• আজ মঙ্গলবার, ৮ আষাঢ়, ১৪২৮ ৷ ২২ জুন, ২০২১ ৷

সোলাইমানিকে হত্যার কোনো কারণ দেখাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র

qassem-soleimani-final-1
❏ শুক্রবার, জুলাই ১০, ২০২০ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানির হত্যাকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ ঘোষণার লঙ্ঘন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক অ্যাগনেস ক্যালামার্ড। কাশেম সোলাইমানিকে হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছেন তিনি।

বিচারবহির্ভূত এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবেদনের সারাংশে তিনি উল্লেখ করেছেন, কাশেম সোলাইমানিকে হত্যার, অর্থাৎ তিনি ইরাকের রাজধানী বাগদাদের বিমানবন্দর থেকে যখন বের হচ্ছিলেন, তার সেই গাড়িবহরে হামলার কোনো কারণ দেখাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলার পক্ষে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণও হাজির করতে পারেনি দেশটি।

ক্যালামার্ডের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি প্রকাশ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেজর জেনারেল সোলায়মানি ইরাক ও সিরিয়ায় ইরানের সামরিক কৌশল ও পদক্ষেপের নীতি-নির্ধারণী ভূমিকা পালন করতেন। কিন্তু মার্কিন দাবির বিপরীতে তিনি (মানুষের) জীবনের জন্য অত্যাসন্ন কোনো হুমকি ছিলেন না। কাজেই যুক্তরাষ্ট্র তাকে হত্যা করে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক অ্যাগনেস ক্যালামার্ডের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, আত্মরক্ষার অজুহাতে তৃতীয় কোনো দেশে আরেকটি দেশের সেনা কমান্ডারের ওপর এই প্রথম এ ধরনের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে।

তিনি বলেন, অথচ জাতিসংঘ ঘোষণার ঘোরতর লঙ্ঘন সত্ত্বেও জেনারেল সোলাইমানি এবং তার সঙ্গে থাকা একজন পদস্থ ইরাকি সেনা কমান্ডারকে হত্যার দায়ে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রকে শাস্তি দেয়ার পদক্ষেপ নেয়নি।

প্রতিবেদনে বিশ্বের সরকারগুলোর পক্ষ থেকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড চালানোর জন্য সামরিক ড্রোন ব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ড্রোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন তৈরি ও তা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।

উল্লেখ্য গত ৩ জানুয়ারি ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করার সময় কাসেম সোলাইমানিকে বহনকারী গাড়ির বহরে ড্রোন হামলা চালায় ইরাকে মোতায়েন মার্কিন সেনাবাহিনী। হামলায় জেনারেল সোলাইমানি ও ইরাকের জনপ্রিয় গণবাহিনী ‘হাশদ আশ-শাবি’র উপপ্রধান মাহদি আল মুহান্দিসসহ নয়জনের মৃত্যু হয়।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পরই সবচেয়ে ক্ষমতাধর ছিলেন সোলাইমানি। বিপ্লবী গার্ডের বিদেশ শাখা কুদসের প্রধান ছিলেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের নীতি বাস্তবায়নে বন্ধুরাষ্ট্র ছাড়াও সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ, হামাস, ইসলামি জিহাদকে অর্থ, অস্ত্র, দিকনির্দেশনাসহ সবধরনের সহযোগিতা দেয়া ছিল সোলাইমানির কাজ।