• আজ মঙ্গলবার, ১২ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ২৭ জুলাই, ২০২১ ৷

শফিউল বারীর প্রতি বিএনপির শেষ শ্রদ্ধা, গুমরে কাঁদলেন নেতাকর্মীরা


❏ মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২০ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মরহুম শফিউল বারী বাবুর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

মঙ্গলবার সকালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ নেতৃবৃন্দ তার কফিনে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরআগে তার কফিন বিএনপির পতাকা দিয়ে ঢেকে দেন বিএনপি মহাসচিব।

সকাল ১০টায় দলীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে শফিউল বারী বাবুর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মো: শাহজাহান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, হাবিবুর রহমান হাবিব, রুহুল কবির রিজভী, হাবিব উন নবী খান সোহেল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, যুবদলের সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, সাইফুল ইসলাম ফিরোজসহ সহাস্রাধিক নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। নামাজে ইমামতি করেন ওলামা দলের মাওলানা শাহ নেছারুল হক।

জানাজার আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে বলেন, আজকে শফিউল বারী বাবুর জানাজায় উপস্থিত হতে হবে এটা আমরা কল্পনাও করিনি। বাবু শুধু স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন না, তিনি বিএনপির একটা প্রাণ ছিলেন। অসংখ্য নেতা-কর্মী সারাদেশে তার হাতে তৈরি হয়েছে এবং বিএনপির অঙ্গসংগঠনের মধ্যে এই ধরনের ত্যাগী, মেধাবী, বুদ্ধিমান, নিবেদিতপ্রাণ নেতা খুব কম আছে। বাবুকে হারিয়ে আমরা আমাদের একটা অমূল্য সম্পদকে হারালাম। বিএনপির এই সৈনিক, শহীদ জিয়াউর রহমানের এই সৈনিক, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এই সৈনিক, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এই সৈনিক কখনো পেছনে ঘুরে তাকাননি। আন্দোলনে, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে তার ভূমিকার কোনো তুলনা হয় না। আমি তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি, আল্লাহ তায়ালা যেন তাকে বেহেশত নসিব করেন।

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল ও মরহুম বাবুর বড় ভাই সাহেদুল বারীও বক্তব্য রাখতে গিয়ে মরহুমের অবদানের কথা বলতে গিয়ে গুমরে গুমরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু আজ ভোর রাত ৪টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিউল বারী বাবু ক্যান্সারে ভুগছিলেন। এ ছাড়া বেশ কিছুদিন ধরে ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছিলেন তিনি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫১ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

বিএনপির চেয়ারপারসনের গণমাধ্যম শাখার সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট থাকায় গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুকে রাজধানী ধানমণ্ডির আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাত পৌনে ২টার দিকে তাঁকে এভার কেয়ার হাসপাতালে (সাবেক এ্যাপোলো) স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন