সংবাদ শিরোনাম
বুক ফাটা আহাজারিতে আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে হাটহাজারীর বাতাস | টাঙ্গাইলে এক উপজেলার ইউপি সদস্য, অন্য উপজেলায় পৌর যুবদলের আহবায়ক | ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের ধাওয়া খেয়ে নদীতে লাফ, বাংলাদেশির মৃত্যু | পঞ্চগড়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা | ইন্টারনেটে ‘গোপন ছবি’ প্রকাশের হুমকি দিয়ে নারীদের ব্ল্যাকমেইল, যুবক গ্রেফতার | এক নজরে আল্লামা শফীর জীবনী | তিন মাস পর মিয়ানমার থেকে এলো ৩০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ | নালিতাবাড়ীতে নিখোঁজের দুইদিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার | বিয়ের দাবীতে প্রেমিকের বাড়িতে যাওয়ায় প্রেমিকাকে মারপিট! | রংপুরে গাঁজা ও ফেন্সিডিলসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার |
  • আজ ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

জরায়ু ক্যান্সারঃ লক্ষণ, প্রতিরোধ এবং করণীয়

১০:৩৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৬, ২০২০ জানা-অজানা
-cancer1

জানা-অজানা ডেস্কঃ নারীদের জন্য একটি ভয়াবহ ব্যাধি জরায়ু মুখ ক্যানসার। এটি বিশ্বব্যাপী নারীদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। এ রোগ সাধারণত অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। জরায়ুর ক্যান্সার যা গর্ভাশয় ক্যান্সার নামেও পরিচিত।

ক্যানসারের লক্ষণ প্রকাশের অনেক আগেই নারী এ রোগের ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হন। তবে সচেতনতার মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়। অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের নারীরা স্বাস্থ্য সচেতন নয় বলেই এ রোগের বিস্তার বেশি। উন্নত দেশের নারীরা সচেতন ও উন্নত জীবনযাপনের কারণে এই রোগ থেকে নিরাপদ।

জরায়ু মুখ ক্যানসার শনাক্ত করার জন্য ‘পেপস স্মেয়ার টেস্ট’ রয়েছে, যা উন্নত দেশের নারীরা দ্বিধাহীন ভাবে গ্রহণ করতে পারেন, কিন্তু অনুন্নত দেশে গ্রহণ করতে অনেক পারিবারিক ও সামাজিক বাধা রয়েছে।

জরায়ু ক্যানসারের কারণ-

হিউম্যান পেপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) ভাইরাস জরায়ু মুখের ক্যানসারের একটি অন্যতম কারণ, তবে এটি একমাত্র কারণ নয়। অরক্ষিত যৌন সংগমেও এর সংক্রমণ ঘটে। সংক্রমণের এক যুগেরও বেশি সময় ধরে জরায়ু মুখের স্বাভাবিক কোষ পরিবর্তিত হতে থাকে এবং একসময় তা ক্যানসারে রূপ নেয়। এইচপিভি-১৬, এইচপিভি-১৮, ভাইরাস সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

স্বাভাবিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত নারীদের জরায়ু এইচপি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। এতে তেমন কোনও উপসর্গ থাকে না বা শারীরিক পরীক্ষায় কোনও চিহ্ন বা ক্ষত পাওয়া যায় না। এর জন্য কোনো চিকিৎসারও প্রয়োজন নেই। শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বলে ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে জরায়ু মুখ প্রায় সব এইচপিভি ভাইরাস থেকে মুক্ত হয়ে যায়। এই ভাইরাস সংক্রমণ দীর্ঘ দিন স্থায়ী হলে, জরায়ু মুখ কোষে পরিবর্তনের সূত্রপাত হয় এবং ধীরে ধীরে তা ক্যানসারের রূপ নেয়।

কাদের হয়?

