• আজ শুক্রবার। গ্রীষ্মকাল, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। ভোর ৫:৪৪মিঃ

করোনা-বন্যায় এবার গরু খামারিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

⏱ | শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২০ 📁 ঢাকা, দেশের খবর

খাদেমুল ইসলাম মামুন, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি- করোনাভাইরাসের প্রভাব এবং আগাম বন্যার কারণে গরুর খামারি ও প্রান্তিক কৃষকরা পড়েছেন বিপাকে। চারদিকে বন্যার কারণে পশু খাদ্যের ব্যাপক সংকট ও হাট-বাজার পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণে গরুর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার শঙ্কায় চোখে মুখে অন্ধকার দেখছেন খামারিরা।

বাড়ি ঘরে পানি উঠার কারণে রাস্তার ধারে উঁচু জায়গায় গরু ছাগল নিয়ে নির্ঘুম রাত্রি পোহাতে হচ্ছে তাদের। এর উপর রয়েছে আবার ব্যাংকের ঋণের চাপ। অভাব, দুশ্চিন্তা আর ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে সময় পাড় করছেন তারা।

মনে বড় আশা নিয়ে কিছু বাড়তি ইনকামের আশায় ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশু লালন-পালনে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাধারণ কৃষক ও খামারিরা। গত বছর ঈদে পশুর ভালো দাম পেলেও এবার তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। করোনা সংক্রমণের কারণে এবারের ঈদে কোরবানির পশু বিক্রি ও সঠিক মূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে উপজেলার ছোট-বড় খামারিরা।

উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নের ফুলমালীর চালা (ইছারচালা) গ্রামের আফছার আলী প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদকে সামনে রেখে দশটি দেশীয় জাতের গরু লালন-পালন করেছেন। আশা করছেন আট থেকে নয় লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন। কিন্তু করোনা সংক্রমণের কারণে ঈদ সামনে চলে এলেও ক্রেতাদের আনাগোনা না থাকায় লোকসানের শঙ্কা ভর করেছে তার মনে। এমন শঙ্কা শুধু আফছার আলীর নয় উপজেলার ছোট-বড় সকল খামারিদের।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, ঘাটাইল উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে দুই শতাধিক গরুর খামার রয়েছে। খামারির বাইরেও সাধারণ কৃষকরা ঈদ উপলক্ষে গরু লালন-পালন করে থাকেন। সব মিলিয়ে এবার উপজেলায় ২০ হাজারেও বেশি কোরবানি উপযোগী গরু রয়েছে। যা দিয়ে উপজেলার কোরবানি গরুর চাহিদা মেটানো সম্ভব।

খামারিরা জানান, করোনার থাবার কারণে এবারের ঈদে যথাসময়ে গরু বিক্রি করতে না পারলে খামারিসহ অনেক সৌখিন কৃষককে লোকশানে পড়তে হবে। খামারের শ্রমিকরা জানান, ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজা করতে খামারে দিনরাত পরিশ্রম করছেন। খামারে পাইকারের আনাগোনা না থাকায় তারা হতাশায় ভুগছেন। কারণ খামার মালিকরা গরুর ভালো দাম না পেলে তাদের মজুরি পাওয়া নিয়ে সমস্যা হবে।

ঘাটাইল উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ভেটেনারি সার্জন ডা. বাহাজ উদ্দীন সরোয়ার রিজভী বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস কোরবানির পশু কেনাবেচার জন্য অনলাইন পশুর হাট চালু করবে।

অপরদিকে কোরবানির নির্ধারিত হাটগুলোতে ক্রেতারা যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভারত থেকে গরু না আসলে খামারিদের লোকশানে পড়তে হবে না এবং দাম ভালো পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।