🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ সোমবার, ৭ আষাঢ়, ১৪২৮ ৷ ২১ জুন, ২০২১ ৷

নোবিপ্রবির দুই শিক্ষার্থীর স্বপ্নজয়: ৩৮ তম বিসিএসে পেলেন প্রশাসন ক্যাডার


❏ বৃহস্পতিবার, জুলাই ৯, ২০২০ শিক্ষাঙ্গন

এস আহমেদ ফাহিম, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি- বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষে লক্ষ্য পূরণে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সাফল্য পাওয়া যেন আলাদা এক অনুভূতি। আর সেই সাফল্য যদি আসে বিসিএস পরীক্ষায়, তা যেন এক বিরাট স্বপ্নজয়।

৩৮ তম বিসিএস এ চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়ে সেই স্বপ্নজয় করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) এর সাবেক ২ শিক্ষার্থী। এরা হলেন- ফিশারিজ এন্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের নিগার সুলতানা জিনিয়া ও এপ্লাইড কেমিস্ট্রি এন্ড কেমিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ফয়সাল মাহমুদ। ৩৮তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে প্রশাসন ক্যাডারে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন এই ২ শিক্ষার্থী।

স্বপ্নজয়ের মাধ্যমে হাসি ফুটিয়েছেন নিজেদের পরিবারের মুখে, সুনাম বৃদ্ধি করেছেন নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের। তাদের এই স্বপ্নজয়ের গল্প নিয়েই এই প্রতিবেদন।

♦নিগার সুলতানা জিনিয়ার স্বপ্নজয়ের গল্প♦

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের ৫ম ব্যাচের শিক্ষার্থী নিগার সুলতানা জিনিয়া। তিনি ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে ৩য় হয়ে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে ৩য় হয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। পড়াশোনা সম্পন্ন করে নোবিপ্রবিতে শিক্ষক হওয়ার জন্য আবেদন করেন, কিন্তু শিক্ষক হতে পারেননি। শিক্ষক হতে না পারার আক্ষেপ নিয়ে আরও বড় পরিসরে নিজের মেধা যাচাই করতে ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেন এবং প্রথমবারেই প্রশাসন ক্যাডারে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জনের পর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায় চলে যান জিনিয়া এবং বিসিএসের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। জিনিয়া বলেন, ২০১৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর বিসিএস এর প্রিলি পরীক্ষায় অংশ নেই। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করি, কারণ পরীক্ষা দিয়েই বুঝতে পারলাম আমি পাস করব। এরই মধ্যে ফলাফলে প্রিলিতে উত্তীর্ণ হওয়ার কথা জানতে পারি। প্রিলির প্রায় ৮ মাস পর ২০১৮ সালের আগস্ট মাসের ৮ তারিখ বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি।

পরবর্তীতে ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসের ১৭ তারিখ মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি। মৌখিক পরীক্ষা দেয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করতে হয়েছে। বিশেষ করে সমসাময়িক সব বিষয় পড়তে হয়েছে। দেশ, আন্তর্জাতিক, অর্থনীতি, সরকার, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সব বিষয় আয়ত্ত করতে হয়েছে। দিনরাত ১২-১৩ ঘণ্টা লেখাপাড়া করতে হয়েছে আমাকে। এভাবেই তৈরি হয় বিসিএস জয়ের পথ।”

সাফল্যের অনুভূতি জানিয়ে জিনিয়া বলেন, আমার মনেপ্রাণে, ধ্যানে একটাই প্রার্থনা ছিল; আল্লাহ যেন আমার মেধার মূল্যায়ন করেন। অবশেষে মহান আল্লাহ আমার মনের ইচ্ছা পূরণ করলেন। বড় পরিসরে স্বপ্নপূরণ করে দিলেন আল্লাহ। কারণ আমি চেয়েছি শিক্ষক হতে; আর আল্লাহ আমাকে পরিসর বাড়িয়ে ম্যাজিস্ট্রেট বানিয়ে দিলেন। আল্লাহর কাছে অনেক অনেক শুকরিয়া। পাশাপাশি মা-বাবাসহ পরিবারের সব সদস্য, আত্মীয় -স্বজন সবার কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমার পড়ালেখা ও এতদূর আসার পেছনে সবচেয়ে বেশি কষ্ট করেছেন আমার মা। আমার মায়ের কষ্ট সার্থক হয়েছে আজ। আমার মাকে হাজারো সালাম।”