২০ বছরের কম বয়সীদের এ রোগ সাধারণত হয় না। আক্রান্তেরা সাধারণত ৩৮ থেকে ৪২ বছর বয়সী হয়ে থাকেন। ৬০ বছরের পরও এ রোগ হতে পারে, তবে সংখ্যা তুলনামূলক কম। তবে ক্যানসার মানেই মৃত্যু এমন ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। আর বিশেষ করে মহিলারা এই রোগকে গোপন করার ফলে অনেক সময় বিপদ বাড়ে। উপযুক্ত চিকিৎসায় জরায়ু মুখ ক্যানসারের পুরোপুরি আরোগ্য সম্ভব। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এই রোগ খুব সহজেই এড়ানো যায়।

লক্ষণ

জরায়ুর বিভিন্ন অংশের মধ্যে এই অংশে ক্যানসারের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। অতিরিক্ত সাদাস্রাব, দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব, অতিরিক্ত অথবা অনিয়মিত রক্তস্রাব, মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় রক্তপাত, কোমর ও তলপেট বা উরুতে ব্যথা ইত্যাদি উপসর্গগুলো জরায়ু মুখ ক্যানসার এর লক্ষণ। অল্পবয়সেই যারা যৌনাচারে অভ্যস্ত হয়ে থাকে তাদের এই ক্যানসার হবার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। একাধিক পুরুষ সঙ্গী থাকা, বা পুরুষ সঙ্গীটির একাধিক নারী সঙ্গী থাকা কিংবা ঘন ঘন বাচ্চা নেওয়া ইত্যাদি কারণেও জরায়ু মুখ ক্যানসার হতে পারে। বাল্যবিবাহ হওয়া মেয়েদের এই রোগ হবার সম্ভাবনা বেশি।

প্রাথমিক ভাবে করণীয় কী?

পেপস স্মেয়ার টেস্ট এই ধরনের ক্যানসার শনাক্তকরণের একটি সহজ পরীক্ষা। জরায়ুমুখ থেকে রস নিয়ে পরীক্ষা করে ক্যানসার, ক্যানসার হওয়ার আগের অবস্থা ও জরায়ুমুখের অন্য রোগ —যেমন প্রদাহ (ইনফ্লামেশন) শনাক্ত করা যায়। এটি একটি ব্যথামুক্ত ও সাশ্রয়ী পরীক্ষা পদ্ধতি। সাধারণত বিবাহিত নারীদের ২১ বছরের পর থেকে এ পরীক্ষা শুরু করা যেতে পারে এবং প্রতি বছরে এক বার পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। ৩০ থেকে ৬৪ বছর বয়স পর্যন্ত, যাদের ফলাফল তিন বার ‘স্বাভাবিক’ এসেছে, তাঁদের প্রতি তিন বছর পর পর এই পরীক্ষা করা উচিত। তবে চিকিৎসকের পরামর্শে এ রুটিনের পরিবর্তন হতে পারে।

ওষুধ ছাড়া যেভাবে এই ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধ করা যায়-

ঔষধি প্রতিরোধকের চেয়ে আচরণগত প্রতিরোধকের দিকে বেশি গুরুত্ব আরোপ করে থাকি। যেমন বাল্যবিবাহ রোধ, অধিক সন্তান প্রসব এবং ঘন ঘন সন্তান প্রসব, ধুমপান করা (এমনকি পরোক্ষ ধূমপানের স্বীকার হওয়া) আর সুষম খাবার গ্রহণ, দৈনিক ভিটামিন (A, C, E, ফলিক অ্যাসিড) সমৃদ্ধ ফল, শাকসব্জি, তরকারি খাওয়া, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত, সুশৃঙ্খল জীবন যাপন ও সামাজিক অনুশাসন মান্য করা এই রোগ প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এর পাশাপাশি নারীর নিয়মিত পেপস স্মেয়ার টেস্টে অংশ নেওয়া উচিত, তাতে রোগ আগেভাগে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

অপরিচ্ছন্নতা এই ক্যানসারের জন্য কতটা দায়ী?

অপরিচ্ছন্নতা এই ক্যানসারের জন্য অনেকটাই দায়ী। বলা যেতে পারে প্রায় বন্ধুর মত করে ডেকে আনে এই ক্যানসারকে। গ্রামাঞ্চলে অনেক এটাকে বংশগত বলে অনেকে মনে করলেও এই ক্যানসারের সঙ্গে বংশগত কোনও সম্পর্ক নেই। স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব এবং জননাঙ্গের অপরিচ্ছন্ন অবস্থার ফলেই আমাদের দেশে এই রোগের বাড়বাড়ন্ত লক্ষ করা যায়।

সুত্রঃ headntails