বগুড়ায় বন্যার্তদের রক্ষায় গ্রাম পুলিশ মোতায়েন

৪:৩৩ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২০ দেশের খবর, রাজশাহী

সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, বগুড়া প্রতিনিধি: যমুনা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষা ও বন্যার্ত লোকজনের নিরাপত্তার জন্য বগুড়ার ধুনট উপজেলায় গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক গোসাইবাড়ি ও ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নে ২৬ জন গ্রাম পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বর্ষার অবিরাম বর্ষণে ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বেড়ে প্লাবিত হয়েছে উপজেলার গোসাইবাড়ি ও ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের ১৪টি গ্রাম। এসব গ্রামের প্রায় দেড় হাজার পরিবারের লোকজন পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

এদিকে, যমুনার পানির তীব্র স্রোতে শুরু হয়েছে নদীভাঙন। এতে করে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়াও তলিয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, রাস্তা-ঘাট। পানিবন্দি এলাকার অসংখ্য মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্র, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ উঁচু জায়গাগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। যমুনা চরে বসবাসকারী অনেকে ঘর-বাড়ি ভেঙে নৌকায় করে নদীর পশ্চিম তীরে চলে আসছেন। বন্যার দুর্যোগ থেকে স্থায়ী সমাধান খুঁজতে চরের পৈতৃক ভিটেমাটি ছেড়ে আসছেন তারা।

উপজেলার শহড়াবাড়ি থেকে মাধবডাঙ্গা পর্যন্ত সাত কিলোমিটার দীর্ঘ যমুনা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। যমুনার পানি বাড়ার সঙ্গে বেড়েছে স্রোত। পানির প্রবল চাপে বাঁধের একাধিক পয়েন্ট দিয়ে চুইয়ে সেই পানি লোকালয়ে ঢুকছে। অসংখ্য ইঁদুরের গর্ত এবং দুর্বল অংশে পানি চুইয়ে পড়ার কারণে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। লোকালয় অংশের চেয়ে নদী অংশের পানি বেশি উচ্চতায় প্রবল বেগে প্রবাহিত হওয়ায় বাঁধ ভেঙে যেকোনো মুহূর্তে লোকালয়ে পানি প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে বাঁধ কেটে ক্ষতি করতে পারে। এমন আশঙ্কা থেকে বাঁধে গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুল করিম আপেল বলেন, বাঁধে আশ্রিত মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষার জন্য গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত পালাক্রমে এই পাহারার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে বানভাসি মানুষগুলো নিরাপত্তার মাঝে রাত্রিযাপন করতে পারছেন।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মোহন্ত বলেন, পানিবন্দি মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষার জন্য গ্রাম পুলিশ দিয়ে রাতের বেলায় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।