• আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

অবশেষে জনসম্মুখে মাস্ক পরলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

১০:১৫ পূর্বাহ্ন | রবিবার, জুলাই ১২, ২০২০ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- করোনাভাইরাস মহামারী শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবারের মতো জনসম্মুখে মুখে মাস্ক পরলেন।

এ সময় ওয়াশিংটনের বাইরে ওয়াল্টার রিড সামরিক হাসপাতাল পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, যেখানে তিনি আহত সৈনিক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

হোয়াইট হাউজ থেকে বের হওয়ার সময় তিনি বলেন, ”আমি বরাবরই মাস্কের বিরুদ্ধে, কিন্তু আমার মতে, সেটার জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় এবং জায়গা রয়েছে।”

এর আগে তিনি বলেছিলেন, তিনি মাস্ক পরবেন না। মাস্ক পরার জন্য ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনকে নিয়ে তিনি ব্যাঙ্গও করেছেন।

তবে শনিবার (১১ জুলাই) তিনি বলেছেন, ”আমি মনে করি, যখন আপনি হাসপাতালে থাকবেন, বিশেষ করে এরকম নির্দিষ্ট অংশে, যখন আপনার অনেক সৈনিক এবং মানুষজনের সঙ্গে কথা বলতে হবে, যাদের কেউ কেউ মাত্রই অপারেশন টেবিল থেকে ফিরেছেন, তখন মাস্ক পরা খুব ভালো একটা ব্যাপার।”

গত সপ্তাহে ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্কের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, ”আমি পুরোপুরি মাস্কের পক্ষে।”

তিনি আরও যোগ করেন যে, মাস্ক পরলেও তাকে দেখতে অনেকটা ‘লোন রেঞ্জারের’ মতো লাগে। লোন রেঞ্জার হচ্ছেন আমেরিকান কল্পকাহিনীর একজন নায়ক, যিনি তার আদিবাসী আমেরিকান বন্ধু টোনটোর সঙ্গে মিলে পশ্চিমা আমেরিকায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতেন।

তবে গত এপ্রিল মাসে যখন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করার জন্য সবার জন্য জনসম্মুখে মাস্ক পরার সুপারিশ করে, ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তিনি সেটা করবেন না।

”আমি এটা করবো বলে মনে হয় না,” তিনি তখন বলেছিলেন। ”মুখে মাস্ক পরে আমি প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, স্বৈরশাসক, রাজা, রানীদের স্বাগত জানাচ্ছি- এমনটা দেখা যাবে বলে আমি মনে করি না।”

গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু খবরে বলা হয়েছে, জনসম্মুখে মাস্ক পরার জন্য বারবার তাকে অনুরোধ করেছেন তাঁর সহকারীরা। এদিকে সর্বশেষ লুইজিয়ানা রাজ্যে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, একদিন আগে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়ানো যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে ষাট হাজারের বেশি মানুষ করোনার শিকার হয়েছেন। এতে করে সংক্রমিতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩ লাখ ৫৫ হাজার ছাড়িয়েছে।

মৃত্যুর মিছিলে যোগ হয়েছে আরও ৭শ মার্কিনি। ফলে প্রাণহানি বেড়ে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪০৩ জনে ঠেকেছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন প্রায় ১৫ লাখ ভুক্তভোগী।