‘শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন সঠিক নেতৃত্বে দুর্যোগ মোকাবেলা করা সম্ভব’- তথ্যমন্ত্রী

১১:৩৫ অপরাহ্ণ | সোমবার, আগস্ট ৩, ২০২০ জাতীয়
minister

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিশেষজ্ঞদের মতামতকে ভুল প্রমাণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন সঠিক নেতৃত্ব দিতে পারলে দুর্যোগ মোকাবিলা সম্ভব।

সোমবার (৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক মো: শামসুল ইসলাম। এসময় সিইউজে নেতৃবৃন্দ তথ্যমন্ত্রীকে বিভিন্ন দাবি-ধাওয়া সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন।

তিনি বলেন, আমাদের দেশের বিরোধী দল ঘরের মধ্যে বসে অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে টেলিভিশনে উঁকি দিয়ে দিয়ে কথা বলে, ঘর থেকে বের হয় না। উঁকি দিয়ে কথা বলে সরকারের সমালোচনা করে।

“আমরা একদিনও বসে ছিলাম না। জনগণের পাশে থাকতে গিয়ে আমাদের দলের অনেক নেতা, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী আক্রান্ত হয়েছেন, মৃত্যুবরণ করেছেন। আমরা জানি করোনাভাইরাস আক্রান্ত হলে কি হতে পারে। সেটি মাথায় রেখেই কাজ করেছি। সংকট মোকাবিলায় জনগণের পাশে থাকতে শেখ হাসিনা আমাদেরকে এমন শিক্ষা দিয়েছেন।”

তথ্যমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস শুরু হওয়ার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা মাথায় রেখে নানা ধরনের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। সাংবাদিকদের মধ্যে যারা বেতন পাচ্ছে না, যারা চাকরিচ্যুত কিংবা দীর্ঘদিন ধরে বেকার এই তিন ক্যাটাগরির সাংবাদিকদের যাতে অসুবিধা না হয় সেজন্য এককালীন সহায়তা প্রদান করার জন্য তিনি আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে আমরা প্রথম ধাপে সারাদেশে দেড় হাজার সাংবাদিকদের এককালীন ১০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক হস্তান্তর করেছি। এটি এই দেড় হাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরবর্তী পর্যায়ে আরও চেক বিতরণ করা হবে।

ড. হাছান বলেন, আপনারা জেনে খুশি হবেন, আমাদের আশপাশের দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কায়ও সাংবাদিকদের এ ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে না। সেখানে সহায়তা করা হচ্ছে শুধুমাত্র যারা করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন তাদেরকে। আমরাও সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে করোনাভাইরাসের কারণে কেউ যদি মৃত্যুবরণ করে তাহলে তাদেরকেও এককালীন তিন লাখ টাকা করে অনুদান দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে দেয়া হয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের মধ্যে প্রথম মাসে সবকিছু বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে অনেক কিছু খুললেও এখনো অনেক কিছু খুলেনি। কিন্তু সাংবাদিকদের কাজকর্ম কখনো বন্ধ ছিল না। সাংবাদিকরা এই করোনাভাইরাসের মধ্যে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছেন। সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশন করেছেন, যে কারণে পত্রিকা বের হয়েছে এবং টেলিভিশনে সংবাদ পরিবেশিত হয়েছে।

তিনি বলেন, সাংবাদিক ভাই-বোনেরা যদি এভাবে ঝুঁকি নিয়ে কাজ না করতো তাহলে পত্রিকায় ও টেলিভিশনের সংবাদ পরিবেশন করা সম্ভব হতো না। একারণে বহু সাংবাদিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন।

এই পরিস্থিতিতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে তিনি শুরু থেকেই সংবাদপত্র টেলিভিশন এবং অনলাইন মিডিয়ার মালিকপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছিলাম যাতে সাংবাদিক ভাই-বোনদের বেতন ভাতা ঠিকমতো দেয়া হয়- উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে এমন কোনও সেক্টর নাই যেখানে নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বিশ্বব্যাপী এটি হচ্ছে চিত্র। তাই আমি বারবার অনুরোধ জানিয়েছিলাম এই করোনাভাইরাসের মধ্যে আমরা কষ্টটা যেন ভাগ করে নিই।

তিনি আরও বলেন, এই দুর্যোগ কিন্তু সব সময় থাকবে না। তাই দুর্যোগের সময় আমাদের অসুবিধা হলেও আমি সমস্ত গণমাধ্যমের কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাবো সাংবাদিকদের বেতন ভাতা যতোটুকু সম্ভব সঠিক ভাবে যেন পরিশোধ করা হয়।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবিলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক দেশের তুলনায় সফলভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে। যদি তাই না হতো তাহলে আমাদের দেশে মৃত্যুর হার এত কম হতো না। মৃত্যুর হার উন্নত দেশগুলোর চেয়ে তো কম বটেই এমনকি আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার ভারত পাকিস্তানের চেয়েও কম।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রথম দিকে চট্টগ্রামে অনেক অসুবিধা ছিল, আইসিইউ বেড থেকে শুরু করে নরমাল বেডের সমস্যা ছিল। আজকে আইসিইউ বেড খালি আছে, নরমাল বেডও খালি। প্রথমদিকের পত্র-পত্রিকায় যে সংবাদগুলো এসেছে সেগুলো আমার চোখে পড়েছে। চট্টগ্রামে রোগী ৫’শ, বেড আছে ৪’শ এধরণের খবর পরিবেশিত হয়েছে। খবর বাসস।