বগুড়ায় যমুনার পানি আবার বিপদসীমার উপরে

৭:৫৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, জুলাই ১২, ২০২০ দেশের খবর, রাজশাহী

সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, বগুড়া প্রতিনিধি: উজান থেকে নেমে আসা পানি এবং সম্প্রতি প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে বগুড়ায় আবারও বেড়েছে যমুনা নদীর পানি। যমুনার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে ১৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত এক সপ্তাহে যমুনার পানি ৬৭ সেন্টিমিটার থেকে পর্যায়ক্রমে মোট ৮৭ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর আবারও পানি বাড়তে শুরু করেছে।

১২ জুলাই রোববার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে বিষয়টি সময়ের কন্ঠস্বরকে নিশ্চিত করেন বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান। তিনি জানান, সারিয়াকান্দির কালিতলা ও দেবডাঙ্গা পয়েন্টে যমুনার পানি ১৬.৮৯ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হচ্ছে।

জানা গেছে, যমুনা নদীর পানি বাড়ার ফলে সারিয়াকান্দি উপজেলার হাট শেরপুর, কাজলা, চালুয়াবাড়ী, কর্নিবাড়ী, কুতুবপুর, চন্দনবাইশা, কামালপুর, রৌহাদহ ও সারিয়াকান্দি সদর ইউনিয়ন এবং চরাঞ্চলের বোহাইল, কেইষ্টা, ছোনপচাঁ, ডাকাতমারা এবং ধুনট উপজেলার গোসাঁইবাড়ী, ভান্ডারবাড়ীর নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে।

এর আগে জুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে যমুনা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জুনের শেষে এই পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ১ জুলাই স্থিতিশীল থাকার পর ২ জুলাই থেকে কমতে থাকে পানি। টানা নয়দিন পানি কমার পর ১০জুলাই থেকে ফের বাড়তে শুরু করেছে। ফলে এ’দুই উপজেলায় যমুনা নদীর অববাহিকার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। প্রথম দফার পানি নেমে যেতে না যেতেই আবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে পানিবন্দি মানুষের।

সরেজমিনে দেখা যায়, ধুনট উপজেলার রাধানগর ও বৈশাখীচরসহ অনান্য চরের অধিকাংশ স্থানেই পানি উঠেছে। বন্যা দূর্গত এলাকার মানুষ গবাদি পশু নিয়ে বাঁধে কিংবা উচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। খুব কষ্টে পড়েছেন বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও শিশুরা। একদিকে করোনা দূর্যোগের মাঝে বন্যা অন্যদিকে বৃষ্টিতে এসব মানুষদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান সময়ের কন্ঠস্বরকে জানান, যমুনা নদীতে বিপদসীমা নির্ধারণ করা হয় ১৬ দশমিক ৭০ মিটারে। রোববার সন্ধ্যা ৬ টার হিসেব অনুযায়ী নদীর পানি ১৬ দশমিক ৮৯ মিটার উচ্চতায় দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অর্থাৎ বিপদসীমার ১৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে এবং পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

Skip to toolbar