সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৩রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

যোবায়েদ আহসানঃ একজন অন্য রকম লেখক

◷ ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন ৷ রবিবার, আগস্ট ২, ২০২০ ফিচার
Jobaed Ahsan

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সময়ের কণ্ঠস্বর: ’যোবায়েদ আহসান’ ফেসবুক ব্যবহারকারী অনেকের কাছেই একটি পরিচিত নাম। ফেসবুকে বেশ কয়েকটি সিরিজ গল্প এবং উপন্যাস লিখেছেন তিনি। যার সব গুলোই পাঠক প্রিয় হয়েছে। তার গল্পে নির্মিত নাটক ”গজদন্তিনী” বর্তমান বছরে জনপ্রিয়তার শীর্ষে ।

মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের ছাত্র যোবায়েদ আহসান কলেজ পাঠ চুকিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিষয় নিয়ে। পপুলেসন সায়েন্সে মাস্টার্স করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। অতঃপর ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ করেছেন। বর্তমানে  ঢাকার বনানী এলাকায় তার নিজের একটি এডভার্টাইজিং এজেন্সি আছে।

যোবায়েদ আহসানের জন্ম এবং বেড়ে উঠা জামালপুরে। তবে তার আদিনিবাস বগুড়ায়। স্ত্রী, এক ছেলে এবং মেয়েকে নিয়ে বর্তমানে ঢাকাতেই তার বসবাস। পুত্র স্ট্যান্ডার্ড থ্রি, কন্যার বয়স মাত্র ২ বছর, আর স্ত্রী একটা নামকরা বিজ্ঞাপনী সংস্থায় ব্র্যান্ড ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত।

73375410 10156634912199080 2907228380153774080 n

শুধু ভালো ছাত্র ছিলেন বা ভালো ব্যবসায়ী  যোবায়েদ আহসান এমনটি নয়, হিউমার আর  প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা তাঁর জীবন। দেশ এবং সমাজকে নিয়ে ভাবেন অন্য দশ জনের থেকে একটু আলাদা করে, থাকতে পছন্দ সামাজিক ভাবেই। নিয়মের মধ্যে চলতে দেখতে চান দেশ এবং দেশের মানুষকে।

এরই ধারাবাহিকতায় ফেসবুকে প্রতিবাদ করেই প্রথম আলোচনায় আসেন যোবায়েদ আহসান। ২০১৭ সালের জুলাই মাসের ১৮ তারিখে গণভবনের সামনে উল্টোপথে আসা এক ভিআইপির গাড়ি ঘুড়িয়ে দেয়ার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যোবায়েদ আহসান মানুষের কাছে পরিচিত হয়েছেন একের পর এক গল্প এবং উপন্যাস লিখে। বর্তমানে বাণিজ্যিক যুগে টাকার বিনিময় ছাড়া যখন কেউ কিছু বিনিময় করতে চায় না ঠিক সেই সময়টাতে  শুধুমাত্র পাঠকদের কথা মাথায় রেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেই তিনি একের পর এক গল্প উপন্যাস লিখে যাচ্ছেন। অসাধারণ ভালোবাসার ছোট গল্প ছাড়াও  ওসি-হতনামা এবং  হাকুল্লা এই দুটি অপূর্ব উপন্যাস মলাটবন্দি হয়েছে ইতোমধ্যেই।  এবারের ভ্যালন্টাইন ডে তে তার রচিত নাটক ‘গজদন্তিনী’ ২০২০ এর অন্যতম সেরা নাটক হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।

লেখালেখির জগৎতে পা রাখার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে যোবায়েদ আহসান সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, আমি ক্যাডেট কলেজে পড়তাম। সবাই জানে ক্যাডেট কলেজের ছাত্ররা খুব দুষ্ট হয়। কিন্তু এটা জানে না ক্যাডেটরা সবাই একটা বিষন্নতায় ভুগে। এই বিষন্নতাকে আড়াল করতেই তাদের এই দুষ্টামি।  তো, এই বিষন্নতা কাটানোর জন্য দুষ্টামির পাশাপাশি আমি দুটো কাজ করতাম। এক ডায়রি লিখতাম, দুই লিখতাম চিঠি । আমার লেখালেখি মূলতঃ এখান থেকেই শুরু।

