• আজ ১১ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোন করেছিলেন রিজেন্টের সাহেদ!

◷ ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন ৷ বৃহস্পতিবার, জুলাই ৯, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ
I999

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাবের) অভিযানের পর রাজধানীর উত্তরার রিজেন্ট গ্রুপের মালিক মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে ফোন করেছিলেন। অভিযানের ব্যাপারে তাকে অবগত করলেও কিছু করার নেই বলে জানান মন্ত্রী।

গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান নিজেই। তিনি জানান, কয়েকবার সচিবালয়ে গিয়েছেন সাহেদ করিম। মন্ত্রীকে তিনি দুটি হাসপাতাল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানান। এমনকি তাকে অনুরোধ করেন, রোগী থাকলে যেন তিনি পাঠান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সেখানে রোগী পাঠিয়েছি। একজন মারা গেছেন। বাকিরা সেরে উঠেছেন।’

তবে সাহেদ করিমকে করোনাভাইরাস মহামারির আগে চিনতেন না বলে জানান আসাদুজ্জামান খান। তিনি আরও জানান, র‌্যাবের অভিযানের পর সাহেদ করিম তাকে ফোন করেছিলেন। কিন্তু তিনি কিছু করার নেই বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

এদিকে, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ছবি আছে রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক সাহেদের। কিন্তু এ ব্যাপারে কিছু বলেননি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন এ ব্যাপারে বলেছেন, ‘কেউ কখনো ছবি তুলতে চাইলে তিনি (ওবায়দুল কাদের) না করেন না। সাহেদ করিমকে ব্যক্তিগতভাবে তিনি চেনেন না। এ ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে।’

জানা গেছে, যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন রিজেন্ট গ্রুপের মালিক মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম। তাকে গ্রেপ্তারে র‌্যাবের একাধিক দল অভিযান পরিচালনা করছে। রিজেন্ট হাসপতালে অভিযানের পরপর নিজের ব্যবহৃত মোবাইল বন্ধ করে রেখেছেন সাহেদ। তবে গত মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত তাকে ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে সক্রিয় দেখা গেছে।

র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, সাহেদকে গ্রেপ্তারে প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন তিনি। তবে সাহেদ যাতে সীমান্ত পেরিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, ‘রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালাতে গিয়ে আমরা কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে অ্যানাকোন্ডা (বৃহদাকৃতির হিংস্র সাপ) পাই। যখন আমরা অভিযান শুরু করেছি তখন থেকেই তিনি (সাহেদ) গা  ঢাকা দিয়েছেন। তিনি তাঁর মোবাইলগুলো বন্ধ করে রেখেছেন। আশা করছি দ্রুত তাঁকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে সক্ষম হব। তাঁর বিষয়ে অন্যান্য সংস্থাও সতর্ক রয়েছে। আশা করছি তিনি দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে সক্ষম হবেন না।’

সাহেদের ব্যাপারে সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, ‘মিথ্যাকে কেন্দ্র করেই তাঁর উত্থান। ভুয়া পরিচয় দিয়ে নানাভাবে প্রতারণা করেছেন মানুষের সঙ্গে। তিনি একটা এমএলএম কম্পানি খুলে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন, যার জন্য জেলও খেটেছেন। আমরা জানতে পেরেছি তাঁর নামে-বেনামে আরো অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক লাইসেন্সও নেওয়া হয়নি। উল্লেখ করতে চাই, প্রতিদিন নানা জায়গা থেকে অসংখ্য ফোন রিসিভ করছি, তারা সাহেদের অপকর্ম-অরাজকতার বিষয়ে জানাচ্ছে।’’

এর আগে সোমবার (৬ জুলাই) রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় ভ্রাম্যমাণ আদলত পরিচালনা করেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। অভিযানে ভুয়া করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট, করোনা চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম উঠে আসে। পরে সেখান থেকে আটজনকে আটক করে র‌্যাব হেফাজতে নেয়া হয়।

এ ঘটনায় রিজেন্ট গ্রুপের দুটি হাসপাতাল ইতোমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছে র‌্যাব। এছাড়া মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে উত্তরা পশ্চিম থানায় দণ্ডবিধি ৪০৬/৪১৭/৪৬৫/৪৬৮/৪৭১/২৬৯ ধারায় ১৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়।

এতে সোমবার রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা শাখা থেকে আটক আটজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদসহ ৯ জনকে পলাতক আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।