• আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ঋণ না পেলে এবার চামড়া কিনতে পারবেন না উত্তরাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা

১:৩৪ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২০ ফিচার

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর- উত্তরাঞ্চলের চামড়া ব্যবসায়ীদের হাতে নগদ টাকা নেই। ব্যাংক থেকেও ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। বিগত দিনের প্রায় ২০০ কোটি টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের ট্যানারিগুলোতে। এ অঞ্চলের প্রায় দুই হাজার চামড়া ব্যবসায়ী টাকার অভাবে এবার চামড়া ক্রয় করতে পারবেন না বলে সন্দিহান রয়েছে। গত বছরের মতো এবারও ট্যানারি মালিকরা সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম নিয়ন্ত্রণ করবে এমনটা শঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

অপরদিকে, এ পেশার সঙ্গে জড়িত প্রায় লক্ষাধিক ফড়িয়াও রয়েছেন চরম বিপাকে। কদিন পরই কোরবানির ঈদ। এই ঈদকে ঘিরে প্রতি বছর চামড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে সাজ সাজ রব লক্ষ্য করা গেলেও করোনা এবার এনে দিয়েছে ভিন্ন চিত্র।

একদিকে আগের বকেয়া টাকা না পাওয়া, অন্যদিকে করোনা ও ল্যাম্পি স্কিন রোগের কারণে গরুর আমদানি তুলনামূলক কমে যাওয়ায় চামড়া ব্যবসায়ী ও ফড়িয়াদের মাঝে হতাশার সুর লক্ষ্য করা গেছে। গরুর হাটগুলোতে তেমন বেচাকেনা নেই।

চামড়া ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলে প্রতি বছর কোরবানির সময় প্রতিটি জেলায় দুই থেকে আড়াই লাখ পিস চামড়া আমদানি হতো। সে হিসেবে প্রতি বছর কোরবানির সময় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ পিস গরুর চামড়া আমদানি হয়। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা এবার সেই লক্ষ্য পূরণ হবে না। কবছর আগেও উত্তরাঞ্চলে ২০০র ওপর চামড়ার গোডাউন ছিল। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৪০ থেকে ৫০টিতে।

রংপুর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল লতিফ খান ও সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী সময়ের কন্ঠস্বরকে জানান, উত্তরাঞ্চলের চামড়া ব্যবসায়ীদের ২০০ কোটির বেশি টাকা ট্যানারিগুলোতে বকেয়া রয়েছে।

সরকার বড় বড় ট্যানারিদের কোটি কোটি ব্যাংক ঋণ দেয়। কিন্তু চামড়া ব্যবসায়ীদের কোনো প্রকার ব্যাংক ঋণ দেওয়া হয় না। ফলে চামড়া ব্যবসায়ীরা ধারদেনা করে এ ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছেন।

ঋণের ব্যাপারে নাম অনুচ্ছিক এক ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ হলে তিনি সময়ের কন্ঠস্বরকে জানান, চামড়া একটি কাঁচামাল জাতীয় পণ্য। এ কারণেই ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেয়। ফলে অনেক চামড়া ব্যবসায়ীকে ইচ্ছা থাকলেও ঋণ দেওয়া সম্ভব হয় না।