• আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ঘাটাইলে বন্যায় বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত, ভোগান্তিতে হাজারও মানুষ

৬:৫৪ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

খাদেমুল ইসলাম মামুন ,ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে মানুষ যখন দিশেহারা, ঠিক তখনি নতুন করে দেখা দিয়েছে আরেক বিপত্তি।

ঘাটাইল উপজেলার একটি পৌরসভা ও তিনটি ইউনিয়নের পিডিবির বিদ্যুতের খুঁটি পানিতে উফড়ে পড়ে ও খুঁটি ভেঙ্গে পানিতে তলিয়ে গেছে ১৫ ও ৪৫০ কেবি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন সিমেন্ট ও কাঠের তৈরি খুঁটিসহ হাই ভোল্টেজের তার। পাশাপাশি দুই শতাধিক বিদ্যুতের খুঁটির গোড়ার মাটি পানির স্রোতে আগলা হয়ে ঝুলে রয়েছে ফসলি জমি, গাছ পালা, ও বাড়ির আঙ্গিনায়। যে কোন সময় খুঁটি গুলো ভেঙ্গে মাটিতে পড়ে মারাত্বক ক্ষতি ও ব্যাপক প্রাণ হানির ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন এলাকা বাসি।

অ-পরিকল্পিতভাবে ফসলি জমিতে, বাড়ির আঙ্গিনায় ও জমির লাইলে এসব খুঁটি স্থাপন করায় এমন বিপত্তি সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী। তারা বলেন, এছাড়াও সড়ক ও মহাসড়কগুলোতেও এসব খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। এতে একদিকে যেমন ঘটছে নানা ধরনের দুর্ঘটনা,  অপরদিকে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম শুরু হতে না হতেই খুঁটির গোড়ার মাটি আগলা হয়ে সরে গিয়ে কোথাও কোথাও খুঁটিগুলো ভেঙ্গে পড়ছে, আবার কোথায় খুঁটিগুলো মাটির দিকে হেলে পড়ে পানির মধ্যে তার সহ ঢুবে রয়েছে। কোনভাবেই বুঝার উপায় নেই পানিতে বিদ্যুতের তার ছিড়ে পড়ে মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হয়ে আছে।

সরজমিনে ঘাটাইলের ১নং দেউলাবাড়ি ইউনিয়র, জামুরীয়া ইউনিয়ন, দিঘলকান্দি ইউনিয়ন ও পৌর সভার বেশ কিছু এলাকা ঘুরে এমন চিত্র লক্ষ করা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের চৈথট্ট, পাঞ্জনা গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া চিতাই গাঙ্গের ভেহি টোকের উপরে অন্তত ২/৩ টি খুঁটি একেবারেই ভেঙ্গে পানিতে তারসহ পড়ে রয়েছে। অত্র এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ৩/৪ দিন যাবত একে বারেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে কিছু শ্রমিক দিয়ে বাঁশের কেচার করে খুঁটিগুলো পেলা দিয়ে দাড় করানোর ব্যার্থ চেষ্টা করেও কোন লাভ হয়নি।

