সংবাদ শিরোনাম

কোটালীপাড়ায় ট্রাক-অ্যাম্বু‌লে‌ন্সের সংঘর্ষে ভ্যানচালক নিহতকরোনায় মারা গেলেন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন মাসুক হাসানলকডাউনের দ্বিতীয় দিনে সড়কে দীর্ঘ যানজট!৬ বছরের ছেলে সাহেলের প্রথম রোজা, আপ্লুত মাশরাফিকোরআন তেলাওয়াত, ইবাদতে প্রথম রোজা কেটেছে খালেদারভাঙ্গায় রাতের আঁধারে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর-লুটপাট : আহত-১৫বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তরুণীর সর্বস্ব কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধেমহাসড়ক যানশূন্য, শিমুলিয়ায় ফেরি পারাপার বন্ধ‘তালা ভেঙ্গে মসজিদে তারাবি পড়ার চেষ্টা্’‌, পুলিশের বাধায় সংঘর্ষে মুসল্লিরা‘লঘু পাপে গুরু দণ্ড’; তিনটি মুরগি চুরির দায়ে দেড়লাখ টাকার জরিমানা চার তরুণের!

  • আজ ২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

রাজবাড়ীতে কমছে পাটের আবাদ

১২:৩৪ পূর্বাহ্ন | শুক্রবার, জুলাই ১৭, ২০২০ ঢাকা
pat

রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ উৎপাদন খরচের তুলনায় দাম না পাওয়া, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং কৃষি বিভাগের অসহযোগিতার কারণে রাজবাড়ীতে অব্যাহতভাবে কমেছে সোনালী আশ হিসাবে খ্যাত পাটের আবাদ।

রাজবাড়ী কৃষি অফিসের তথ্যমতে, ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে রাজবাড়ীতে ৪৯ হাজার ৬০০হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হলেও ১৮-১৯ অর্থবছরে পাটের দাঁড়ায় ৪৭হাজার ৮৮০ হেক্টর, ১৯-২০ অর্থবছরে ৪৭হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে রাজবাড়ীতে সেই আবাদ এসে দাঁড়ায় ৪৬হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে। গত তিন বছরে রাজবাড়ীতে পাটের আবাদ কমেছে ৩হাজার ১১৫হেক্টর জমিতে।

রাজবাড়ীর বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা যায়, এ বছর অনেক আশা নিয়ে কৃষকেরা পাটের আবাদ শুরু করলেও ঘুর্ণিঝড় আম্ফানের কারণে অনেক পাটক্ষেত নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সেগুলোর ছেড়ে দিয়েছে কৃষকেরা। এছাড়া অতিবৃষ্টির কারণে নিচু অঞ্চলের জমিতে পানি জমে থাকার কারণে অধিকাংশ জমির পাটের ফলন সেভাবে হয়নি। বর্তমানে রাজবাড়ীর মাঠে পাট কাটা থেকে শুরু করে ঘরে তোলার ব্যস্ত সময় পাড় করছে জেলার কৃষকেরা।

অব্যাহতভাবে পাটের আবাদ কমে যাওয়া প্রসঙ্গে রাজবাড়ীর কৃষকেরা জানান, দিন দিন উৎপাদন খরব বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু সেই তুলনায় পাটের দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এবছর এক একর জমিতে পাটের বীজ, সেচ, পরিচর্যা, পাটকাটা এবং ধোয়া বাবদ খরচ হয়েছে প্রায় ৪০হাজার টাকা। আম্ফানের কারণে একর প্রতি গড়ে ১২মণ করে উৎপাদন কমে এ বছর উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১৫ মণ করে। বর্তমানে পাটের বাজার মূল্য ১৯০০টাকা। সেক্ষেত্রে প্রতি একরে কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে ১১হাজার টাকার বেশি।

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি অঞ্চলের কৃষক প্রাণেশ বিশ্বাস বলেন, কৃষি বিভাগের লোকজন মাঠ পর্যায়ে না এসে সরকারের কাছে পাটের উৎপাদন, উৎপাদন খরচ এবং বাজার মূল্য দেখায়। এবছর মাঠের অর্ধেকের বেশি পাট নষ্ট হলেও দাম কিন্তু বৃদ্ধি পায়নি। তিনি আরো বলেন রাজবাড়ীতে বেসরকারী ভাবে পরিচালিত বড় ধরনের চারটি পাটকল থাকলেও কৃষকেরা পাটের দাম কম পাচ্ছে। বাজারে বাজারে সিন্ডিকেট রয়েছে বলে দাবী করেন এ কৃষক।

বৃহস্পতিবার রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক গোপাল কৃষ্ণ দাস বলেন, আউশের আবাদ বৃদ্ধি এবং ন্যায্য দাম না পাওয়ার কারণে পাটের আবাদ দিন দিন কমে যাচ্ছে বলে দাবী করেন রাজবাড়ী কৃষি বিভাগের উপ পরিচালক। এ বছর ঘুর্ণিঝড় আম্ফানের কারণে পাটের আবাদ এবং ফলন কম হয়েছে। পাটের আবাদ বৃদ্ধির জন্য কৃষি বিভাগ কাজ করবে বলে জানান কৃষি বিভাগের এই কর্মকর্তা।