সংবাদ শিরোনাম

যশোরের শার্শায় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে গৃহবধুর মৃত্যুকাদের মির্জাকে পাবনা পাঠাতে সরকারকে অনুরোধ করলেন নিক্সন চৌধুরীরংপুরে হিন্দুপল্লিতে তান্ডবের ঘটনায় ৬ আসামি কারাগারেবাউফলে সড়কে অবৈধ উল্কা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধনকরোনা ভ্যাকসিন নিবন্ধনের অ্যাপস প্রস্তুতপৌর নির্বাচন সুষ্ঠু-শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক হয়েছে: তথ্যমন্ত্রীখালেদা জিয়ার মায়ের ১৩তম মৃত্যু বার্ষিকী পালনকরোনায় আক্রান্ত হাসানুল হক ইনু, হাসপাতালে ভর্তিভারতে টিকা নেয়ার পর ৪৪৭ জনের শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া, ১ জনের মৃত্যুহাতিয়ায় নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার-৫

  • আজ ৪ঠা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রসিক রবি ঠাকুরের কিছু মজার ঘটনা

◷ ১২:১২ পূর্বাহ্ন ৷ শুক্রবার, আগস্ট ৭, ২০২০ জানা-অজানা
robi

জানা-অজানা ডেস্কঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক। তাঁকে বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মনে করা হয়।

বহুমাত্রিক সাহিত্য প্রতিভার অধিকারী দার্শনিক রবীন্দ্রনাথ মোটেই রাশভারী বা গুরুগম্ভীর ছিলেন না। তাঁর কাব্যমানসে ছিল হাস্য রসিকতা। সবার সঙ্গে সহজ, সরল ছিল তাঁর ব্যবহার। কবিগুরুর ব্যক্তিগত জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু মজার ঘটনা নিচে তুলে ধরা হল-

১। একবার রবীন্দ্রনাথ ও গান্ধীজি একসঙ্গে খেতে বসেছিলেন। গান্ধীজি লুচি খেতে এক্কেবারেই ভালোবাসতেন না। তাই তাঁকে ওটসের পরিজ খেতে দেওয়া হয়। আর কবি খাচ্ছিল গরম গরম লুচি। এটা দেখে গান্ধীজি তাঁকে বলে বসলেন, ‘গুরুদেব তুমি জানো না যে তুমি বিষ খাচ্ছো।’ এর উত্তরে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘বিষ হবে তবে এর অ্যাকশন খুব ধীরে, আমি বিগত ষাট বছর যাবৎ এই বিষ খাচ্ছি।’

২। শান্তিনিকেতনের অধ্যাপক বিধুশেখর শাস্ত্রীকে রবীন্দ্রনাথ একবার লিখে পাঠালেন, “আজকাল আপনি কাজে অত্যন্ত ভুল করছেন। এটা খুবই গর্হিত অপরাধ। এজন্য আগামীকাল বিকেলে আমি আপনাকে আমি দণ্ড দিব।” গুরুদেবের এমন কথায় শাস্ত্রী মশাই তো একেবারে অপ্রস্তুত হয়ে গেলেন। এমন কী অন্যায় তিনি করেছেন যার জন্য তাঁর দণ্ডপ্রাপ্য?

চিন্তিত ও শঙ্কিত শাস্ত্রী মশাই নির্ঘুম রাত কাটিয়ে পরদিন উপস্থিত হলেন কবির কাছে। তখনো তাঁকে বেশ কিছুক্ষণ উৎকণ্ঠার মধ্যেই বসিয়ে রাখেন কবিগুরু। অবশেষে পাশের ঘর থেকে একটি মোটা লাঠি হাতে আবির্ভূত হন রবীন্দ্রনাথ। শাস্ত্রী মশাই তখন ভয়ে কাণ্ডজ্ঞান লুপ্তপ্রায়। তিনি ভাবলেন, সত্যি বুঝি লাঠি তাঁর মাথায় পড়বে। কবি সেটি বাড়িয়ে ধরে বললেন, “এই নিন আপনার দণ্ড! সেদিন যে এখানে ফেলে গেছেন, তা একদম ভুলে গেছেন আপনি!”

৩। রবীন্দ্রনাথের অভ্যাস ছিল তিনি যখনই কোনও উপন্যাস লিখতেন তখন সেটা শান্তিনিকেতনে গুণীজন সমাবেশে পড়ে শোনাতেন। তাঁর সেই আসরে মাঝে মধ্যেই যোগদান করতেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। একবার আসরের বাইরে তিনি জুতো খুলে আসার কারণে তাঁর জুতো চুরি হয়ে যায়। অগত্যা, পরের দিন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় জুতো দুটো কাগজে মুড়ে সেটা বগলদাবা করে আসরে ঢুকলেন। কবি সেটা বুঝতে পেরে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করলেন, শরৎ তোমার বগলে ওটা কী পাদুকাপুরাণ? রবি ঠাকুরের মুখে এই কথা শুনে সকলেই হাসতে শুরু করলেন।

৪। রবীন্দ্রনাথকে একবার এক ভদ্রলোক লিখলেন, ‘আপনি কি ভূতে বিশ্বাস করেন?’

কবি উত্তরে লিখলেন, ‘বিশ্বাস করি বা না করি, তাদের দৌরাত্ম্য মাঝে মাঝে টের পাই—সাহিত্যে, রাজনীতিতে সর্বত্রই একেক সময় তুমুল দাপাদাপি জুড়ে দেয় এরা। দেখেছি। দেখতে ঠিক মানুষের মতো!’

৫। রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনের ছাত্রদের বকাঝকার পক্ষপাতি ছিলেন না। তিনি কাউকে কখনও আঘাত দিতে চাইতেন না। একবার প্রমথনাথ বিশী সম্পর্কে একটা নালিশ এল। এমন অবস্থা যে, তাকে না বকলেই নয়। অনিচ্ছা সত্ত্বেও গুরুদেব প্রমথকে অনেকক্ষণ ধরে বকলেন। তিনি একটু থামলে প্রমথ বললেন, “কিন্তু ঘটনা হল আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।”

রবীন্দ্রনাথ হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন। বললেন, “বাঁচালি। তোকে বকাও হল আবার তুই কষ্টও পেলি না।”

সুত্রঃ headntails