• আজ ৭ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বৈরুতের বিস্ফোরণে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক

৯:৩৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৬, ২০২০ স্পট লাইট
pm

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ লেবাননের বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী আজ লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াবকে একটি বার্তা পাঠিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন।

শোক বার্তায় শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মঙ্গলবার রাতে বৈরুতে বিস্ফোরণে নিরীহ মানুষের প্রাণহানির জন্য বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার এবং আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি।’

বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সহানুভূতিও জানিয়েছেন। এ সংকটের সময়ে বাংলাদেশ জনগণ লেবাননের সরকারের পাশে দাঁড়াবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস যে, আপনার সুযোগ্য নেতৃত্বে লেবানন সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হবে।’

শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন যে ইউএনএফআইএল (লেবাননে জাতিসংঘের অন্তর্র্বর্তীকালীন বাহিনী)’র অংশ হিসাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ বিজয় বিস্ফোরণের সময় বন্দরে অবস্থান করছিল। জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নৌবাহিনীর ২১ জন সদস্য আহত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘জানা গেছে যে, লেবাননে বসবাসরত কিছু বাংলাদেশী প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেকে আহত হয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি, এই সঙ্কটের সময়ে আপনার সম্মানিত সরকার তাদের দেখাশোনা করবে।’

প্রধানমন্ত্রী নিহতদের রুহের মাগফেরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

উল্লেখ্য মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বৈরুত বন্দরে একটি বিস্ফোরক দ্রব্যের গুদামের ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এরইমধ্যে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে গেছে। আহত হয়েছে চার হাজারের বেশি মানুষ। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। লেবাননের শীর্ষ প্রতিরক্ষা পরিষদ বৈরুতকে দুর্যোগ কবলিত শহর বলে ঘোষণা করেছে।

এ বিস্ফোরণের পর শহরটিতে দুই সপ্তাহের জন্য রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন এই জরুরি জারি ঘোষণা করেন। বিস্ফোরণের পর লেবাননের সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা পরিষদ প্রেসিডেন্ট মিশেল আউনের নেতৃত্বে জরুরি বৈঠকে বসে। বৈঠক শেষে এক বিবৃতির মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং ১০ হাজার কোটি লেবাননি পাউন্ড সাহায্য হিসেবে বরাদ্দ দিয়েছেন।

লেবাননের সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা পরিষদ একটি কমিটি তদন্ত গঠন করেছে। এ কমিটি আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করবে। তদন্তে যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন তাদেরকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।