• আজ ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

হুমায়ূন আহমেদ চলে যাওয়ার ৮ বছর আজ

১১:২৫ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, জুলাই ১৯, ২০২০ বিনোদন

বিনোদন ডেস্ক- শব্দের খেলায় মানুষকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখার অদ্ভুত ক্ষমতা নিয়ে যিনি পৃথিবীতে এসেছিলেন তিনি গল্পের জাদুকর হুমায়ুন আহমেদ। জনপ্রিয় এই কথা সাহিত্যিকের চলে যাবার ৮ বছর আজ। ২০১২ সালের ১৯শে জুলাই তাঁর অসংখ্য ভক্তদের রেখে পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেন হুমায়ূন আহমেদ।

‘মৃত মানুষের জন্য আমরা অপেক্ষা করি না, আমাদের সব অপেক্ষা জীবিত মানুষের জন্য’। অপেক্ষা উপন্যাসে, মৃত্যু নিয়ে এমন ভাবনাই তুলে ধরেছেন হুমায়ুন আহমেদ। অথচ তাঁর চলে যাওয়ার ৮ বছর পরও লক্ষ কোটি পাঠক-ভক্তরা অপেক্ষায় থাকে তাঁর লেখা নতুন কোন বইয়ের জন্য, সম্ভব নয় জেনেও।

হুমায়ুন ভক্তরা জানায়, এ সময় তাঁর লেখা যেসব বই আগে পড়া হয়নি সেই বইগুলো সংগ্রহ করে পড়ার চেষ্টা করছি। সেসাথে পুরনো বই যেগুলো মনের ভিতর গেঁথে আছে সেগুলো আরও একবার পড়েছি। তাঁর এই প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।

হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম ফয়েজুর রহমান, মা আয়েশা ফয়েজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন তাঁর লেখালেখির শুরু। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে। ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় উপন্যাস শঙ্খনীল কারাগার। বই দুটি প্রকাশের পর শক্তিশালী লেখক হিসেবে পাঠকমহলে সমাদৃত হন তিনি।

হুমায়ূন আহমেদ দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর লেখায় বাঙালি সমাজ ও জীবনধারার গল্প ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপিত হয়েছে। তিনি সৃষ্টি করেছিলেন গল্প বলার এক নিজস্ব ভাষাভঙ্গি। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বেশ কয়েকটি উপন্যাস লিখেছেন, নির্মাণ করেছেন নাটক ও চলচ্চিত্র।

হুমায়ূন আহমেদ শিক্ষকতা করেছেন। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ছিলেন। পরে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। লেখালেখিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেন। সাহিত্যে অবদানের জন্য হুমায়ূন আহমেদ একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, লেখক শিবির পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন পদকসহ অনেক পুরস্কার লাভ করেন।

জনপ্রিয় এই লেখক ক্যানসারে ভুগে ২০১২ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

প্রতি বছরের মতো না হলেও, সীমিত আকারে পরিবার ও ভক্তরা দিনটিতে স্মরণ করবে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে, দেশজুড়ে। জানা গেছে, করোনাকালের কারণে এবার সীমিত আকারে দোয়ার আয়োজন থাকছে হ‌ুমায়ূন আহমেদের জন্মস্থান নেত্রকোনা এবং লেখকের সবচেয়ে প্রিয় স্থান গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে। টিভি চ্যানেলগুলোতেও থাকছে তার নাটক, চলচ্চিত্র, গান ও সাহিত্য নিয়ে দিনভর বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।