অপরদিকে ঘাটাইল-ভূঞাপুরের ফিডারের জামুরীয়া ইউনিয়নের সাধুর গলগন্ডা, গলগন্ডা, ডেউজানি, ফুলহারা, হাতিবর ফুলহারা ও সুনুটিয়াসহ বেশ কিছু এলাকায় ঠিক একই চিত্র লক্ষ করা গেছে। আবার কোথাও কোথাও ৩৩ হাজার ভোল্টের ক্ষমতা সম্পূর্ন খুঁটি উল্টে গিয়ে বিদ্যুতের তার পানির মধ্যে পড়ে রয়েছে এবং বাঁশের খুঁটি দিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের লাইনের তারের সাথে সংযোগ দিয়ে বাঁশের খুঁটির মাধ্যমে পানির উপর দিয়েই এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে নিয়ে দেধারছে বিদ্যুৎ চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ তারা জানেনা কত বড় ধরনে দুর্ঘটনা তাদের জন্য অপেক্ষা করছে।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু বিদ্যুৎ কর্মী তাদের এই অনৈতিক কাজে সহযোগিতা করছে। পিডিবি কতৃপক্ষও দেখে না দেখার ভান করে বসে রয়েছে। প্রায় একই অবস্থা দিঘলকান্দি ইউনিয়নেও। এখানেও কয়েকটি গ্রামের বিদ্যুতের খুঁটি উফড়ে গিয়ে পানির মধ্যে পড়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে গ্রামের বেশ কয়েকজন মুরব্বি, যুবক, মহিলা ও জন প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যুতের তার, খুটি ভেঙ্গে পানিতে পড়ে থাকার কারণে আমরা পানিতে, টিউবওয়েলেও হাত দিতে ভয় পাই। না জানি কখন কারেন্ট চলে আসে। একেতো ঘর থেকে বের হতে পারিনা। চার দিকে পানি আর পানি। বাড়ি ঘর পানিতে ডুবে গেছে। ঘরের ভেতরে মাচা পেতে শিশু ও বৃদ্ধাদের নিয়ে নীড়ঘোম রাত্রি যাপন করছি, অপরদিকে কারেন্ট না থাকায় পোকামাকড় ও বিষাক্ত সাপের ভয়ে দু-চোখের পাতা এক করতে পারছিনা। সন্ধ্যা হলেই মনের মধ্যে নানা ধরণের ভয় কাজ করে। হারিকেনের আলোয় রাত্রি পোহাতে হয়। আমাদের দুঃখ কষ্ট দেখার কেউ নেই। আমরা সত্যিই বড় কষ্টে দিনাতিপাত করছি। অতি দ্রুত আমাদের এই সমস্যার সমাধান না হলে ঘরের ভেতরেই দম বন্ধ হয়ে মরতে হবে।

এ ব্যাপারে জামুরীয়া ইউনিয়নের ইউ,পি মেম্বার মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, কারেন্ট নিয়ে ভোগান্তি এ আর নতুন কিছু নয়। কারেন্ট নিয়ে সমস্যার শেষ নেই। যখন খুশি তখন বিদ্যুৎ চলে যায়, মন চাইলে আসে আবার নাও আসে। তার উপর রয়েছে আবার মনগড়া বিদ্যুৎ বিলের ঝামেলা। বর্তমানে দেখা দিয়েছে নতুন করে আরেক ঝামেলা। বিদ্যুতের খুটি গুলি ভেঙ্গে ও খুটির গোড়ার মাটি সরে গিয়ে মাটির দিকে ঝুলে বিদ্যুতের তারগুলি যেভাবে পানির নিচে ঢুবে আছে তাতে মনে হয়, হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে আসলে কারেন্টের তারে জড়িয়ে ও পানিতে বিদ্যুৎ তৈরি হয়ে অনেক মানুষ মাছ ধরতে গিয়ে মারা যাবে এতে কোন সন্দেহ নেই। তাই দ্রুত এর সমাধান জরুরী।

অপরদিকে দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম খান ও জামুরীয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইখলাক হোসেন শামীম বলেন, বিষটি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ঠ কতৃপক্ষকে বিষয়টি গুরত্ব সহকারে দেখার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। প্রয়োজন হলে, যেখানে গেলে সমাধান হবে সেখানে গিয়েই আমরা এর ব্যবস্থা গ্রহণ করার করবো।

বিষয়টি নিয়ে বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের ঘাটাইল শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নরুল ইসলাম বিষয়টির সততা স্বীকার করে বলেন, এখন বর্ষাকাল। কোথাও কোথাও এমন সমস্যা হতেই পারে। তাছাড়া আমরাও তো বসে নেই। আমাদের সব রকমের চেষ্টা অব্যাহত রেখে রাত দিন মাঠে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের টিম সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। যেখান থেকেই সমস্যার খবর আসছে সেখানেই দ্রুত ছুটে গিয়ে কাজ করছে। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, আশা করি দ্রুতই এর সমাধান হবে।