নদীর বাঁধে শিশুদের নিয়ে আনন্দ-উল্লাস, বাড়ছে ঝুঁকি!

১২:৩৮ পূর্বাহ্ন | শুক্রবার, জুলাই ১৭, ২০২০ সিলেট
syy

মঈনুল হাসান রতন, হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের মধ্যে ‘মরার উপর খারার ঘা’ হয়ে দাড়িয়েছে বন্যা। সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যার কারণে দূর্ভোগে পড়েছেন লাখো মানুষ। হবিগঞ্জে তেমন বন্যা না হলেও আজমিরীগঞ্জে প্লাবিত হয়েছে বেশ কয়েকটি গ্রামের নিচু এলাকা।

উপজেলায় প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এখনও কালনী ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর বাঁধ উপছে পানি প্রবেশ করছে বিভিন্ন হাওর ও গ্রামে। এতে তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চল। পানিবন্ধি হয়ে সীমাহিন দূর্ভোগে পড়েছেন অনেক পরিবার।

পানি আরও বাড়ার শঙ্কায় রয়েছেন নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা। আতঙ্কে তাদের নির্ঘুম রাত কাটলেও বন্যার পানিকে কেন্দ্র করে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছেন এক শ্রেণির মানুষ। যুবক-যুবতীর পাশাপাশি শিশু বাচ্চাদের নিয়ে ডুবে যাওয়া রাস্তায় নিচ্ছেন সমুদ্র সৌকতের বিলাশ। তবে পানির প্রবল স্রোতে শিশু বাচ্চাদের নিয়ে আনন্দে মাতার বিরুদ্ধে সচেতন মহল। তাদের দাবি, একটু অসচেতনতার কারণে ঘটতে পারে প্রাণহানি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিনের ভারি বর্ষণে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে কুশিয়ারা ও কালনি নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ ডুকে হাওরে পানি প্রবেশ করছে বিভিন্ন গ্রামে। আজমিরীগঞ্জ থেকে কাকাইলছেও ইউনিয়ন এবং আজমিরীগঞ্জ থেকে বদলপুর ইউনিয়নে যাওয়ার সড়কটি ইতোমধ্যে ডুবে গেছে। পাকা সড়ক ডুবে পানির স্রোত তৈরী হওয়ায় সেটিকে অনেকে আনন্দ উপভোগের নিদর্শন হিসেবে চিহ্নিত করে নিয়েছে। সেই দৃশ্য উপভোগ করেতে প্রতিদিন নানা শ্রেণি-প্রেশার মানুষ ছুটছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে নামছে মানুষের ঢল।

সারাদিন যুবক ও শিশুরা আনন্দ উপভোগ করলেও বিকেলে অনেক নারী-পুরুষরা যাচ্ছে কোলের শিশুদের নিয়ে। এতে যে কোন সময় বড় ধরণের দূর্ঘটরার শঙ্কা প্রকাশ করছেন সচেতন মহল। এদিকে, শুধু দুর্ঘটনা নয়, পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া রাস্তা অতিরিক্ত মানুষের চাপে ভেঙে যাওয়ারও আশঙ্কা করছেন অনেকে। এতে বিন্যা পরবর্তী সময়ে ওই এলাকার বাসিন্দাদের সীমাহিন দূর্ভোগ পোহাতে হবে।

আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, ‘বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখার পর সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নজর দেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যেন সেখানে আনন্দ উপভোগ করার জন্য মানুষজন ভির করতে না পারেন। এছাড়া শিশুদের নিয়ে যেন ওই এলাকাতে কোন মানুষ না যায় সেই নির্দেশনাও দেয়া আছে।’