সংবাদ শিরোনাম

জমি সংক্রান্ত বিরোধে ভাইয়ের হাতে বোন খুন!টাঙ্গাইলে রাতের অন্ধকারে অতর্কিত হামলায় কলেজ ছাত্র নিহতফেনীর সোনাগাজী পৌর মেয়রের জমির শ্রেনী পরিবর্তন করে রাজস্ব ফাঁকি‘ভারতে যারাই ক্ষমতায় এসেছে, তারাই মুসলমানদেরকে শিক্ষা থেকে দূরে রেখেছে’দাপুটে জয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশেরসাজার বদলে আদালত থেকে দেয়া হলো বই, ১০ শর্তে মুক্তি পেলো ৪৯ শিশুকুয়াকাটায় সৈকতে ডিগবাজি দিতে গিয়ে পর্যটকের মৃত্যুঠাকুরগাঁওয়ে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ডশাহজাদপুরে বসতবাড়িতে চোরাই তেলের অবৈধ গোডাউনে ভয়াবহ আগুন, ৩ জন দগ্ধটাঙ্গাইলে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে যুবক গ্রেফতার

  • আজ ৭ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শেরপুরে পিতার হাতে পুত্র খুন, চার মাস পর রহস্য উম্মোচন করল পুলিশ!

◷ ৯:২০ অপরাহ্ন ৷ বুধবার, জুলাই ২৯, ২০২০ রাজশাহী
thana

বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুরে দীর্ঘ চার মাস নিরবিচ্ছিন্ন পুলিশি তদন্তে উন্মোচিত হল আব্দুর রশিদ (৪৫) হত্যাকান্ডের মূল রহস্য। জমিজমা সহ ভিটা মাটির ভাগ বাটোয়ারা ও পারিবারিক কলহের জের ধরেই এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে বলে মামলা তদন্তকালে প্রকাশিত হয়েছে।

এই ঘটনায় শেরপুর থানা পুলিশ ৬ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে ২৯ জুলাই বুধবার আদালতে সোপর্দ করেছে, এবং আব্দুল বারেককে ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রার্থনা করে।

আটককৃতরা হলেন, মৃত আব্দুর রশিদের ছোট ভাই মোঃ বাবলু মিয়া (৩২) ও তার পিতা-মোঃ ময়েজ উদ্দিন (৭০), পারভবানীপুর গ্রামের আঃ রশিদের ছেলে আঃ বারেক (৩০), ঘোড়দৌড় গ্রামের মৃত কাদের বক্স মুন্সির ছেলে মোঃ ইয়াছিন আলী মুন্সি (৫৪), আবুল হোসেনের ছেলে মোঃ হাফিজার রহমান (৫০) ও মোঃ আফজাল হোসেন (৫৬)।

উল্লেখ্য যে, শেরপুর উপজেলার ঘোড়দৌড় নতুনপাড়া গ্রামের জনৈক ময়েজ উদ্দিন এর বড় ছেলে আব্দুর রশিদকে (৪৫) গত ২৩ মার্চ অজ্ঞাতনামা দুস্কৃতিকারী হত্যা করে লাশ ঘোড়দৌড় গ্রামের আঃ হালিমের ডোবার মধ্যে নৌকার সাথে বাধা অবস্থায় পানির নিচে ডুবিয়ে রেখে যায়। এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ইয়াছিন আলী মুন্সি আদালতে জানান যে, তিনি ২৩ তারিখ রাত ১২ টার পরে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বের হয়ে দেখেন কয়েকজন লোক ডোবায় কিছু করছে।

এত রাতে তারা কি করছে কৌতুহলবশত দেখার জন্য এগিয়ে গেলে আসামীরা তার হাত পা ধরে এবং সে যেন বিষয় কাওকে না বলে এ জন্য সকাল ১০ টার মধ্যে ১ লাখ টাকা দিতে চায়। পরে বিকাল পর্যন্ত টাকা না দিলে সে ২৪ মার্চ বিকাল ৫ টায় ডোবা থেকে নৌকা টেনে এনে আঃ রশিদ এর লাশ বের করে।

২৪ মার্চ মৃত আঃ রশিদের লাশ ডোবায় পাওয়া গেলে শেরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং মৃত আঃ রশিদের লাশ ময়না তদন্তের জন্য শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ মর্গে প্রেরণ করেন। এরপর পুলিশ নিবিড় তদন্ত শুরু করে। তদন্তকালে মৃতের পরিবারের লোকজন সহ উক্ত এলাকার সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পুলিশ মামলার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য বিভিন্ন ধরনের কৌশল অবলম্বন করে। বগুড়া পুলিশ সুপার মোঃ আলী আশরাফ ভূঞা-বিপিএম বার প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে ও নির্দেশনায় শেরপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ গাজিউর রহমানের নেতৃত্বে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান সার্বক্ষনিক কৌশল অবলম্বন করে। থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোঃ আবুল কালাম আজাদ ও তদন্তকারী অফিসার এস.আই মোঃ ফজলুল হকের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মামলার রহস্য উম্মেচন হয়।

গ্রেফতারকৃত ইয়াছিন আলী মুন্সি ২৮ জুলাই আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

এ প্রসঙ্গে শেরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, গ্রেফতারকৃতদের মাঝে ১ জন আসামী ঘটনার সাথে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেআদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। বর্তমানে মৃত আব্দুর রশিদের ছোট ভাই মোঃ বাবলু মিয়া (৩২) ও মৃতের পিতা-মোঃ ময়েজ উদ্দিন (৭০) উভয়ে দুই দিনের পুলিশ রিমান্ডে থানা হেফাজতে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে আছে।