🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ রবিবার, ২০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

একজন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের গল্প

sakib
❏ বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৬, ২০২০ জানা-অজানা

জানা-অজানা ডেস্কঃ সাকিব আল হাসান হলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বিশ্ব দরবারে উচ্চ আসনে বসানোর রুপকথার রাজকুমার। সাকিব আল হাসান সারাবিশ্বে নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। বাংলার হাজারো শিশু একজন সাকিব হওয়ার স্বপ্ন দেখে। আজ সাকিবের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অভিষেকের দিন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আজকের দিনে রঙিন পোশাকে মাঠে নেমেছিলেন সাকিব।

সাকিবের জন্ম ২৪ মার্চ, ১৯৮৭। সারা দেশের কাছে তার পরিচয় সাকিব আল হাসান নামে হলেও জন্মস্থল মাগুরায় তার পরিচিতি ফয়সাল নামে। আজকে ক্রিকেটার সাকিবকে নিয়ে সারা দেশ জুড়ে যে উন্মাদনা সেই সাকিবের হয়তো কখনো ক্রিকেটই খেলা হত না! সাকিবের বাবা মাশরুর রেজা যে চাইতেনই না তার ছেলে ক্রিকেটের পেছনে সময় নষ্ট করুক। সাকিবের বাবা যৌবনে মাগুরার জেলা দলের হয়ে নিয়মিত ফুটবল খেলেছেন। তিনি ছেলের ফুটবল খেলা মেনে নিতে পারতেন কিন্তু ক্রিকেট কখনোই না।

ক্রিকেটটা সেই সময়ে এখনকার মত এতটা জনপ্রিয়ও ছিল না। একটা সময় অবশ্য সাকিব নিজেও চাইতেন ফুটবলার হতে। কিন্তু ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল কেনিয়াকে হারিয়ে আইসিসি ট্রফি জয় করে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ লাভ করলে দেশ জুড়ে যে ক্রিকেট জ্বর শুরু হয় তাতে সাকিবও আক্রান্ত হন। ক্রিকেটের প্রতি তার আগ্রহ এবং ভালবাসা দুটোই বাড়তে থাকে। তাই শেষ পর্যন্ত সাকিব ক্রিকেটকেই বেছে নিলেন।

ক্যারিয়ার

৬ আগস্ট ২০০৬, বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে ৫ম ওয়ানডে ম্যাচ। অভিষেক হলো এক তরুণ খেলোয়াড়ের, নাম সাকিব আল হাসান। বল হাতে ১০ ওভারে ৩৯ রানের বিনিময়ে এলটন চিগাম্বুরার উইকেট এবং ব্যাট হাতে ৪৯ বলে অপরাজিত ৩০ রানের একটি ইনিংস। এভাবেই শুরু হয়েছিল সাকিবের আন্তির্জাতিক ক্যারিয়ার।

২০০১ সালের দিকে ক্লাস সেভেনে থাকা কালীন সময়ে আলোকদিয়ার ওই মাঠটাতে ‘খ্যাপ’ খেলতে গিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। বিধ্বংসী ব্যাটিং আর পেস বোলিংয়ে নজর কেড়েছিলেন সবার। হ্যাঁ, সাকিব প্রথমে পেসারই ছিলেন! সাকিবের ঐ দিনের পারফরমেন্স মুগ্ধ করেছিল সেই ম্যাচের আম্পায়ার সাদ্দাম হোসেন (গোর্কি) কে। পরবর্তীতে এই সাদ্দাম হোসেনের পরামর্শেই সাকিব মাগুরায় ইসলামপুরপাড়া স্পোর্টিং ক্লাবে যোগ দেন।

সাকিব ২০০১ সালে বিকেএসপির প্রতিভা অন্বেষন কার্যক্রমে মাগুরা জেলার হয়ে নড়াইল ক্যাম্পের জন্য মনোনীত হন। বিকেএসপিতে ভর্তির পর বাংলাদেশের হয়ে বয়সভিত্তিক দল গুলোতে অর্থাৎ অনূর্ধ-১৫, অনূর্ধ-১৭, অনূর্ধ-১৯ এর হয়ে খেলার সুযোগ পান এবং নিজের প্রতিভার সাক্ষর রাখেন।

