সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ২৭শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় কোরবানীর জন্য প্রস্তুত পৌনে ৪ লাখ গরু-ছাগল, বিক্রি হচ্ছে অনলাইন হাটেও

১২:০৪ অপরাহ্ন | সোমবার, জুলাই ২০, ২০২০ দেশের খবর, রাজশাহী

সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, বগুড়া প্রতিনিধি: আর মাত্র কয়েকদিন পরেই মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। এই ঈদ-উল-আযহা বা কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে গবাদিপশু পরিচর্যায় ব্যস্ত বগুড়ার প্রায় ৪১ হাজার খামারি। আর কোরবানীকে ঘিরে ভাল দাম পাবার স্বপ্ন দেখছে এসব গরুর খামারীরা।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন হতে পারে এবং খামারি ও ক্রেতাদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে নন্দীগ্রাম উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তর কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য অনলাইন (ডিজিটাল) হাটের ব্যবস্থা করেছে।

জেলার প্রায় ৪১ হাজার খামারি এখন কোরবানীর হাটকে সামনে রেখে প্রস্তত করেছে প্রায় পৌনে চার লাখ পশু। দেশীয় খামারীরা গত বছর কোরবানীর পশুর ভাল দাম পাওয়ায় এবার তারা ব্যাপকভাবে গরু, ছাগল, ভেড়া পালন করেছে। নিজেদের খামারের গরু, ছাগল, ভেড়াসহ কোরবানীর প্রাণী হাটে তোলার আয়োজন রয়েছে।

জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদ উল আযহাকে সামনে রেখে জেলার মোট ১২টি উপজেলার ৪০ হাজার ৮শ’ ৯ জন খামারি মোট ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৫শ’ ৭৭টি গবাদি পশু কোরবানীর জন্য প্রস্তুত করে তুলেছেন।

এরমধ্যে বগুড়া সদর উপজেলায় ৪০ হাজার ৫০৩টি, গাবতলীতে ৩১ হাজার ৪৪৫টি, সারিয়াকান্দিতে ৩৪ হাজার ৫৫৭টি, সোনাতলায় ২৫ হাজার ৭৪৭টি, শিবগঞ্জে ৪১ হাজার ৪৩টি, কাহালুতে ২৬ হাজার ৫৭৮টি, দুপচাঁিচয়ায় ৩০ হাজার ১৬৪টি, আদমদীঘিতে ২৫ হাজার ৮১২টি, নন্দীগ্রামে ২২ হাজার ২৭২টি, শেরপুরে ৩৯ হাজার ৯৫০টি, ধুনটে ৩২ হাজার ৫৮৮টি এবং শাজাহানপুর উপজেলায় ২৫ হাজার ৯১৮টি গবাদি পশু রয়েছে।

এগুলোর মধ্য গরু (ষাঁড়, বলদ ও গাভী) ২ লাখ ৫০ হাজার ৮শ’ ৫২টি, মহিষ ২ হাজার ৮শ ১৩টি, ছাগল ১ লাখ ৩ হাজার ২শ’ ৫২টি এবং ভেড়া ১৯ হাজার ৬শ’ ৬০টি। গত বছরের ঈদে এ জেলায় সাড়ে ৩ লাখ পশু জবাই করা হয়।

এ জেলায় ৩৮টি স্থায়ী হাট রয়েছে। স্থায়ী হাট ছাড়াও সবগুলো উপজেলা মিলে ৫০-৬০টি অস্থায়ী হাট রয়েছে। এসব হাটে কোরবানীর পশুগুলো তোলা হবে বিক্রির জন্য। তবে করোনায় স্বাস্থ্য সচেতনতাবৃদ্ধির লক্ষ্যে হাটগুলোতে নেয়া হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থা।

বগুড়ার নন্দীগ্রাম, শাজাহানপুর, বগুড়া সদর, শিবগঞ্জ, আদমদিঘী, সোনাতলা, সারিয়াকান্দি, ধুনট উপজেলায় বিভিন্ন খামারীরা দেশীয়জাতের গরু লালন পালন করেছে। কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে খামারিরা প্রায় ৬ মাস আগে থেকেই গরুগুলো লালন পালন করতে কাঁচা ঘাস, খৈল, ভুষি, ভাতের ফ্যান, খড়, খুদ, কুড়া খাইয়ে আসছিল।

অপরদিকে নন্দীগ্রাম উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তর উদ্যোগে ‘পশুরহাট’ নামে একটি অনলাইন পেজ খুলে এই হাট চালু করেছে। এই অনলাইন পেজে গরু-মহিষ-ছাগল পালনকারীদের পশুর ছবিসহ বিভিন্ন তথ্য রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর আশাবাদী এই অনলাইন গরুর হাটে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাবে।

এই হাটে ক্রেতারা ঘরে বসেই গরুর ছবি দেখার ও ওজন জানার সুযোগ পাবেন। এরপর নির্দিষ্ট স্থান থেকে অথবা হোম ডেলিভারির ভিত্তিতে টাকার বিনিময়ে গরু সংগ্রহ করতে পারবেন। এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে প্রাণির ছবির পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যাবে। এই সকল ছবি ও তথ্য ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস তার নিজ খরচে প্রচার করছে। ফলে ক্রেতারা সহজেই তাদের কোরবানির জন্য প্রয়োজনীয় প্রাণী পছন্দের সুযোগ পাবেন। এছাড়া বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে ডেলিভারি নিতে পারবেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার ডা. অরুণাংশু মন্ডল বলেন, করোনা দুর্যোগে অনলাইন পশুর হাট খামারীদের পশুর ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির পাশাপশি করোনা সংক্রমণ ঝুঁকিও কমাবে। অনলাইন পশুর হাটের সফলতার জন্য সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আশাকরি অনলাইন হাটের মাধ্যমের অনেকই কোরবানির পশু কিনবেন।

এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আমির হামজা জানান, আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৪০ হাজারের বেশি গবাদি পশু হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে। এসব পশুর প্রতিষেধক টিকা প্রদান নিশ্চিত করা হয়েছ। নিরাপদ গরুর মাংস উৎপাদনের জন্য খামারিদের প্রশিক্ষণ দেয়ায় সুফলও পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতাদের মাঝে এখানকার গরুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আশা করছি, এ বছর খামারি ও কৃষকেরা তাদের গরুর ভাল দাম পাবে। তিনি আরো জানান, উপজেলার বিভিন্ন হাটগুলোতে মেডিক্যাল টিম পর্যবেক্ষন রাখছে।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, খামারে এবার প্রচুর পরিমানে দেশীয়জাতের গরু পালন করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন হাট থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পশু চলে যাবে। আর অন্য জেলা থেকে এজেলাতে প্রাণী ঢুকবে। তাইতো এবার কোরবানীর জন্য প্রানীর অভাব হবেনা। তাছাড়া বগুড়াবাসী দেশীয় পশু দিয়েই তাদের কোরবানির কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন বলে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আশা প্রকাশ করেন।