নোবিপ্রবি উপাচার্য সম্পর্কে মিথ্যা বক্তব্য, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের প্রতিবাদ

১১:৫৬ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২০ শিক্ষাঙ্গন
nstu

এস আহমেদ ফাহিম, নোবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বর্তমান উপাচার্য ড. মো দিদার-উল- আলম সম্পর্কে বেসরকারি টিভি চ্যানেল এসএ টেলিভিশনে সাবেক উপাচার্য ড. এম ওয়াহিদুজ্জামানের করা মন্তব্যকে মিথ্যা- বানোয়াট আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সংগঠনসমূহ।

আজ ১৪ জুলাই,নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি, আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল এবং নোবিপ্রবি অফিসার্স এসোসিয়েশন তিন সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিন্দা জানানো হয়। এছাড়াও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ কর্মকর্তা ইফতেখার হোসাইন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন উপাচার্য ড. মো. দিদার-উল-আলম।

বেসরকারি ওই টেলিভিশনে টকশোর একাংশে দেয়া ওই বক্তব্যে ড. এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, আমি মনে করেন একটা উপাচার্য ছিলাম। এদেশে বলা যায় যে চল্লিশ বছর যাবত আমাকে চিনে সবাই। আমারটা কিন্তু এজেন্সিতে যাচাই হয়েছে। আর যারটা দেখা যায় যে একেবারে বাংলাদেশই মানে না, আওয়ামীলীগের লোকতো না-ই। তাকে ওখানে যে উপাচার্য করা হলো, এই ফাইলটা কিন্তু সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হাতে গিয়ে সাইন হয়েছে। এটা কিন্তু আর এজেন্সিতে গেলো না।”

এ ব্যাপারে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের দেয়া বিজ্ঞপ্তি সমূহে নিন্দা প্রকাশ করে জানানো হয়, ড. এম ওয়াহিদুজ্জামান তার এই বক্তব্যে মিথ্যা, বানোয়াট এবং সম্পূর্ণ মনগড়া তথ্য উপস্থাপন করে জাতিকে বিভ্রান্ত করার হীন চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন। এতে আরে বলা হয়েছে, উপাচার্যকে অপমান করার অর্থ প্রতিষ্ঠানকে অপমান করা এবং একই সঙ্গে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক ক্ষমতাবলের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তাঁদের দূরদর্শিতাকে জাতির সামনে খাটো করা হয়েছে।

এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বর্তমান উপাচার্যের ছবি ব্যবহার করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন ড. এম ওয়াহিদুজ্জামান। সম্প্রতি দুর্নীতির দায়ে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিবর্গের সাথে সেখানে বর্তমান উপাচার্য মহোদয়কে যুক্ত করে তাঁদেরকে ক্ষমতার লোভে দলে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে উল্লেখ করেন। এহেন নোংরা কর্মকান্ডের মাধ্যমে নোবিপ্রবির সম্মানহানি করায় শিক্ষক- কর্মকর্তারা তীব্র প্রতিবাদ, ঘৃণা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এবং বিজ্ঞপ্তিতে এরূপ আপত্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য প্রত্যাহার করে অবিলম্বে জাতির সামনে ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানান তারা।

প্রসঙ্গত, গত ১২ জুন ২০১৯ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক ড. মো: দিদার-উল আলম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সয়েল, ওয়াটার ও এনভায়রনমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর জনাব মো. আবদুল হামিদ নোবিপ্রবি আইন ২০০১ এর ধারা ১০ এর (১) অনুযায়ী আগামী চার বছরের জন্য তাঁকে নিয়োগ দেন।

উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর থেকে প্রফেসর ড. মো: দিদার-উল আলম নোবিপ্রবি আইন ২০০১, আইন ও তফসিল (বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সংবিধি) ও নিয়ম-কানুন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির নির্দেশনা, পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ যথা: রিজেন্টবোর্ড, একাডেমিক কাউন্সিল, অর্থ কমিটি ইত্যাদির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছেন। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও ভৌত অবকাঠাগোত উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। এতে বিদ্বেষ প্রসূত হয়ে সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মো অহিদুজ্জামান প্রতিহিংসামূলক বিভিন্ন বক্তব্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়ে আসছেন।

Skip to toolbar