২০০৬ তে ওয়ানডে অভিষেকের পর ২০০৭ তে ভারতের বিপক্ষে টেষ্ট অভিষেক হয় সাকিবের। শুরুটা সাকিব সুলভ না হলেও নিজের জাত চেনান সাকিব। একজন অলরাউন্ডার হওয়া সত্ত্বেও অক্টোবর ২০০৮ এর নিউজিল্যান্ডের বাংলাদেশ ট্যুরের আগ পর্যন্ত সাকিবকে বোলার নয়, ব্যাটসম্যান হিসেবেই গণ্য করা হত। পরের মাসেই বাংলাদেশ দল দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও একটি টি-২০ খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপের বিপক্ষে ১ম টেস্টের দ্বিতীয় দিনেই পাঁচ-পাঁচটি উইকেট তুলে নেন সাকিব। দ্বিতীয় টেস্টে সাকিব আবারও এক ইনিংসে ৫ উইকেট শিকার করেন। ঐ সিরিজে সাকিব ২০.৮১ গড়ে ১১টি উইকেট নেন।

২০০৯ সালটা সাকিবের ক্যারিয়ারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারী সাকিব প্রথমবারের মত আইসিসি’র ওডিআই অলরাউন্ডার তালিকার ১ নম্বরে উঠে আসেন। তিনি আইসিসি ক্রিকেটার অফ দ্যা ইয়ার এবং আইসিসি টেষ্ট প্লেয়ার অফ দ্যা ইয়ার এর জন্য মনোনয়ন পান। কিন্তু পুরষ্কার পাননি। তবে ঐ একই বছর শচীন টেন্ডুলকার, জ্যাক ক্যালিস, গৌতম গম্ভীরের মত খেলোয়াড়কে পিছনে ফেলে জিতে নেন উইজডেন টেষ্ট প্লেয়ার বর্ষসেরার পুরষ্কার! ২০১১তে সাকিব সেরা টেষ্ট অলরাউন্ডারের তালিকায়ও ১ নম্বরে উঠে আসেন।

গেল ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে সাকিবের পারফরমেন্স ছিল ঈর্ষনীয়। ব্যাট হাতে একাই লড়ে গেছেন টাইগারদের পক্ষে। করেছেন আসরের তৃতীয় সর্বোচ্চ ৬০৬ রান। বল হাতেও কোনো অংশে পিছিয়ে নন সাকিব। ঘুর্নিজাদুতে এক ম্যাচে ৫ উইকেটসহ মোট ১১ উইকেট নেন তিনি।

লম্বা এই ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত টেস্ট খেলেছেন ৫৬টি। ৫ সেঞ্চুরি ও ২৪ হাফ সেঞ্চুরিতে সাকিবের রান ৩৮৬২। আর ব্যাটিং গড় ৩৯.৪১। বল হাতে নিয়েছেন ২১০ উইকেট। ইনিংসে পাঁচ উইকেট পেয়েছেন ১৮ বার ও ১০ উইকেট নিয়েছেন দুইবার।

ওয়ানডেতে ২০৬ ম্যাচ খেলে রান করেছেন ৬৩২৩ রান। সেঞ্চুরি ৯ সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরি ৪৭টি। একদিনের ক্রিকেটে বল হাতেও সফল এই বাঁহাতি। তার মোট শিকার ২৬০ উইকেট। ওয়ানডেতে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন দুইবার। এছাড়া টি-টোয়েন্টিতে ৭৬ ম্যাচ খেলে ১৫৬৭ রানের পাশাপাশি ৯২ উইকেট দখল করেছেন তিনি।

অধিনায়ক হিসেবেও রেখেছেন অন্যতম ভূমিকা। দেশের হয়ে ১৩ টেস্টের অধিনায়কত্ব করে জয় পেয়েছেন ৩টিতে। ৫০ ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে জিতিয়েছেন ২৩টি ম্যাচে। এছাড়া ১৭ টি টোয়েন্টিতে অধিনায়কত্ব করে ৪ ম্যাচে জয়ের দেখা পেয়েছেন সাকিব।

সাকিব আল হাসানকে নিয়ে বারবার আলোচনা সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে দেশ-বিদেশের ক্রিকেটাঙ্গনে। তবে কোন কিছুই মাঠে সাকিবের পারফর্মেন্সের উপর প্রভাব ফেলতে পারে নি। সাকিবের প্রত্যাবর্তন প্রতিবারই ছিল সাকিবের মতই।