সংবাদ শিরোনাম

খালেদা জিয়ার সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট নিয়ে যা বললেন চিকিৎসক২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলেন কাদের মির্জাটাঙ্গাইলে ভন্ড পুরুষ কবিরাজ নারী সেজে যুবককে বিয়ে! অতঃপর…ব্যক্তিগত কাজে সরকারি গাড়ি নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ঢাকা ভ্রমণ!শেরপুরের সেই শিশু রোকনের পরিবারের পাশে ইউএনও!কক্সবাজারে অস্ত্রসহ ডাকাতি মামলার আসামি গ্রেফতারকক্সবাজারে অনুপ্রবেশকারীর পক্ষ না নেয়ায়, আ’লীগ সভাপতিকে অব্যাহতি!শাহজাদপুরে ট্যাংকলরি সিএনজি’র মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১রমজান মাসে আলেমদের হয়রানি মেনে নেয়া যায় না: নুরুল ইসলাম জিহাদীখালেদা জিয়াকে পাকিস্তান-জাপান দূতের চিঠি

  • আজ ৩রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

গাজীপুরে গুরুত্বপুর্ণ সড়কটি যেন ময়লার ভাগাড়!

৯:০৮ পূর্বাহ্ন | শনিবার, জুলাই ২৫, ২০২০ ঢাকা
Gazipur

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সময়ের কণ্ঠস্বর: বাংলাদেশ সমরাস্ত্রকারাখানা, সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরী, বাংলাদেশ ডিজেল প্লান্ট ফ্যাক্টরী, তিতাস গ্যাস অফিস এবং ডুয়েট এর মতো গুরুত্বপুর্ণ স্থাপনার গুরুত্ব নেই গাজীপুর সিটি কপোরেশনের কাছে।  গুরুত্বপুর্ণ  এই ৫টি প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ রাস্তায় স্তুপ করে রাখা হচ্ছে মহানগরের বিভিন্ন এলাকার বর্জ্য।

গুরুত্বের বিবেচনায় প্রথম সারিতে থাকা এসকল প্রতিষ্ঠানে জেলা শহর থেকে যাওয়ার মুল রাস্তাটির এ অংশটি দিনের অধিকাংশ সময়ই ব্যবহৃত হচ্ছে ময়লার ভাগাড় হিসেবে!

স্থানীয়দের অভিযোগ, মহানগরের বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়ি, শিল্প প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিকের চিকিৎসা বর্জ্য ও দূষিত বর্জ্য এনে ফেলা হয় এই রাস্তার উপর। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির! ভ্যানে করে সকাল থেকেই এ সকল ময়লা তিতাস গ্যাস অফিসের সামনের রাস্তায় এনে ফেলতে শুরু করে যা দুপুরের মধ্যে রেল ক্রসিং সংলগ্ন পর্যন্ত চলে যায়। ফেলে রাখা বর্জ্য রাস্তাটির তিন ভাগের একভাগ দখল করে নেয়।

স্থানীয়রা আরও বলেন, রাস্তায় ময়লা ফেলার কারণে রাস্তার উপর এক ধরণের স্তর পড়ে গেছে ফলে প্রায়ই এখানে মোটরসাইকেল, অটোরিকসা আরোহীদের দূর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়। গত কয়েকদিন আগে রাস্তাটিতে চলাচলকারী তাকওয়া পরিবহনের একটি গাড়ি ময়লার কারণে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে এই স্থানটিতে উল্টে কয়েকজন  আহত হওয়ার তথ্যও দেন তারা।

এমন পরিস্থিতিতে গত কয়েকমাস আগে তিতাস গ্যাস কতৃপক্ষ তাদের অফিসে প্রবেশ মুখে ময়লা ফেলা থেকে বিরত রাখতে ফুলের গাছ রোপণ করেন। ফলে প্রবেশ মুখে ময়লা ফেলা থেকে বিরত রাখা গেলেও  তিতাস গ্যাস অফিসের সামনে ময়লা ফেলা থেকে বিরত রাখা যায়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তাটির তিন ভাগের এক ভাগ জুড়ে ফেলা হচ্ছে ময়লা। ফলে গাড়ি চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা। গাজীপুর তিতাস গ্যাস অফিসের সামনের অংশ থেকে দক্ষিন ভুরুলিয়ার ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তার উপর ফেলা ময়লার কারণে এক সারিতে চলাচল করছে যানবাহন।  যেখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে তার পশ্চিম পাশেই অবস্থিত ডিবিএল গ্রুপের একটি পোশাক কারখানা। বৃহৎ এ প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত আছেন কয়েক হাজার শ্রমিক। অস্বাস্থ্যকর এ পরিবেশ মারিয়ই তাদের কর্মক্ষেত্রে যোগদান করতে হচ্ছে প্রতিদিন। অন্যদিকে সাধারণ পথচারীদের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এ রাস্তাটি। এমন পরিস্থিতেও এ পর্যন্ত বিষয়টিকে আমলে নেয়নি সিটি কর্পোরেশন।

রাস্তাটিতে চলাচলকারী কয়েকজন সাথে আলাপকালে তারা সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা যেখানে নগর ভবনের কাজ হওয়ার কথা সেখানে তারাই যেন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করতে উঠে পড়ে লেগেছে। এ সকল ময়লা ফেলার স্থান হওয়া দরকার যেখানে মানুষের চলাচল কম সেখানে। অথচ এমন গুরুত্বপুর্ন সড়কে ময়লা ফেলার বিষয়টি আমাদের বোধগম্য নয়।

ডিবিবিএল গ্রুপের পোশাক কারখানার এক নারী শ্রমিক জানান, সারাদিন কর্মক্ষেত্রে কাজের পর ছুটি হলে গেটের সামনে আসলেই নাড়ীভুড়ি ছিড়ে আসে। গেটের সামনে দাড়িয়ে থেকে গাড়িতে উঠার কোন সুযোগ নেই ময়লার গন্ধে। তাই অনেক সময় বাধ্য হয়ে অন্যত্র সড়ে গিয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করি। তিনি বিষয়টি মেয়র মহোদয়ের নিকট তুলে ধরার জন্য প্রতিবেদককে অনুরোধ করেন।

এ বিষয়ে জানতে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থপনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহরাব হোসেনকে সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান,  উল্লেখিত জায়গা আমরা পরিদর্শন করেছি। এ বিষয়টি সমাধানের লক্ষে একটি প্রস্তাবনা জমা দেয়া হয়েছে।

গাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, রাসÍার উপর ময়লা ফেলার বিষয়টি কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তিনি উক্ত স্থানটি পরিদর্শন করে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানান। তিনি বলেন, কড্ডাতে যে স্থানে ময়লা ফেলা হয় সেখানে আর ময়লা ফেলা সম্ভব হচ্ছে না নতুন স্থান খোঁজা হচ্ছে ময়লা ফেলার জন্য। এ বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের সাথে একটি মিটিং করা হয়েছে।   তিনি আরও বলেন,বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছেন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম।