• আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের অচেতন করে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

৬:৩১ অপরাহ্ন | শনিবার, জুলাই ২৫, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি- গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার রামশীল কলেজের শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের খাবারে সাথে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে ফের ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

রামশীল কলেজের সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষক রজত লাল হালদারের বিরুদ্ধে বরিশাল আদালতে একটি ধর্ষণ মামলা চলছে। এরমধ্যেই আবার তার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়রা ওই শিক্ষকে ১ মাসের জন্য সমাজ থেকে আলাদা করে একঘরে করে রেখেছে।

ওই ছাত্রীদের পরিবার থেকে বলা হয়েছে, বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার আহুতি বাট্টা গ্রামের সুধীর রঞ্জন হালদারের ছেলে কোটালীপাড়া রামশীল কলেজের সঙ্গীত শিক্ষক রজত লাল হালদার গত ৫ জুলাই সিঙ্গারার সাথে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে একই বাড়ির একাধিক ছাত্রীকে অচেতন করে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় গত ৯ জুলাই স্থানীয়রা তাকে ১ মাসের জন্য সমাজ থেকে আলাদা করে একঘরে করে রাখে।

আহুতি বাট্টা গ্রামের এক ছাত্রীর অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, রজত আমার মেয়েকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এ প্রস্তাব সে প্রত্যাখ্যান করেছে। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সিঙ্গারার সাথে চেতনানাশক ঔষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে ধর্ষণ চেষ্টা করে। এর আগে সে অনেক মেয়ের জীবন নষ্ট করেছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।

এর আগে রজত লাল হালদার এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বরিশাল নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রইব্যুনালে একটি ধর্ষণ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া ওই শিক্ষক রজত লাল হালদার একজন মাদকাসক্ত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রামশীল ও আহুতি বাট্টা গ্রামের কয়েকজন জানান, তার স্ত্রী ঢাকায় নার্সের চাকরি করে। রজত এলাকায় বসবাস করে। সে একজন নারী লোভী। সে প্রতিদিন মাদকসেবন করে। সে ভাল সংগীত পরিবেশন করে। সংগীত দিয়েই মেয়েদের আকৃষ্ট করে। এছাড়া মেয়ে সাপ্লাই দেয়ার জন্য রামশীল কলেজে তার একটি টিম রয়েছে।

তারা আরো বলেন, তার হাতে নারীরা নিরাপদ নয়। তারপরও তিনি রামশীল মহিলা কলেজের শিক্ষকতা করছেন। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা চলমান থাকার পরও তিনি কিভাবে কলেজ শিক্ষক হিসেবে বহাল থাকেন তা আমাদের বোধগম্য নয়।

কোটালীপাড়ার রামশীল কলেজের অধ্যক্ষ জয়দেব বালা বলেন, শিক্ষক রজতের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির কথা শুনেছি। তিনি চরিত্রহীন। তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা রয়েছে। রজতের জন্য রামশীল কলেজটি কলঙ্কিত হয়েছে। এ কারণে আমরা লজ্জায় মুখ দেখাতে পারছি না। বর্তমানে কলেজ বন্ধ রয়েছে। কলেজ খুললে তার বিষয়গুলো তদন্ত করা হবে। তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফজাল হোসেন জানান, রজত লাল হালদারের বিরুব্ধে একটি ধর্ষণ মামলা রয়েছে। বরিশাল আদালতে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।

অভিযুক্ত রামশীল কলেজের সংগীত শিক্ষক রজত লাল হালদার নারীদের যৌন হয়রানী, ধর্ষণ ও মাদক সেবনের কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি মেয়েদের বাড়িতে ডেকে সিঙ্গারার মধ্যে চেতনানাশক মিশিয়ে খাইয়েছিলাম। সিঙ্গারা খেয়ে তারা অজ্ঞান হয়ে পড়ে। কিন্তু আমি তাদের সম্মান নষ্ট করার কোন চেষ্টা করিনি। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ধর্ষণ মামলা বরিশাল আদালতে চলছে বলে তিনি জানান।