• আজ সোমবার। গ্রীষ্মকাল, ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। সকাল ৯:১৭মিঃ

সাহেদের করোনা পরীক্ষা করা হবে

১০:১৮ পূর্বাহ্ন | শুক্রবার, জুলাই ১৭, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- করোনা টেস্টসহ নানা প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো. সাহেদকে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হলে তিনি নিজেকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে দাবি করেছেন। তিনি প্রকাশ্য আদালতে এই দাবি করলেও তার আইনজীবীকে জানিয়েছেন যে, তিনি এক মাস আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

গোয়েন্দা পুলিশ বলেছে, গ্রেপ্তারের পর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অভিযুক্ত সুস্থ ছিল এবং এখন মো. সাহেদ আদালতে বা আইনজীবীর কাছে যে বক্তব্যই দিক না কেন, তার করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হবে।

করোনাভাইরাসের ভুয়া পরীক্ষা এবং চিকিৎসায় প্রতারণার নানা অভিযোগে গত বুধবার সাতক্ষীরার সীমান্ত থেকে র‍্যাব মো: সাহেদকে গ্রেফতার করেছে। বুধবারই র‍্যাব তাকে গোয়েন্দা পুলিশ বা ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

কোমরে দড়ি বেঁধে এবং হাত কড়া পরিয়ে মো: সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে গোয়েন্দা পুলিশ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে হাজির করেছিল বৃহস্পতিবার সকালে। তার মাথায় হেলমেট এবং গায়ে বুলেট প্রুফ জ্যাকেটও ছিল।

চিকিৎসায় প্রতারণার মামলায় গোয়েন্দা পুলিশ ১০ দিনের রিমাণ্ডের আবেদন করেছিল। আদালত ১০ দিনের জন্যই রিমাণ্ড মঞ্জুর করেছে। এর শুনানির সময়ই মো: সাহেদ আদালতে নিজেকে করোনাভাইরাস আক্রান্ত বলে দাবি করেন।

সরকার পক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর বা পিপি আব্দুল্লাহ আবু এথা জানিয়েছেন।

“আদালতে সাহেদ শুধু বলেছে, সে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে চুক্তি করেছি। আর বলেছে, আমি করোনার রোগী। একথাটাই বলতে পেরেছে। আর কিছু বলতে পারেনি।”

আদালতে রিমাণ্ড মঞ্জুর করার ক্ষেত্রে মো: সাহেদের দাবি বিবেচনায় এসেছিল কিনা-এ ব্যাপারে পিপি আব্দুল্লাহ আবু বলেছেন, অভিযুক্ত এমন দাবি করলেও তার পক্ষ থেকে পরীক্ষা বা চিকিৎসা করানোর লিখিত কোন আবেদন ছিল না। সেকারণে বিষয়টি আমলে না নিয়ে আদালত রিমাণ্ড মঞ্জুর করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

“আসামী পক্ষ থেকে চিকিৎসা বা হাসপাতালে নেয়ার জন্য আবেদন করতে হয। এটা নিয়ম। কিন্তু সাহেদের পক্ষে এমন কোন আবেদন করা হয়নি। সেজন্য সাহেদের বক্তব্য আমলে আসেনি।”

মো: সাহেদের গ্রেফতার হয় গত বুধবার। আর এর আগের দিন গত মঙ্গলবার তার রিজেন্ট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ পারভেজকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। মাসুদ পারভেজকেও একইসাথে আদালতে নেয়া হয়েছিল এবং আদালত তাকেও ১০ দিনের রিমাণ্ডে দিয়েছে।

এই দু’জনের পক্ষের আইনজীবী নাজমুল হোসাইন বলেছেন, শুনানির আগে তিনি আদালতেই তার মক্কেলদের সাথে কথা বলেছেন। সে সময় মো: সাহেদ তাকে এক মাস আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

আইনজীবী নাজমুল হোসাইন আরও বলেছেন, তারা এখন চিকিৎসার আবেদন করেন নাই। কিন্তু তাদের জামিনের আবেদন আদালত নাকচ করেছে।

“সে (মো: সাহেদ) আমাকে বলেছে যে, তার করোনাভাইরাস পজেটিভ হয়েছিল। পরে সে সুস্থ হয়েছে। মাসুদ পারভেজেরও হয়েছিল। তারা দু’জনই এখন সুস্থ। কিন্তু তারা দূর্বল। এটা এক মাস আগে হয়েছে।”

মানবাধিকার কর্মী এলিনা খান বলেছেন, প্রতারণার মামলায় গ্রেফতার মো: সাহেদ নিজের অসুস্থতা সম্পর্কেও আদালত এবং আইনজীবীর কাছে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। এই বিষয়কে পুঁজি করেও সুবিধা নেয়ার চেষ্টা ছিল বলে তিনি মনে করেন।

“যে মহামারির মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে এতবড় প্রতারণা করতে পারে। সে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত-এমন অনেক কিছু বলতে পারে। আরও খারাপ কোন অসুখ থাকলে সেটার কথাও সে বলতে পারে। কারণ যাতে তাকে জেলখানায় নেয়া না হয় বা তাকে ভালভাবে রাখা হয়।”

র‍্যাব তাকে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পর গত বুধবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছিল।

ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী মো: শাহেদ পুরোপুরি সুস্থ আছে। তবে তার করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করা হয়নি।

তিনি বলেছেন, অভিযুক্তের দাবির বিষয় নয়, এখনকার পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তার করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হবে।

“স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রাথমিকভাবে ডাক্তার পরীক্ষা করেছে। তাতে সে পুরো সুস্থ আছে। কিন্তু করোনাভাইরাসের ব্যাপারে তো তার পরীক্ষা করাতে হবে। আমরা তাকে সেই পরীক্ষা করাবো।”

করোনাভাইরাস পরীক্ষা এবং চিকিৎসায় প্রতারণার নানা অভিযোগের মামলায় গোয়েন্দা পুলিশ বা ডিবি পুলিশ তাকে এখন রিমাণ্ডে নিয়েছে।

জাল টাকা এবং অবৈধ অস্ত্র রাখাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা হয়েছে। এছাড়া দুনীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।