গতি এলো বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যে

◷ ১২:১৫ পূর্বাহ্ন ৷ সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২০ খুলনা
bena

বেনাপোল প্রতিনিধি: গতি এলো বাংলাদেশ ভারত বাণিজ্যে। দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল বন্দর দিয়ে স্থলপথের পাশাপাশি এই প্রথম রেলপথে ভারত থেকে ২৫টি ফ্ল্যাট ওয়াগানের মাধ্যমে ৫০টি কন্টেইনারে ৮ জন আমদানিকারকের ৬৪০ মেট্রিক টন গার্মেন্টস, কসমেটিক্সসহ বিভিন্ন প্রকারের পণ্য আমদানি হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুর আড়াইটায় কন্টেইনার রেলটি ভারতের পেট্রাপোল বন্দর হয়ে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। এসময় কাস্টমস কমিশনার আজিজুর রহমান ফিতা কেটে সাইড ডোর কন্টেইনারে আমদানি বাণিজ্যের শুভসূচনা করেন।

এর আগে ভারত থেকে সড়ক পথেই বেশির ভাগ পণ্য আমদানি হতো। ২০২০ সালের মার্চ থেকে কভিড-১৯ সম্পর্কিত বিধিনিষেধের কারণে দু‘দেশের মধ্যে পরিবহন পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে তার প্রভাব পড়ে। তার ওপর সড়ক পথে পণ্য আমদানিতে বেনাপোলের বিপরীতে বনগাঁ পৌরসভার কালিতলা পাকিংএ একটি সিন্ডিকেটের চাঁদাবাজিসহ আমদানি পণ্যের ট্রাক দিনের পর দিন আটকে রেখে ডিটেনশন আদায়সহ নানাভাবে হয়রানির কারণে আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছিল। ফলে আমদানিকারকদের খরচ বেড়ে দাঁড়াচ্ছিল দ্বিগুণ। অনেক আমদানিকারক মুখ ঘুরিয়ে নেয় এ বন্দর থেকে। তাদের অত্যাচার থেকে বন্দরকে রক্ষা করতে ট্রেনে পণ্য আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় দুই দেশের সরকার।

ভারতীয় হাই কমিশন সরবরাহ শৃঙ্খলার এই বিঘ্ন হ্রাস করতে বাংলাদেশ রেল কর্তৃপক্ষকে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পার্সেল, কার্গো ট্রেন পরিষেবা সহজতর করার প্রস্তাব দিয়েছিল। পরে বাংলাদেশ ও ভারতের কাস্টমসের যৌথ প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ-ভারত রেলওয়ে এই সেবাটি বাস্তবায়ন করে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অনুমতি দেওয়ার পর ট্রেনে শুরু হয় পণ্য আমদানি। ট্রেনে কন্টেইনারের মাধ্যমে পণ্য আমদানি হলে আমদানিকারকের পণ্যের নিরাপত্তাসহ সময় ও খরচ উভয় বাঁচবে।

বেনাপোল কাস্টম কমিশনার মো. আজিজুর রহমান বলেন, কভিড-১৯ করোনার শুরুতে উভয় দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছিল। আজ কন্টেইনার এর মাধ্যমে আমদানি-বাণিজ্য শুরুতে আমাদের স্টক হোল্ডারসহ সকল ব্যবসায়ীর বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। এতে সময় খরচ যেমন বাঁচবে তেমনি যথেষ্ট নিরাপত্তাও রয়েছে। ভারত থেকে রেলযোগে মালামাল আসলে আমাদের রেল খাতেও উন্নয়ন হবে। বন্দর একটি চার্জ পাবে। ব্যবসায়ীদের খরচ কম হবে। আগে সাধারণ রেলে পণ্য এসেছে ভারত থেকে। এখন থেকে কন্টেইনার এর মাধ্যেমে পণ্য আসা শুরু হলো।

এই কন্টেইনার রেল মুভমেন্ট এর ফলে দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক যেমন উন্নয়ন হবে ঠিক তেমনি দু’দেশের ব্যবসায়ীগণ উপকৃত হবেন। বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বরাবরই মজবুত। এই পরিসেবার মাধ্যমে সেই সম্পর্ক আরও বৃদ্ধি পাবে বলে ব্যবসায়ীদের অভিমত।