পাটগ্রামে সমবায় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

৮:৫১ পূর্বাহ্ন | শুক্রবার, জুলাই ১৭, ২০২০ রংপুর
Lalmonirhat

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসান রকির বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ঐ সমবায় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন নুর ইসলাম নামে এক সমবায়ী।

অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, সমবায় সমিতি নিবন্ধন, অডিট করা, বিনিয়োগ অনুমোদন, বাৎসরিক লাইসেন্স রেন্যু, সমবায় দিবস পালন, সমবায়ী প্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠন, কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণে ভোট গ্রহণ প্রভৃতি বিষয়ে সমবায় বিধি-বিধানের অপব্যাখা দিয়ে টাকা দাবি করেন মুহাম্মদ হাসান রকি। ফলে সরকারের দূর্নীতি বিরোধী কার্যক্রমকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একের পর এক দূর্নীতি করছেন এ সমবায় কর্মকর্তা।

এছাড়াও উপজেলার বুড়িমারী ও বাউরা ইউনিয়নে চলমান গাভী পালন প্রকল্প ও সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচীতে উপযুক্ত ব্যক্তিকে বাছাই না করে ঋণ দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে তার অতীত কর্মস্থলের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি কুমিল্লা জেলায় কর্মরত থাকাকালীন সময়ে অর্থ কেলেংকারি ও সমবায় সমিতির মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে তাকে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় বদলী করা হয়।

২০১৭ সালে ০২ ফেব্রুয়ারি  হাতীবান্ধায় যোগ দানের দুই দিনের মাথায় সমবায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সমবায় অধিদপ্তর তাকে সাময়িক বহিস্কার করেন। তিনি এক বছর বহিস্কার থাকার পর শাস্তি হিসেবে তার নিয়মিত চাকুরি স্কেলের এক ধাপ নিচে নামিয়ে দেওয়া হয়।

পাটগ্রাম উপজেলার রংধনু ভোগ্য পণ্য সমবায় সমিতির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য নুর ইসলাম ঐ সমবায় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সচিব, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য, দুদক চেয়ারম্যান, যুগ্ন নিবন্ধক রংপুর, জেলা প্রশাসক, জেলা সমবায় কর্মকর্তা, উপজেলা  চেয়ারম্যান, ইউএনওসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

সমবায় কর্মকর্তা মুহাম্মাদ হাসান রকির বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি বিষয়ে তদন্ত পুর্বক বিচার দাবি করে ওই সমবায়ী প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য নুর ইসলাম বলেন, তার চাহিদামতো টাকা নিয়েও তিনি আমাদেরকে বহু হয়রানি করেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়ায় তিনি আমাদের সমবায় প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ে এখন নতুন চক্রান্ত শুরু করেছেন। এ ধরণের কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকলে সরকারের প্রতি সমবায়ীদের বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে। ফলে সমবায়ীদের নিয়ে সরকারের ভালো উদ্যোগ গুলো ভেস্তে যাবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সমবায় কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসান রকি দম্ভোক্তি করে বলেন, আমি নুর ইসলামের কাছে কোন টাকা নেইনি।

টাকা না নিলে আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া হলো কেন এমন একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি দম্ভোক্তি করে বলেন, উপর মহলে আমার লোক আছে। যত পারেন লিখেন। আমার কিছুই হবেনা।

জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ ফরিদ উদ্দিন সরকার বলেন, এ রকম কাজ কর্ম করলে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।