🕓 সংবাদ শিরোনাম

চাঁদাবাজি ও পেটানোর অভিযোগে ঢাবি ছাত্রলীগের নেতা গ্রেপ্তারভাইরাল হওয়া ফোনালাপ নিয়ে যা বললেন ভিকারুননিসা অধ্যক্ষএসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা হবে ৩ বিষয়েসরকারি হাসপাতালে ডাক্তারদের ডিউটি ফাঁকিতে ভোগান্তী পোহাচ্ছে সাধারণ রোগীরাসালথায় আম গাছ থেকে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার বোয়ালমারীতে সংঘর্ষে মৃত্যুর ঘটনায় ২৯ জনের নামে মামলা মাগুরায় অক্সিজেন সিলিন্ডার ও ক্যানোলাসহ বিভিন্ন উপকরণ বিতরণফুলবাড়ীতে প্রচন্ড তাপদাহে পল্লী বিদ্যুতের লুকোচুরি, জনজীবন অতিষ্ঠসোনারগাঁওয়ে করোনা শনাক্তের হার শতভাগ!ভাঙ্গায় রেল প্রজেক্টের সামগ্রী চুরির ঘটনায় গ্রেফতার ৫

  • আজ সোমবার, ১১ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ২৬ জুলাই, ২০২১ ৷

কালকিনিতে নদীগর্ভে বিলিন অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি, ভাঙনরোধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন


❏ বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

এইচ এম মিলন, কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি- মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার আলীনগর এলাকার চরহোগল পাতিয়া গ্রামের অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি আড়িয়াল খা নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এ নদীর তান্ডবে ভিটামাটি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ওই এলাকার অনেক সাধারণ মানুষ।

এছাড়া নদীগর্ভে বিলিন হতে চলেছে শতাধিক বাড়িঘর ও ঐতিহ্যবাহি চর হোগল পাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। হয়তো যে কোন মুহুর্তে ওই বিদ্যালটিকেও পুরোপুরিভাবে কেড়ে নিতে পারে আগ্রাসী হয়ে ওঠা আড়িয়াল খাঁ নদী। এতে করে ভয়-আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নদীর পাড়ের ৫ গ্রামের মানুষ।

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে আড়িয়াল খাঁ নদী ভাঙ্গনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে এক মানববন্ধন করেছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।

সরেজমিন ও স্থানীয় লোকজনেরা জানান, উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দুরে রয়েছে চরহোগল পাতিয়া গ্রাম। এ গ্রামের একেবারে পাশ দিয়ে বয়ে গেছে আড়িয়াল খাঁ নদী। এ গ্রামটি প্রত্যান্তঞ্চলে হওয়ায় অবহেলিতভাবে পড়ে আছে। বিগত দিনেও নদী গর্ভে চলে গেছে এ গ্রামের অনেক গাছপাল, বাড়িঘর ও কয়েকশ’ একর ফসলি জমি। তখন কেউ এগিয়ে আসেনি এ গ্রামের মানুষের পাশে।

বর্তমানে একমাত্র ১৫১ নং চরহোগলপাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারপাশেই তীব্র ভাঙ্গনে মাটি সরে গেছে। এতে করে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বিদ্যালয়টি অনেক আগে থেকেই বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে পুনরায় একের পর এক আড়িয়াল খাঁ নদীর পেটে চলে গেছে আলী তালুকদার, সোবহান তালুকদার ও কামাল তালুকদারসহ প্রায় অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি ও ধান,পাটসহ বিভিন্ন প্রকার ফসলি জমি।

ভাঙ্গন ঝুকিতে রয়েছে শতাধিক বসতবাড়িসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা। বর্তমানে হোগলপাতিয়া, চর হোগলপাতিয়া, ফুলবাড়িয়া-গজারিয়া ও রাজারচরসহ ৫টি গ্রামের মানুষ নদী ভাঙ্গন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। গ্রামের অবহেলিত চরহোগল পাতিয়া গ্রামের মানুষেরা বর্তমানে সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোন প্রকার ত্রানও পাননি। পানিবন্ধি হয়ে কাজকর্ম না করতে পেরে এখন খাদ্য অভাবে দিন কাটাতে হচ্ছে অনেকের। কিন্তু দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারিভাবে কোন ব্যবস্থ্য না নেয়া হলে পুরো চরহোগল পাতিয়া গ্রাম যে কোন মুহুর্তে বিলিন হতে পারে।

চরহোগল পাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা বেগম বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙ্গন রোধ করা না গেলে অচিরেই হয়তো আমাদের বিদ্যালয়ের অস্তিত্বই হারিয়ে যাবে।

ক্ষতিগ্রস্ত রহিমা বেগম ও আয়শা বেগমসহ বেশ কয়েকজন বলেন, আড়িয়াল খাঁ নদী আমাগো ঘরবাড়ি, জায়গা জমি সব কেড়ে নিয়ে গেছে। ভাঙ্গন রোধ না করা হলে আমাগো বাকি যা আছে সব নদী চলে যাবে আমরা গ্রামবাসি নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে বাঁচতে চাই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহেদ আলী বলেন, নদী ভাঙ্গনে সব বিলিনের পথে চলে যাচ্ছে। আমি চেষ্টা করছি ভাঙ্গন কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।

আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান মিলন বলেন, স্কুলটি বাঁচাতে ও আড়িয়াল খাঁ ভাঙ্গন বন্ধ করতে বহুবার প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছি। তবে দুঃখের বিষয় এখনো কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তবে ত্রাণ সহায়তার চেষ্টা চালাচ্ছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু আড়িয়া খাঁ নদীর তীব্র স্রোতের কারণে কোন কাজ হচ্ছেনা। স্রোতের তোরে সব নদীতে চলে যাচ্ছে। স্কুল রক্ষার জন্য সকল চেষ্টা অব্যহত আছে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন