এবার দুই সহকর্মীকে গুলি করে হত্যা করলেন বিএসএফ সদস্য

৪:৩৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, আগস্ট ৪, ২০২০ আন্তর্জাতিক
bbb

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) এক সদস্যের গুলিতে নিহত হয়েছে তার দুই সঙ্গী। মঙ্গলবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে এই খুনোখুনির ঘটনা ঘটে। খবর নিউজ এইটটিনের

অভিযুক্ত জওয়ান উত্তম সূত্রধর গুলি চালান তারই দুই সহকর্মীকে। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বিএসএফ ইন্সপেক্টর মহিন্দর সিং ভাট্টি ও কনস্টেবল অনুজ কুমারের।

অল্প সময়ের মধ্যে নিজেই সীমান্ত চৌকির কমান্ডারের কাছে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ এর মালদাখণ্ড সীমান্ত চৌকিতে।

গুলিবিদ্ধ মৃত বিএসএফ ইন্সপেক্টর মহিন্দর সিং ভাট্টি ও কনস্টেবল অনুজ কুমারের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রায়গঞ্জ থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয় বিএসএফ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রায়গঞ্জ থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রায়গঞ্জ থানার ভাতুন গ্রামপঞ্চায়েতের ভারত- বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকার মালদাখন্ড সীমান্ত চৌকির বর্ডার রোডে চৌকির কাজে যুক্ত ছিলেন বিএসএফ এর ইন্সপেক্টর মহিন্দর সিং ভাট্টি, কনস্টেবল অনুজ কুমার এবং বিএসএফ জওয়ান উত্তম সূত্রধর। সোমবার রাতে তাঁরা সীমান্ত প্রহরায় দায়িত্বে ছিলেন।

মঙ্গলবার ভোররাতে সাড়ে তিনটে নাগাদ আচমকাই বিএসএফ জওয়ান উত্তম সূত্রধর তার স্বয়ংক্রিয় রাইফেল থেকে অপর দুজনকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছুঁড়তে থাকে। সীমান্তেই ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় বিএসএফ ইন্সপেক্টর মহিন্দর সিং ভাট্টি ও কনস্টেবল অনুজ কুমারের। এরপর নিজেই মালদাখন্ড সীমান্ত চৌকির কমান্ডারের কাছে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন ঘাতক বিএসএফ জওয়ান উত্তম সূত্রধর।

এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে মালদাখন্ড সীমান্তচৌকি এলাকায়। ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে আসে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ ও বিএসএফ এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত বিএসএফ জওয়ান উত্তম সূত্রধরকে রায়গঞ্জ থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনার উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ।

রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার সুমিত কুমার জানিয়েছেন, রায়গঞ্জ থানার বিএসএফ এর ১৪৬ নম্বর ব্যাটালিয়নের মালদাখন্ড সীমান্ত চৌকির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ জওয়ানদের মৃতদেহ উদ্ধারে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছেছে। কেন জওয়ান গুলি করে তাদের হত্যা করল, তা জানতে পুলিশি তদন্ত শুরু করা হয়েছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রায়গঞ্জ হাসপাতাল মর্গে নিয়ে আসা হয়েছে।