• আজ বুধবার। গ্রীষ্মকাল, ৮ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২১শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। রাত ১১:৩৭মিঃ

কোয়ারেন্টাইনের মধ্য দিয়ে শুরু হলো হজের আনুষ্ঠানিকতা

১:২২ অপরাহ্ন | রবিবার, জুলাই ১৯, ২০২০ ইসলাম

ইসলাম ডেস্ক- বৈশ্বিক করোনা মহামারির কারণে এ বছর সৌদি আরবে বসবাসরত ১৬০টি দেশের অভিবাসী ও দেশটির নাগরিকদের সমন্বয়ে দশ হাজার মানুষ এবার হজ পালনের সুযোগ পাবেন। এর অংশ হিসাবে আজ থেকে প্রথম ধাপের ৭ দিনের কোয়ারেন্টাইন শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এর মধ্য দিয়ে বলা চলে হজের আনুষ্ঠানিকতার প্রথম ধাপ শুরু হলো।

সৌদি কতৃপক্ষ জানায়, সাতদিনের কোয়ারেন্টাইন শেষে ৩ জিলহজ মক্কায় প্রবেশ করে দ্বিতীয় দফায় আরও ৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন করবেন। এর পর ৮ জিলহজ বাদ ফজর রওয়ানা হবেন মিনা’র উদ্দেশ্যে। আর এর মধ্যদিয়ে শুরু হবে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা।

চলতি বছর বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা স্বার্থে বেশ কিছু নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ওই পদক্ষেপের আওতায় প্রত্যেক হজযাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে, দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন।

রবিবার ভোর থেকে মক্কার নির্দিষ্ট এলাকাসহ মিনা, মুজদালিফা ও আরাফাতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব স্থানে অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া কেউ প্রবেশ করলে তাকে ১০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা করা হবে। এসব এলাকার পবেশ পথে কড়া নিরাপত্তা ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা সড়কে টহল দিচ্ছেন। মিনা, মুজদালিফা ও আরাফাতের প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

সৌদি আরবের হজ ও উমরা মন্ত্রণালয় নিবন্ধিত হজযাত্রীদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠিয়েছে। এসব সামগ্রীর বাইরে অন্য কিছু বহন করতে পারবে না হজযাত্রীরা। প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে- একটি স্মার্ট ব্রেসলেট, দুই সেট ইহরামের কাপড়, ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি, জামারাতে নিক্ষেপের জন্য জীবাণুমুক্ত কঙ্কর, জুতা, ফোনের চার্জার, জায়নামাজ, জুতার ব্যাগ, হাতব্যাগ এবং হজের বিধি-বিধানসহ প্রাসঙ্গিক বই-পত্র ও স্বাস্থ্যবিধি সম্বলিত হজ নির্দেশিকা।

যাতায়াতের জন্য প্রতি ২০ জন করে একটি দল করা হয়েছে। প্রত্যেক বাসে বিশজন করে হজযাত্রী চলাফেরা করবেন।

এদিকে মিনা, জামারাত, মুজদালিফা ও আরাফাতের ময়দানে যে অংশ হাজিরা অবস্থান করবেন, সেসব স্থান জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে। মসজিদের হারামের ভেতরে ও বাইরের অংশে নামাজের কাতারে নামাজের সময় শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য স্টিকার লাগানো হয়েছে।

এবার হাজিরা মিনার তাঁবুতে থাকবেন না। মিনার নির্দিষ্ট ভবনগুলোতে তারা অবস্থান করবেন। এ ছাড়া তাওয়াফের সময় কাবা শরিফ স্পর্শ ও হাজরে আসওয়াদে চুমো দেওয়া যাবে না। নির্দিষ্ট দূরত্বে থেকে তাওয়াফ ও সায়ী সম্পন্ন করতে হবে। তাওয়াফের সময় দেড় মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। নামাজের জামাতেও দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়াতে হবে। সর্বাবস্থায় হজযাত্রীদের জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক।

হজযাত্রীরা বাইরে থেকে কোনোপ্রকার খাবার বা পানীয় নিয়ে হজের রীতিনীতি পালন করতে পারবেন না। সব হাজির জন্য খাবার ও পানি কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করবে।

উল্লেখ্য যে, শুধু ২০ থেকে ৫০ বছর বয়সিরা এবার হজের অনুমতি পাবেন। এ সব লোকদের মধ্যে যারা দীর্ঘস্থায়ী কোনো রোগে আক্রান্ত নন, তারও অনুমতির আওতায় থাকবে। তবে ৬৫ বছরের বেশি এবং যাদের কোনো সংক্রামক ব্যাধি আছে, তাদের হজে অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়া হবে না।

হজ শুরু হওয়ার আগে অবশ্যই স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কেউ কোভিড-১৯ আক্রান্ত কি না, সে বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। হজ শেষে প্রত্যেককেই বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।