• আজ মঙ্গলবার। গ্রীষ্মকাল, ৭ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২০শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। সকাল ৭:৪৩মিঃ

‘পলাতক আসামি’ শাহেদ প্রকাশ্যেই যেতেন বঙ্গভবন-গণভবন-সেনাকুঞ্জে

১:৩০ অপরাহ্ন | সোমবার, জুলাই ২০, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- প্রতারণার মাস্টার মো. শাহেদ ওরফে শাহেদ করিম। একে একে বেরিয়ে আসছে তার নানা কুকীর্তি। প্রশ্ন হচ্ছে, কীভাবে এতদিন প্রতারণা চালিয়ে গেল সে। কাদের সহযোগিতায় এত মামলার আসামি ঘুরে বেড়িয়েছে বীরদর্পে, ছবি তুলেছে সমাজ-রাষ্ট্রের সব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে, ঝড় তুলেছে টকশোতে।

পুলিশ বলছেন, গ্রেফতারি পরোয়ানা হাতে পেলেও বাবার নাম না থাকায় এতদিন প্রতারক শাহেদ করিমকে গ্রেফতার করা যায়নি। তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি দেখছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতারক হিসেবে দেশে পরিচিত হওয়ার ১০ বছর আগেই প্রতারণার এক মামলায় ছয় মাসের কারাদণ্ড হয় রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহেদ করিমের। তাকে গ্রেফতারে পরোয়ানাও জারি করেন আদালত। ১৫ জুলাই গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত আইনের চোখে পলাতক আসামি হয়েই বঙ্গভবন, গণভবন, সেনাকুঞ্জসহ রাষ্ট্রীয় নানা অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি।

পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও কেন তাকে এতদিন গ্রেফতার করা হয়নি এ নিয়েও চলছে সমালোচনা। অনেকেই বলছেন, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এই মামলায় গ্রেফতার এড়িয়েছেন তিনি। আদালতে শাহেদের মামলার নথি ঘেটে জানা যায়, তাকে হাজির করতে দু’দফা সমন দেয়া হয়। কিন্তু তার ঠিকানায় সমন পৌঁছেনি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলছেন, রায় ঘোষণার পর দণ্ড কার্যকরের দায়িত্ব পুলিশের। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ গাফিলতির পরিচয় দিয়েছে।

মহানগর দায়রা জজ আদালতের এপিপি অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার দুলাল বলেন, থানা কর্তৃপক্ষের গাফিলতি রয়েছে। পরবর্তী স্টেপ নিতে হলে থানা থেকে রিপোর্ট আসতে হবে। আসামি যদি এরেস্ট না হয়, অথবা তাকে পাওয়া যায়নি এমন রিপোর্ট না দিলেও কোর্ট ব্যবস্থা নিতে পারে না।

যদিও উত্তরা পূর্ব থানার ওসি এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেছেন, সাজা পরোয়ানায় শাহেদের বাবার নাম উল্লেখ না থাকায় তখন তাকে গ্রেফতার করা হয়নি।

বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সিনিয়র আইনজীবীরা। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান বলেন, কাজেই দুটো জায়গায় তদন্ত করা হয়েছে। এবং এটা গুরুতর লঙ্ঘন, এবং গুরুতর অপরাধ। এতে আদালতের প্রতি মানুষের আস্থাই থাকবে না।

উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশ জানিয়েছে, শাহেদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত হওয়ায় এখন ওই মামলাতেও তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে।

উত্তর পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ওই ওয়ারেন্টে যেটা ছিল, নাম লেখা ছিল শাহেদ। বাবার নাম ঠিকানা লেখা ছিল না। তাহলে কিভাবে আইডেন্টিফাই করা হতো। তখন কিন্তু বাদীর দায়িত্ব ছিল।

উল্লেখ্য, ৬ জুলাই করোনার নমুনা সংগ্রহের পর ভুয়া প্রতিবেদন দেওয়া ও সরকারের সঙ্গে চুক্তি ভঙ্গ করে টাকা আদায়ের অভিযোগে উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালায় র‌্যাব। পরদিন উত্তরা পশ্চিম থানায় সাহেদকে এক নম্বর আসামি করে ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ৯ দিন পর সাতক্ষীরা থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।