স্যার আমি সব অপরাধের সঙ্গে জড়িত: আদালতে সাহেদ

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- অন্যায় স্বীকার করে বিভিন্ন জনের দাবি করা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলেছেন রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম। রোববার (২৬ জুলাই) তার বিরুদ্ধে চার মামলার রিমান্ড আবেদনের শুনানির সময় এ কথা বলেন সাহেদ।

রিজেন্ট হাসপাতালের করোনা পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতারণার মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড শেষে সাহেদ ও রিজেন্ট গ্রুপের এমডি মাসুদ পারভেজকে আদালতে হাজির করা হয়। দুইঘণ্টা সময় আদালতের হাজতখানায় অবস্থানের পর বেলা ১২টার দিকে সাহেদকে আদালতে তোলা হয়।

তার বিরুদ্ধে এদিন মোট সাতটি মামলায় শুনানি হয়। শুরুতেই রিজেন্টের মামলায় রিমান্ড শেষে তাকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখার আবেদন করে র‌্যাব। আবেদন মঞ্জুর করে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর তাকে সাতক্ষীরায় গ্রেফতারের সময় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় জেলার দেবহাটা থানায় অস্ত্র আইনের মামলায় এবং জাল টাকা উদ্ধারের ঘটনায় র‌্যাবের করা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

সবশেষ তার বিরুদ্ধে উত্তরা পূর্ব ও পশ্চিম থানায় বিভিন্ন জনের করা আর্থিক প্রতারণার চার মামলায় ১০ দিন করে মোট ৪০ দিনের রিমান্ড শুনানি হয়। বিচারক প্রত্যেক মামলায় ৭ দিন করে ২৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়া তার সহযোগী মাসুদ পারভেজকে তিন মামলায় ৩০ দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

রিমান্ড শুনানির একপর্যায়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে সাহেদ নিজেই কথা বলেন। আদালতে সাহেদ বলেন, ‘আমি তো অন্যায় করেছি। সব অপরাধের সঙ্গে আমি জড়িত। দেশের অবস্থা স্বাভাবিক হলে যারা আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে, তাদের সব টাকা-পয়সা পরিশোধ করে দেবো। ’

ঈদের পর রিমান্ড আবেদনের বিষয়ে শুনানির প্রার্থনা জানিয়ে সাহেদ বলেন, ‘গত ১২ থেকে ১৩ দিন ধরে আমি খুব চাপের মধ্যে আছি। আমি আর পারছি না। আমি অসুস্থ। রিমান্ড শুনানিটা ঈদের পর হলে ভালো হয়।

তার বক্তব্যের বিরোধিতা করে ঢাকা মহানগর আদালতের প্রধান কৌশলী আব্দুল্লাহ আবুসহ রাষ্ট্রপক্ষে কয়েকজন আইনজীবী বক্তব্য রাখেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, ‘সাহেদ মানুষের জীবন নিয়ে প্রতারণা করেছেন। তিনি একজন মহাপ্রতারক। আমরা তার জামিনের বিরোধিতা করছি।’

এসময় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে প্রত্যেক মামলায় সাত দিন করে ২৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

গত ৬ জুলাই র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। পরীক্ষা ছাড়াই করোনার সনদ দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আসছিল তারা। র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অন্তত ছয় হাজার ভুয়া করোনা পরীক্ষার সনদ পাওয়ার প্রমাণ পায়।

একদিন পর গত ৭ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশে র‌্যাব রিজেন্ট হাসপাতাল ও তার মূল কার্যালয় সিলগালা করে দেয়। রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ওই দিনই উত্তরা পশ্চিম থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকে সাহেদ পলাতক ছিল। সাহেদের খোঁজে সোমবার মৌলভীবাজারে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হলেও সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি।

এরপর বুধবার (১৫ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত থেকে অবৈধ অস্ত্রসহ সাহেদকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তার বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারের পরই তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।

Sharing is.

Share on facebook
Share with others
Share on google
Share On Google+
Share on twitter
Share On Twitter