যোবায়েদ আহসান আরও বলেন, ডায়রিতে নিজের অনুভূতিগুলো লিখে রাখতাম। আর চিঠি লিখতাম বাবাকে, মাকে, ভাই বোনকে, বন্ধুদের, বান্ধবীদের, পাড়ার বড় বোনদের,  কাল্পনিক প্রেমিকাদের ( এখনকার ভাষায় যাদেরকে “ক্র্যাশ” বলে – আমাদের সময় এই শব্দটা পরিচিত ছিলো না।) কলেজের দেয়াল পত্রিকা অথবা কলেজ ম্যাগাজিন, কোন একটায় জীবনের প্রথম ছাপার অক্ষরে লেখা।  এরপর কলেজ থেকে বের হয়ে ইউনিভার্সিটিতে আসতে আসতে মোবাইলের দাপটে ডায়রি এবং চিঠি হারিয়ে গেলো আর আমার লেখালেখিও গেলো থেমে। বেশ কয়েক বছর কলম থেকে দূরে ছিলাম।

 ২০১০/১২ সালে অভ্রের কল্যাণে আবার বাংলা টাইপ করতে পারা।  তাই রাস্তায় জ্যামে বসে সময় নষ্ট না করে আবার লেখালেখির শুরু। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, লেখা লেখি যা করি তার নব্বই শতাংশই জ্যামে বসে করি। দুইটা উপন্যাস ও নামিয়েছি এই জ্যামে বসেই। সত্যি বলতে কী, এই অভ্র আর ঢাকা শহরের জ্যাম না থাকলে আমার লেখালেখি হতো না।

যোবায়েদ আহসানের মতে ফেসবুক এবং অভ্র – এই দুটো জিনিস বাংলা সাহিত্যকে পুনর্জন্ম দিয়েছে। আমরা বাংলা অলমোস্ট ভুলতে বসছিলাম। হিন্দি/ইংরেজির আগ্রাসনে “আমি তোমাকে ভালোবাসি”র মতো পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর কবিতাটাও “ম্যা তুমছে পেয়ার করতা হু ” দিয়ে হারিয়ে যেতো। অভ্র এবং ফেসবুক আমাদের  অনেককেই বাংলায় লেখার অভ্যাসটা করে দিয়েছে।

11725397 10155785410105175 520740397 o

লেখা লেখির জন্য ফেসবুককেই কেন প্রাধান্য দিচ্ছেন এমন এক প্রশ্নের জবাবে যোবায়েদ আহসান জানান, আমার একটা উপন্যাসের ধারাবাহিক টিজার দিয়েছিলাম ফেসবুকে, যত লাইক কিংবা কমেন্ট পড়েছিল, তার অর্ধেক লোক ও বইটা কিনে নাই – আবার যারা কিনেছিলো তাদের মধ্যে ৭০% লোকই বইটা পড়েন নাই -ভদ্রতা করে কিনেছেন। আমরা নতুন লেখকরা কিন্তু ক্রেতা চাই না – পাঠক চাই।  এটাই বাস্তবতা। মানুষ এখন ব্যস্ততার কারণে বাসায় বই পড়ার সময় পান না। জ্যামে বসে ফেসবুক পড়াতেই মানুষের আনন্দ।  এতে দুঃখের কিছুই নেই। এটাই বাস্তবতা। এটা মেনে নিতে হবে।  একারণেই আমি এখন আর বই বের করছি না – লেখা লেখি যা ফেসবুকেই লিমিটেড।  তিনি বলেন, মানুষকে আমার লেখাটা পড়ানোটাই বড় কথা – সেটা বই হিসেবে হোক আর পোস্ট হিসেবে।

বর্তমানে নাটকের জন্য লেখা লিখি করছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে যোবায়েদ আহসান বলেন, আমি নাটকের জন্য মূলত লিখি না, আমি গল্প লিখি। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশে ভালো মানের গল্পে নির্মত হয়েছে নাটক তবে বর্তমানে কেন হয় না এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, বছরে  নাটক সিনেমার জন্য ৪/৫টি গল্প লিখে যদি সারা বছর চলতো তাহলে নাটক সিনেমার জন্য ভালো মানের গল্পকার আসতো। বিষয়টি হয়েছে কি এখানে ইনভেস্টমেন্ট করতে হবে যারা নাটক সিনেমা তৈরি করেন তাদের, তাহলেই ভালো মানের গল্প বেড়িয়ে আসবে। যে গল্পে ভালো নাটক, সিনেমা তৈরি করা সম্ভব।

যোবায়েদ আহসান আগামীতে ফেসবুকেই তার গল্প এবং উপন্যাসের সিরিজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান। তিনি আবারো স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ক্রেতাদের জন্য গল্প বা উপন্যাস লিখতে চাই না, লিখতে চাই পাঠকদের জন্য।