রংপুর শহরের ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী, বজ্রপাতে শিশুসহ ২ জনের মৃত্যু

১১:৫৭ পূর্বাহ্ন | সোমবার, জুলাই ২০, ২০২০ দেশের খবর, রংপুর

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর- শনিবার মধ্যরাত থেকে একটানা ১২ ঘণ্টাব্যাপী টানা বর্ষণে বিভাগীয় নগরী রংপুরের অন্তত ৩০টি মহল্লা হাঁটু থেকে কোমড় পর্যন্ত তলিয়ে গেছে। বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করায় অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হওয়ায় বাড়িঘর ছেড়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে। এদিকে বজ্রপাতে এক শিশুসহ দুজন মারা গেছে।

রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল দুপুর ৩টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় ২৪১ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা বিগত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছেন সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান।

সরেজমিন রংপুর নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর নিচু এলাকাসহ বিভিন্ন সড়ক ২/৩ ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। নগরীর বাবু খাঁ ও কামারপাড়া এলাকায় প্রধান সড়ক তলিয়ে গেছে এবং আশপাশের নিচু এলাকার শত শত বাড়িতে পানি প্রবেশ করায় অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে।

ওই এলাকার বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন, আলেয়া বেগমসহ অনেকে জানায়, রাত থেকে অবিরাম বৃষ্টিতে তাদের বাড়ির ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় বাধ্য হয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। একইভাবে নগরীর গনেশপুর,বকুলতলা,বাবুখা টার্মিনাল, শালবন, মিস্ত্রীপাড়া, কামাল কাছনা মাহিগঞ্জ, কলাবাড়ি দর্শনা, মডার্ন মোড় সংলগ্ন বিভিন্ন মহল্লা, মুন্সিপাড়া, হনুমান তলা, মুলাটোল, মেডিকেল পাকার মাথা, জলকর, নিউ জুম্মাপাড়া, হনুমান তলা বস্তিসহ অন্তত ৩০টিরও বেশি মহল্লা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচলে ব্যঘাত ঘটছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

অপরদিকে ঘাঘট নদী ও শ্যামা সুন্দরী খাল তলিয়ে যাওয়ায় তীরবর্তী এলাকায় হাজার হাজার বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে। ফলে মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। তবে দুপুর সাড়ে ৩টার পর বৃষ্টি কমে যাওয়ায় উঁচু এলাকার পানি সরে গেলেও নিচু এলাকার পানি সরে যেতে আরও এক সপ্তাহ লাগতে পারে এলাকাবাসী ও রংপুর সিটি করপেেোরশনের প্যানেল মেয়র টিটু জানিয়েছেন।

এদিকে মুষলধারে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতে নগরীর কামার পাড়া ও দর্শনা এলাকায় ৭ বছরের শিশুসহ দুজন মারা গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়া বিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, শনিবার রাত ৩টা থেকে রোববার দুপুর ৩টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২৪১ দশমিক ৪ মিলিমিটার।

তিনি জানান, আবারও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ এভাবে চললে নগরীর অনেক এলাকা তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর পানি তেমন বৃদ্ধি পায়নি। তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে ও কাউনিয়ায় এখনো বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি জানান, অবিরাম বর্ষণের কারণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি হয়না মূলত ভারতের উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পায়।