সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

জবিতে মেস ভাড়া সংকট, প্রশাসনের সময়ক্ষেপণে মিলছে না সমাধান

৫:৪৫ অপরাহ্ণ | রবিবার, জুলাই ১২, ২০২০ শিক্ষাঙ্গন

জবি প্রতিনিধি- দেশের একমাত্র অনাবাসিক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) এর শিক্ষার্থীরা করোনায় বাসা ভাড়া নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে। শতভাগ অনাবাসিক এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০ ভাগ শিক্ষার্থী মেস ভাড়া করে ঢাকায় থাকেন।

করোনা মহামারীতে বিগত মে মাস থেকে শিক্ষার্থীদের সবধরনের টিউশন ও পার্ট-টাইম ইনকামে পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মেস ভাড়া নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। এমন পরিস্থিতিতে জবি প্রশাসন নীরব ও দায়সারা ভূমিকা পালন করছে। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে সংকট নিরসনে প্রশাসন একটি কমিটি গঠন করলেও এক মাস পার হয়ে গেলেও মেলেনি সমাধান।

এরপর ১০ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ছাত্রসংগঠনের ১৯ নেতৃবৃন্দ শিক্ষার্থীদের করোনায় সংকটকালীন শিক্ষাবৃত্তির দাবি জানায়। পরদিন ১১জুন শাখা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দও মৌখিকভাবে শিক্ষাবৃত্তির দাবি জানায়। দাবির প্রেক্ষিতে ১৩ জুন সংকট নিরসনে মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদকে নিয়ে এক সদস্যের কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটি গঠনের ২৩ দিন পর গত ৭ জুলাই শিক্ষাবৃত্তির প্রস্তাব দিয়ে প্রস্তাবনা দেয় তদন্ত কমিটি। যার এখনো কোনো অগ্রগতি নেই।

এদিকে ৬ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল বাকি একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেন। যেখানে মেস ভাড়া সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উপস্থিত থেকে একটি ফরম সংগ্রহ করতে বলা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সমালোচনার মুখে তাৎক্ষণিক বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

গত ২৫ জুন শিক্ষার্থীদের সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে লিখিত ৫ দফা দাবি জানান শাখা ছাত্রলীগ। সাথে সাথে তাদের দাবি অনুযায়ী সমস্যায় পড়া শিক্ষার্থীদের মালপত্র সরাতে মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়সারা ভূমিকায় মেস ভাড়া সংকটে চরম সংকটের মুখোমুখি শিক্ষার্থীরা। বাড়ি মালিকদের হুয়রানি ও হুমকির মুখে বাসা ছাড়ছেন তারা। বাসার মালপত্র রাখা ও বহন করতে বাড়তি ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে তাদের। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অফিস থেকে পাশ্ববর্তী থানায় সহযোগিতার কথা বললেও পুলিশ প্রশাসনের সাড়া মিলছে না।

এ ব্যাপারে সংকট নিরসন কমিটির একমাত্র সদস্য মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. নুর মোহাম্মদ জানান, আমাকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে, আমি শিক্ষাবৃত্তির প্রস্তাবনা দিয়ে রিপোর্ট সাবমিট করেছি। এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে। শিক্ষার্থীদের সংকট নিরসনের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে এই প্রস্তাবনা তৈরি করেছি। যার কারণে সময়ক্ষেপণ হয়েছে বেশি। আমি বলেছি আগের চেয়ে দশগুণ শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেয়ার জন্য, যার সময়কাল হবে এক বছর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, কমিটি একটা রিপোর্ট সাবমিট করেছে সেটা আমি উপাচার্যের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি, তিনি দেখে ব্যবস্থা নিবেন। পরবর্তী কোনো একাডেমিক মিটিং হলে সেখানে এটি উপস্থাপন করা হবে তারপর সবাই মতামত দিবেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মীজানুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Skip to toolbar