাদের প্রতিদিনের রুটিন হচ্ছে ৪/৫ জন করে গ্রুপ আকারে ভাগ হয়ে সারাদিন ছুটোছুটি করে উল্লেখিত এলাকাজুড়ে পকেট মারা, চুরি, ছিনতাই করা। পরে রাতে চুরির সেই মালামাল ভাগিনা মামুন ও রবিনের হাতে তুলে দেয় তারা।

এসকল পথ শিশুরা যত মূল্যবান মোবাইল ফোন, মহিলাদের দামী পার্টস, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বা টাকাপয়সা চুরি/ছিনতাই করেই আনুক না কেন; তাদের ভাগে জোটে নেশাজাতীয় এক কৌটা ড্যান্ডি আঠা ও রাতের খাবার। ব্যতিক্রম হলেই শারীরিকভাবে বেদম প্রহার করে ভাগিনা মামুন ও তার সেকেন্ড ইন কমান্ড রবিন-১৭ (পিচ্চি রবিন) ।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী হিসেবে মিরপুর সরকারী বাংলা কলেজের একজন প্রভাষক বলেন, আমি কয়েকদিন আগে মাজার শরীফ জিয়ারতের উদ্দেশ্যে মিরপুর মাজার শরীফের সামনে গিয়ে একটি চায়ের দোকানে চা খেতে বসি। এমন সময় ৮/৯ বছরের বয়সী একটি ছেলে আমার পকেট থেকে মোবাইল ফোনটি নিয়েই ভো-দৌড়। আমি দৌড়ে ধরতে গেলে উঠতি বয়সী কয়েকটা ছেলে আমার সামনে দাড়িয়ে আমাকে বাধা দিয়ে জানতে চায় চাচা কি হয়েছে? আমি তাদেরকে উপেক্ষা করে সামনে এগোতে চাইলে তারা আমাকে শক্ত করে ধরে বলতে থাকে চাচা কি হয়েছে? আমাদেরকে বলেন আমরা সমাধান করে দেবো। ততক্ষণে ওই ছেলেটি আমার দামী মোবাইল ফোনটি নিয়ে আমার দৃষ্টির আড়ালে পালিয়ে গেল। আমি ছেলেদেরকে ধমক দিয়ে ‘তোমাদের জন্যেই আমার মোবাইলটি উদ্ধার করতে পারলাম না’ বলতেই তারাও আমার সাথে খুব খারাপ আচরণ করলো। ততক্ষণে আমার বুঝতে বাকী রইলো না আসলে ঘটনাটা কি? আমি সম্মান রক্ষার্থে সেখান চলে আসি।

সর্বশেষ ১ জুলাই সন্ধ্যায় একজন সাংবাদিকের উপর হামলা করে তার গলার স্বর্ণের একটি চেইন ছিনিয়ে নেয় ভাগিনা মামুন পিচ্চি রবিন ও তাদের সহযোগী পাভেল। ভুক্তভোগী ওই সাংবাদিক তাৎক্ষণিক শাহ্ আলী থানায় অভিযোগ করেন। পুলিশ তাদেরকে আটক করতে বার বার অভিযান পরিচালনা করলে তারা আপাতত গা-ঢাকা দিয়েছে।

এদিকে, একটি গোয়েন্দা সংস্থা তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রাজধানীতে কিশোরদের কমপক্ষে ৫০টি গ্যাং নানা অপরাধে জড়িত রয়েছে। পেছনে রাজনৈতিক দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা মদদ দিচ্ছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার কিশোর অপরাধী চক্রের উপর রাজনৈতিক দলের স্থানীয় কতিপয় নেতার ছত্রছায়ায় গড়ে উঠা কিশোর অপরাধী গ্রুপের সদস্যরাই এখন প্রকাশ্যে এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে অনেক সময় থানা পুলিশও এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না। বড় ভাইদের আশীর্বাদ নিয়ে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী কিশোর গ্রুপগুলো পুলিশের নাকের ডড়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকার ভুক্তভোগীরা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিএমপির একজন উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, শুধু কিশোর অপরাধী নয়, সব ধরনের অপরাধীর পেছনে কোন না কোন প্রভাবশালী শক্তি জড়িত থাকে। বিশেষ করে মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ীরাই কিশোরদের ব্যবহার করে আসছে।

তিনি বলেন, রাজধানীতে এদের গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এলাকাভিত্তিক তালিকাও করা হচ্ছে। নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে বেশ কিছু কিশোরকে আটকও করা হয়েছে।

Skip to toolbar