• আজ ১লা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

রংপুরে জমে উঠেনি কোরবানির পশুর হাট, সাড়া নেই অনলাইনেও

৩:৫৭ অপরাহ্ন | রবিবার, জুলাই ১২, ২০২০ দেশের খবর, রংপুর

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর- করোনা দুর্যোগে অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব পড়েছে হাটগুলো। করোনার সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে রংপুরে নয়টি অনলাইন পশুরহাট চালু করেছে প্রাণি সম্পদ দপ্তর।

এতে তেমন সাড়া মিলছে না বলে দাবি অনলাইন নির্ভর খামারিদের। এমন পরিস্থিতিতে বড় ধরণের লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা। যদিও হাট ইজারাদার বলছেন, ঈদ যতই ঘনিয়ে আসবে ততোই গরু কেনাবেচা জমে উঠবে।

এদিকে রংপুর মহানগরসহ জেলার বিভিন্ন পশুরহাটে নানামুখী তৎপরতাও শুরু হয়েছে।

ঈদুল আযহার বাকি আর ২০ দিন। ঈদকে সামনে রেখে রংপুরে হাটে হাটে তোলা হচ্ছে কোরবানির পশু। কিন্তু এখনো সেভাবে শুরু হয়নি গরু ছাগলের বেচাকেনা। গরু কেনায় তেমন আগ্রহ নেই ব্যবসায়ীদের। হাটে সাধারণ ক্রেতাদেরও নেই ভিড়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী, ব্যাপারি ও দালালরা হাটে হাটে আর বাড়ি বাড়ি গিয়ে পশুর খোঁজখবর নিচ্ছেন। কেউ কেউ কম দামে কিনে বেশি লাভের আশায় ছুটে বেড়াচ্ছেন। আবার অনেকেই হাটে গরু না নিয়ে বাড়ি থেকে বিক্রির পরামর্শ দিচ্ছেন। যদিও খামারিরা ঈদকে ঘিরে গরু মোটা তাজাকরণ শেষে এখন বিক্রির অপেক্ষা করছেন।

রংপুরে গঙ্গাচড়ার বেতগাড়ি হাটে কথা হয় কয়েকজন খামারির সাথে। তারা জানান, এখন পর্যন্ত হাটে ক্রেতা ও ব্যাপারিদের তেমন আনাগোনা বাড়েনি। অনেকে হাটে এসে বাজার যাচাই করে দেখছেন। দেশী গরুর চাহিদা আছে, তবে মিয়ানমার ও ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধের দাবি তাদের।

জানা গেছে, রংপুর বিভাগের সব থেকে বড় গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ২৫ লাখ টাকা। তিন বছর ধরে ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুটি লালন পালন করছেন রংপুর সদরের পাগলাপীর এলাকার খামারি শহিদুল। তিনি পরম আদরের গরুটির নাম রেখেছেন ‘সুলতান’। ঈদকে ঘিরে সুলতান ছাড়াও বেশ কয়েকটি গরু লালন পালন করেছেন এই খামারি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোন গরুই বিক্রি করতে না পারায় পড়েছেন দুঃশ্চিন্তায়।

রংপুর ডেইরি ফার্মাস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক আসিফুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন একেকটা গরুর পিছনে খাবারসহ অন্যান্য খরচ হয় চারশ থেকে এক হাজার টাকা। এই অবস্থায় যদি কোরবানিতে গরু বিক্রি করতে না পারি বা লোকসানে বিক্রি করতে হয়, তাহলে খামার টিকে রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

এদিকে পশুরহাট জমে না উঠার জন্য আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি আর বৈরি আবহাওয়ার পাশাপাশি করোনা ভীতিতে দুষছেন হাট ইজারাদার ও বিক্রেতারা। তারা বলছেন, ঈদের এক সপ্তাহ থেকে বিকিকিনি বাড়বে। তখন হাটে হাটে মানুষের উপচে পড়া ভিড়ও থাকবে।

যদিও রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপ-পরিচালক ডা: মোহাম্মদ হাবিবুল হক জানালেন, করোনা সংকটে অনেক সচেতন মানুষ ঝুঁকি এড়াতে অনলাইনের মাধ্যমে পশু কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। আমরা সংকটময় পরিস্থিতিতে ফেসবুকে ই- মার্কেটিং পেজ খুলেছি। পশুরহাট নামে খোলা ওই পেজটি অনুসরন করতে পারেন খামারিরা।