সংবাদ শিরোনাম

‘লঘু পাপে গুরু দণ্ড’; তিনটি মুরগি চুরির দায়ে দেড়লাখ টাকার জরিমানা চার তরুণের!কুড়িগ্রামের সবগুলো নদ-নদী শুকিয়ে গেছে, হুমকীতে জীব-বৈচিত্রহেফাজতের আরেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তারমধুখালীতে বান্ধবীর সহায়তায় অচেতন করে দফায় দফায় ধর্ষণের শিকার নারী!বাসস্ট্যান্ডে প্রকাশ্যে চায়ের স্টলে ইতালি প্রবাসীকে কুপিয়ে হত্যাগোবিন্দগঞ্জে মর্মান্তিক সড়ক দূঘর্টনায় স্কুল শিক্ষকসহ একই পরিবারের ৪ জন নিহতময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে ডুবে মারা গেলো ৩ শিশুমুহুর্তেই ভয়াবহ আগুন! স্কুলেই পুড়ে মরলো ২০ শিশু শিক্ষার্থী!সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু আর নেইসব রেকর্ড ভেঙে চুরমার, একদিনেই ৯৬ জনের মৃত্যু

  • আজ ১লা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সব হারিয়ে তিস্তা পাড়ের মানুষরা এখন নতুন ঠিকানার খোঁজে

১১:৪৯ পূর্বাহ্ন | মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর- নদী বেশ শান্ত। ঢেউ নেই, তবে রয়েছে তীব্র স্রোত। আর স্রোতের সঙ্গে ভাঙছে পাড়, জমি ও বসতবাড়ি। ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা হলো না রংপুরের গয়গাচড়ার চর শংকরদহ গ্রামের আজিবারের শেষ বাড়িটিও।

শুধু এটিই নয়, নদী ভাঙনে পাশের চর নোহালী গ্রামের ঘাড়ে ওপর নিঃশ্বাস ফেলছে। একই অবস্থা গংগাচড়ার নোহাহী, আলমবিদির, কোলকোন্দ, মহিপুর, গজঘন্টা, বালাপাড়া, মধুপুর, হারাগাছ, ছাওলা, পাওটানাসহ অন্তত ১৩ টি ইউনিয়নের অর্ধ শতাধিক গ্রামের।

চলতি বন্যায় এসব এলাকারও সহস্রাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। তাদের খাওয়া-দাওয়া নেই। অনাহারে-অর্ধাহারে দিন যাচ্ছে। তবে কোথাও ভাঙন রোধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড এমনটাই দাবি এই চড়ের মানুষের।

তাই তো ভাঙন কবলিত পরিবারগুলি ছুটে বেড়াচ্ছেন নতুন ঠিকানার খোঁজে, যেখানে নিরাপদে একটু ঠাঁই মিলবে তাদের। তিন বেলা না জুটলেও যেন সন্তান পরিজন নিয়ে একবেলা জুটে খাবার।

করাল গ্রাসী তিস্তায় শত শত একর আবাদি জমি চলে গেছে নদীগভে। গরু-ছাগল নিয়ে বসবাসের জন্য একটু ঠাঁই খুঁজতে তারা এদিক-ওদিক ছুটে বেড়াচ্ছেন। অনেকের খেয়ে না-খেয়ে দিন কাটছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রংপুরের তিস্তা অঞ্চলের অনেক চরবাসি আজ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, দেখলে মনে হবেনা যে ঐ সকল এলাকায় কখনো কোন ঘর-বাড়ি ও রাস্তা-ঘাট ছিল। কী যে বীভৎস রোনাজারী কোথায় হবে আশ্রয়স্থল তা স্থির করতে পারছেনা ভুক্তভোগীরা।

একদিকে তারা খাদ্য সংকটে অপরদিকে বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের অভাবে দূর্বিসহ জীবন যাপন করছে। এ মহাসংটকে উপেক্ষা করার মত শক্তি ও সামর্থ কোনটাই তাদের মধ্যে নেই।

এ সকল মানুষ আজ রাস্তা-ঘাটের খোলা আকাশের নিচে জীবনযাপন করছে। বিশেষ করে বিপাকে পড়েছে শিশু ও বৃদ্ধ মানুষকে নিয়ে। আঝড়ে ঝড়ছে আকাশ, ভারি বর্ষণে খোলা আকাশে পলিথিনের ঘর যেন শিশুদের খেলাঘরের মতই। সব কিছু হারিয়ে এ মানুষগুলো চোখ মুখে অন্ধকারের ছায়া। এখন সামনের দিনের কথাই ভাবছে পরিবার পরিজন নিয়ে কীভাবে চলবে নিত্য দিনের সংসার।

চাষের যে জমি ছিল তাও অনেকের নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে আর কারো যে টুকো আছে তা আবাদ যোগ্য নয়। হারিয়েছে বীজতলাও এখন আর কোন কিছুই সম্ভব নয় বলেও তারা হতাশায় পড়ে গেছেন।

রংপুর বিভাগের ৬৫৩টি চর আছে। এ চরবাসি যেন জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।

আলমবিদিতরের জয়নাল, নোহালীর মর্জিনা ও চর শংকরদহের বাতেন মিয়া জানালেন, পানি উন্নয়ন র্বোড সময় মত ব্যবস্থা না নেয়ায় তাদের শেষ সম্বলটুকু তারা রক্ষা করতে পারেনি। এই জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দায়ী করছেন তারা।

চর শংকর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মোন্নাফ জানালেন, তার ওয়ার্ডের ৫ থেকে ৬ শতাধিক পরিবারের মধ্যে আর মাত্র ৭০টি পরিবার রয়েছে। বাকী সবারই বসতবাড়ি তিস্তার পেটে। কে কোথায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে তা আমি বলতে পারছি না। সময়মতো পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যবস্থা নিয়ে এমনটি হতো না।

যদিও রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী অফিসার প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানালেন, এখন সর্বত্রই নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কিছু এলাকায় কাজ শুরু করেছি। তবে ওই এলাকার ভাঙনরোধে বরাদ্দের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।