• আজ ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নবীগঞ্জে সাংবাদিক নির্যাতনকারী ইউপি চেয়ারম্যান হারুনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি

৫:৩৪ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২০ দেশের খবর, সিলেট

মতিউর রহমান মুন্না, নবীগঞ্জ প্রতিনিধি- হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় সাংবাদিক নির্যাতনকারী আউশকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মহিবুর রহমান হারুনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নির্যাতনের শিকার তিন সাংবাদিক।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে স্থানীয় সরকার আইনের ৩৪ ধারা মোতাবেক সাংবাদিক নির্যাতন মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামি মহিবুর রহমান হারুনের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। মন্ত্রীর পক্ষে এ অভিযোগ গ্রহণ করেন নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার পাল।

অভিযোগে জানাগেছে, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে আসা ত্রাণ ও বয়স্ক ভাতা, প্রধানমন্ত্রীর আড়াই হাজার টাকা প্রণোদনা নিয়ে নানা অনিয়ম হলে উক্ত সংবাদ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরেন কর্মরত সাংবাদিকগন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন ইউপি চেয়ারম্যান মহিবুর রহমান হারুন ও তার লোকজন।

এর প্রেক্ষিতে গত ১ এপ্রিল দেশের স্বনামধন্য জাতীয় পত্রিকা দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ এর হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি শাহ সুলতান আহমদ, সরকারের ১০ টাকা কেজির চাল ও করোনা উপলক্ষে আসা সরকারের ত্রাণ বিতরণে নানা অনিয়মের কারণে ত্রাণ বঞ্চিত কিছু মানুষের কথা ফেসবুক লাইভে ও সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরার অপরাধে দিনদুপুরে নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি বাজারে যাত্রী ছাউনী সংলগ্ন সাথী ফার্মেসী থেকে সাংবাদিক শাহ সুলতানকে ধরে এনে নবীগঞ্জ উপজেলার ৫নং আউশকান্দি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মহিবুর রহমান হারুন ও তার লোকজন প্রকাশ্যে রাস্তায় ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে পিটান।

এ সময় সাংবাদিক শাহ সুলতান অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে তাকে উদ্ধার করার জন্য এগিয়ে আসলে দৈনিক আমার সংবাদের প্রতিনিধি সাংবাদিক এম. মুজিবুর রহমান ও চ্যানেল এস এর প্রতিনিধি বুলবুল আহমদকে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন মারপিট করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন এসে তিন সাংবাদিককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

পরে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় সাংবাদিক শাহ সুলতানকে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সাংবাদিকদের উপর হামলার ও মারপিটের ঘটনাটি সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে। বিভিন্ন টিভিতে টকশো ও বাংলাদেশের প্রতিটি মিডিয়ায় প্রকাশ হয়। ঐ ঘটনায় নবীগঞ্জ থানায় নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের পক্ষে মামলা দায়ের করেন সাংবাদিক এম. মুজিবুর রহমান।

এদিকে ফৌজদারী মামলা থাকা স্বত্বেও অজ্ঞাত কারণে উক্ত চেয়ারম্যানকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এখনো বরখাস্ত করা হয়নি। বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে অবগত করা হলে তিনি নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। এর প্রেক্ষিতে নির্যাতিত সাংবাদিকদের পক্ষে অভিযোগ দেন হামলার শিকার সাংবাদিক শাহ সুলতান আহমদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ সারোয়ার শিকদার, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মিয়া ও সাবেক সভাপতি এম এ আহমদ আজাদ।

সাংবাদিকদের অভিযোগ- উক্ত ইউপি চেয়ারম্যান নবীগঞ্জ উপজেলার ৫জন সিনিয়র সাংবাদিকসহ নিরপরাধ লোকজনের উপর দুটি মিথ্যা মামলা দায়ের করিয়েছেন। এছাড়াও তিনি নির্যাতিত সাংবাদিক শাহ সুলতানের বিরুদ্ধে পরপর দুটি মামলা করেছেন। তিনি চেয়ারম্যান পদে বহাল থাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাংবাদিকদের বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছেন। তার ত্রাণ বিতরণে ও বয়স্ক ভাতা প্রদানে অনিয়ম, বিভিন্ন ভূয়া প্রকল্পের নামে টাকা আত্মসাত এর অনিয়ম দূর্নীতি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণে আহবান জানানো হয় অভিযোগে।

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার পাল বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, স্থানীয় সরকারের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হবে।