• আজ রবিবার, ১৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ২৮ নভেম্বর, ২০২১ ৷

মানিকগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, দুর্ভোগ চরমে


❏ সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

দেওয়ান আবুল বাশার, স্টাফ রিপোর্টার: মানিকগঞ্জের আরিচা পয়েন্টের যমুনা নদীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৮০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।

জেলার অন্যান্য নদ-নদীগুলোর মধ্যে পদ্মা, কালিগঙ্গা, ধলেশ্বরী, ইছামতি নদীগুলো এখন পানিতে ফুলে ফেঁপে ভয়ংকর রুপ নিয়েছে। বন্যার পানিতে প্রতিনিয়তই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এসব এলাকার বহু রাস্তাঘাট।

ইতিমধ্যেই সদর উপজেলার আউটপাড়া ও সাটুরিয়া উপজেলার বাজেয়াপ্ত ভাটরাসহ বেশ কিছু এলাকায় বন্যার পানিতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

জেলার সিংগাইর উপজেলা কিছু অংশসহ সাত উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ এখন পানিবন্দি অবস্থায় দিনযাপন করছে। বন্যার পানি ও ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার দৌলতপুর, শিবালয় এবং হরিরামপুর উপজেলা তবে শহরের বান্দুটিয়া চকপাড়া সহ আশপাশের অবস্থাও এখন অস্বাভাবিক রুপ নিয়েছে। এসব এলাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থায় যথেষ্ট অসচেতনতার অভাবে দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌছেছে।

হরিরামপুর উপজেলা পরিষদ চত্বর, মানিকগঞ্জ জেলখানা এবং ঢাকা আরিচা মহাসড়কের উথুলী সংযোগ সড়কে প্রবেশ করেছে বন্যার পানি। এছাড়াও মানিকগঞ্জ সদর, ঘিওর এবং সাটুরিয়া উপজেলার বেশিরভাগ এলাকা বন্যার পানিতে ভরপুর হয়ে আছে।

বঙ্গবন্ধু পেশাজীবি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, হরিরামপুর উপজেলা শাখার সভাপতি, সাঈদ হোসেন বলেন, হরিরামপুরে বন্যার অবস্থা ত্রমেই চরম অবনতির দিকে ধাপিত হচ্ছে, ইতিমধ্যেই বেশিরভাগ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার না হলে অবস্থা ভয়ংকর পর্যায়ে পৌছে যাবে। সরকারের পাশাপাশি হরিরামপুরের বিত্তবানদেরও সহোযোগিতার হাত বাড়ানোর আহবান জানান তিনি।

সাটুরিয়া উপজেলার রৌহা এলাকার তরুণ সমাজ সেবক বুলবুল আহমেদ জানান, বন্যার পানি উপজেলার বেশিরভাগ এলাকা প্লাবিত হয়ে দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে।

দৌলতপুর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক ফয়জুল ইসলাম নাজমুল জানান, দৌলতপুরে বন্যায় ইতিমধ্যেই বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, ভাঙন আর বন্যা এলাকায় মানবিক অবস্থার সৃষ্টি করেছে, কিছু ত্রাণ কার্যক্রম চলমান থাকলেও তা যথেষ্ট নয়। এভাবে পানি দীর্ঘদিন থাকলে পানিবাহিত নানা রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটবে বলেও জানান তিনি।

জেলায় বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে অধিকাংশ কৃষকের ফসলি জমি। ঘরবাড়ি এবং কৃষি জমি তলিয়ে যাওয়ায় গৃহপালিত পশু নিয়ে বিপাকে রয়েছে তারা। খাদ্য সংকটের পাশাপাশি বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব রয়েছে বন্যা কবলিত এলাকায়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত ত্রাণ বিতরণ করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুব সামান্যই বলে জানিয়েছে বন্যা কবলিত এলাকার জনগণ। এখনো ত্রাণ থেকে বঞ্চিত রয়েছে অধিকাংশ মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে রয়েছে চরাঞ্চলের বাসিন্দারা।

মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌস বলেন, জেলার ২৩৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় করে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

শিশু খাদ্য ও গো-খাদ্যের জন্য নগদ অর্থ বরাদ্দ রয়েছে বলেও জানান তিনি।