• আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আজমিরিগঞ্জে ভারী বর্ষণে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি, বিপর্যস্ত জনজীবন

৭:৩৭ অপরাহ্ন | বুধবার, জুলাই ২২, ২০২০ সিলেট
Habigonj

মঈনুল হাসান রতন, হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে নেমে আসা কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি এবং বিগত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে জনজীবন। তলিয়ে গেছে হাওড়ের জমি সহ সদর উপজেলার বিভিন্ন রাস্তাঘাট।

হাওড়ের পানি পানির ঢেউয়ে আজমিরিগঞ্জ ভায়া শিবপাশা রাস্তার শান্তিপুর নামক স্থানে প্রায় ১ কিলোমিটার জুড়ে সৃষ্ট হয়েছে ভাঙ্গনের। এদিকে ২নং বদলপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর থেকে কাদিরগঞ্জ যাওয়ার রাস্তায় নিকলীর ঢালা নামক স্থানের বাঁধটি রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে। প্রবল স্রোতের কারনে যেকোনো সময় বাঁধটি ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অফিসের তত্ত্বাবধানে চলছে রাস্তা দুটি মেরামতের কাজ। সোমবার (২০ জুলাই) শিবপাশা রাস্তাটি পরিদর্শন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান মর্তুজা হাসান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মতিউর রহমান খাঁন, উপজেলা প্রকৌশলী তানজির উল্ল্যা সিদ্দিকী, সহকারী প্রকৌশলী মোসাদ্দেকুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মতিউর রহমান খাঁন বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং ভারী বর্ষণে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার বিভিন্ন রাস্তা ঘাট তলিয়ে গেছে। অনেক জায়গায় রাস্তা তলিয়ে হাওড়ের পানি প্রবেশ করছে। শিবপাশা রাস্তায় প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তা ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। জেলা পরিষদের একটি যাত্রী ছাউনির নিচের মাটি সরে গেছে। সেই জায়গায় আমরা এলজিইডি’র মাধ্যমে বালির বস্তা দিয়ে রাস্তা মেরামত করা হয়েছে। এবং জিও ব্যাগ আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল ভোর রাতে বদলপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুরের নিকলীর ঢালা ভেঙ্গে গেছে বলেও খবর পেয়েছি। এলজিইডি’র সাথে বিষয়টি আলাপ করেছি। তবে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আমাকে জানিয়েছেন পানি বেশী হওয়ার কারনে আপাতত নিকলীর রাস্তা মেরামত করা সম্ভব নয়, তবে পানি কমার পর উনারা রাস্তাটি মেরামত সহ যাবতীয় সংস্কার করবেন।

এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী তানজির উল্ল্যা সিদ্দিকী বলেন, নদী ও হাওড়ের পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার প্রায় বেশ কয়েকটি রাস্তাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা বিগত ৩ সপ্তাহেরও বেশী সময় ধরে রাস্তাগুলোর ভাঙ্গন রোধে কাজ করে যাচ্ছি। প্রতিদিন ৫০/৬০ জন শ্রমিক কাজ করছে। বালির বস্তা দিয়ে ভাঙ্গা অংশে ভরাট করা হচ্ছে। জিও ব্যাগ আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আজমিরীগঞ্জ ভায়া শিবপাশা রাস্তাটি এই উপজেলার সাথে জেলার যোগাযোগের প্রধান দুটি রাস্তার মধ্যে একটি রাস্তা হওয়ায় সেটি রক্ষার চেষ্টা আমরা করছি। এটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। রাস্তা ঘাটের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে পানি না কমা পর্যন্ত এখন কিছু বলা যাচ্ছে না, পানি কমলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলা যাবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট পূর্ণ মেরামত করা হবে।

অন্যদিকে টানা বৃষ্টিপাতের কারনে ভোগান্তিতে পরেছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। বৃষ্টির কারনে কাজে যেতে পারছেন না সাধারণ দিনমজুরেরা। পরিবার পরিজন নিয়ে পরেছেন বিপাকে।এদিকে পাহাড়ি ঢলে উজান থেকে নেমে পানি এবং টানা ভারীবর্ষণে নতুন করে পানি বাড়তে শুরু করেছে আজমিরিগঞ্জের নদ নদীতে। প্রতিদিন প্লাবিত হচ্ছে নতুন এলাকা।

সরজমিনে ৪ নং কাকাইলছেও ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, সৌলরী বাজার নরজাকান্দা, আলগা বাড়ী, গড়দাইর নয়ন পুর, গড়দাইর আব্দুল্লাপুর, মনিপুর, ২ নং বদলপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুরের চর মাহমুদপুর উদয়পুর মিশন পাড়া, চরহাটী, বদলপুরের আলগা হাটী, নয়া হাটী, নদীপুর এলাকার কয়েকশত মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। রয়েছ বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটও।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মতিউর রহমান খাঁন বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। আমাদের কাছে আগের কিছু ত্রাণ ছিলো সেগুলো বিতরণ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪ শ বস্তা শুকনো খাবার বরাদ্দ পেয়েছি। আজ আমরা এগুলো উপজেলা প্রশাসনে আনার ব্যবস্থা করেছি। আগামীকাল থেকে আমরা এগুলো বিতরণ করবো।