নিগার সুলতানা জিনিয়া বলেন, যেকোনো সাফল্য অর্জন করতে হলে প্রয়োজন লক্ষ্য ঠিক করে ধৈর্যের সঙ্গে পরিশ্রম করে যাওয়া এবং নিয়মিত প্রার্থনা করা। তবেই সফলতা আসবে। ধৈর্য, শ্রম এবং ভাগ্য- এই তিনের সংমিশ্রণেই আসে সফলতা।

ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা নিয়ে তিনি বলেন, আমি ন্যায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে সরকার কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব পালন করব। সবসময় জনগণের কল্যাণে কাজ করব। যেহেতু আমি নারী তাই নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করব।”

♦ফয়সাল মাহমুদের স্বপ্নজয়ের গল্প♦

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) অ্যাপ্লায়েড কেমেস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫ম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফয়সাল মাহমুদ। তিনি নোবিপ্রবির অ্যাপ্লায়েড কেমেস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন।

বাবার স্বপ্ন পূরণের (বিসিএস ক্যাডার) লক্ষ্যে অনার্স চতুর্থ বর্ষ থেকে বিসিএসের জন্য মোটামুটি প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন ফয়সাল। অনার্স সম্পন্ন করে নোবিপ্রবিতে মাস্টার্সে ভর্তি হয়ে চলে যান ঢাকায়। ঢাকায় গিয়ে কোচিংয়ে ভর্তি না হয়ে বাসায় বসেই বিসিএসের জন্য নতুন করে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন। ঢাকা থেকে নোয়াখালী এসেই মাস্টার্সের ক্লাস-পরীক্ষা দিতেন।

বাবার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে ৩৬তম বিসিএস এবং ৩৭ তম বিসিএসে আবেদন করে প্রিলিতে অংশগ্রহণ করেন ফয়সাল। কিন্তু উভয়ক্ষেত্রে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ব্যর্থ হন।  তবুও থেমে থাকেন নি। পরবর্তীতে ৩৮তম বিসিএসে আবার আবেদন করে প্রিলিতে অংশগ্রহণ করেন এবং পাশাপাশি অন্য চাকুরীর জন্য চেষ্টা শুরু করেন। এরইমধ্যে তিনি পুলিশের এসআই পদে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর রাজশাহীর সারদায় পুলিশ ট্রেনিং অ্যাকাডেমিতে ট্রেনিং শুরুর দু’মাসের মধ্যেই বিসিএস প্রিলিমিনারি রেজাল্ট প্রকাশিত হয় এবং প্রিলিতে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে লিখিত এবং ভাইবায় অংশগ্রহণ করেন এবং সবগুলো ধাপ পেরিয়ে ৩৮ তম বিসিএসের চুড়ান্ত ফলাফলে প্রশাসন ক্যাডারে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।

স্বপ্নজয়ের অনুভূতি প্রকাশ করে ফয়সাল মাহমুদ বলেন, “আমি ভাবিনি আমি প্রশাসন ক্যাডারে নির্বাচিত হবো। এজন্য আমার আবেগ অনুভূতি একটু বেশিই। আমার বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি বিধায় আমি অনেক খুশি। অনেক বাধা পোহাতে হয়েছে আমাকে। অনার্স-মাস্টার্সে রেজাল্ট তেমন ভালো ছিল না আমার। পুলিশ ট্রেনিংয়ে আমি ১ বছরসহ বাংলাদেশ পুলিশে প্রায় আড়াই বছর এসআই হিসাবে সততা, নিষ্ঠা, ও মানবিকতার সাথে কাজ করার চেষ্টা করেছি। সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যেখানে পোস্টিং হয় সেখানে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করব, দেশের জন্য কাজ করব।”

বিসিএস যাদের স্বপ্ন তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমি তৃতীয়বারের মাথায় সফল হয়েছি। তাই হতাশ হওয়া যাবে না। লেগে থাকলে সফলতা আসবেই।