সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৪ঠা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৭ মামলার আসামি নিহত

১১:১১ পূর্বাহ্ন | বুধবার, জুলাই ২২, ২০২০ দেশের খবর, রাজশাহী

সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়া শহরে হত্যাসহ সাত মামলার আসামি আল আমিন শেখ রাব্বী ওরফে গরু রাব্বী (৩৭) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।

সদর থানা পুলিশ দাবি করছে, মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে শহরের ভেতরে দুই দল সন্ত্রাসীর মাঝে গুলি বিনিময়ের সময় রাব্বী নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে একটি ওয়ান শুটার গান, দুই রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও কার্তুজের দুটি খোসা পাওয়া গেছে।

সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে ২২ জুলাই বুধবার সকালে নিহতের মা হাওয়া বিবি দাবি করেছেন, রাতে পুলিশ বাড়ি ঘেরাও করে তার ছেলেকে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে।

বগুড়া জেলা পুলিশের ফেসবুক আইডিতে বলা হয়েছে, আল আমিন শেখ রাব্বী ওরফে গরু রাব্বী বগুড়া শহরের সুলতানগঞ্জপাড়া ঘোনপাড়ার খালেকুজ্জামান হেলালের ছেলে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যা চেষ্টা, অস্ত্র, মাদক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে সাতটি মামলা রয়েছে। মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে শহরের নিশিন্দারা চকরপাড়ায় একটি ইউক্যালিপটাস বাগানে দুই দল সন্ত্রাসীর মধ্যে গুলি বিনিময়ের খবর পাওয়া যায়।

সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবির, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রেজাউল করিম রেজাসহ সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে বাগানের মধ্যে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় জনগণ তাকে রাব্বী হিসেবে শনাক্ত করেন। তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থলে একটি ওয়ান শুটার গান, দুই রাউন্ড তাজা কার্তুজ (বন্দুকের গুলি) ও দুটি খোসা পাওয়া যায়।

এদিকে গুলিতে নিহত রাব্বীর মা হাওয়া বিবি ও স্বজনরা বুধবার সকালে দাবি করেন, রাব্বী কয়েকদিন আগে জেল থেকে জামিনে বের হয়েছেন। তিনি আগে নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলেও এখন নেই। মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে পুলিশ শহরের সুলতানগঞ্জপাড়া ঘোনপাড়ার বাড়ি ঘেরাও করে রাব্বীকে নিয়ে যায়। বুধবার সকালে নিশিন্দারা চকরপাড়ার বাগানে গুলিতে এক যুবক নিহত হওয়ার খবর পান।

স্থানীয়রা তাদের বলেছেন, রাতে তারা ৩-৪ রাউন্ড গুলিবর্ষণের শব্দ পেয়েছেন। পরে শজিমেক হাসপাতাল মর্গে তার গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়। স্বজনরা দাবি করেন, পুলিশ গুলি করে রাব্বীকে হত্যা করে অস্ত্র উদ্ধারের নাটক করছে।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবির নিহতের স্বজনদের দাবি অস্বীকার করে বলেছেন, প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীদের গুলিতেই সন্ত্রাসী রাব্বী মারা গেছে। ঘটনাস্থলে গুলিসহ আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া গেছে। রাব্বী হত্যা ও অস্ত্র উদ্ধারের ব্যাপারে সদর থানায় মামলা হবে।