করোনায় বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, একদিনে সর্বাধিক মৃত্যু, আক্রান্ত ৫০ লক্ষাধিক

❏ শুক্রবার, আগস্ট ৭, ২০২০ আন্তর্জাতিক
uss

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ করোনায় বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র। এরইমধ্যেই দেশটিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে কোনো মহামারীতে একক দেশ হিসাবে এত সংখ্যক মানুষের আক্রান্তের ঘটনা এটিই প্রথম।

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ লাখ ৩২ হাজার ১৭৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার ৮০৪ জনের। সুস্থ হয়েছেন ২৫ লাখ ৭৭ হাজার ৩৪৯৮ জন। এখন পর্যন্ত চিকিৎসাধীন আছেন ২২ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৩ জন। গুরুতর অসুস্থ ১৮ হাজার ২৯৬ জন।

জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি বলেছেন, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত সাড়ে আটটা (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬ টা) পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নতুন আরো ২ হাজার ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টার হিসেবে দৈনিক মৃত্যুর হারের এই সংখ্যাটি তিন মাসের মধ্যে সব থেকে বেশি। যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ ২ হাজারের বেশি মৃত্যু দেখেছিল মে মাসের ৮ তারিখে। নতুন মৃত্যু নিয়ে এ পর্যন্ত দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৬২ হাজার ছাড়িয়েছে, যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের থেকে সর্বাধিক। এদিকে, ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রে করোনার সংক্রমণ নতুন শনাক্ত হয়েছে আরও প্রায় ৬০ হাজার মানুষের দেহে।

এমন পরিস্থিতিতে আরও বেশি উদ্বেগের পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, নভেম্বরের শেষ হওয়ার পর অর্থাৎ ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৩ লাখে গিয়ে ঠেকবে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এমন আশঙ্কাজনক পূর্বাভাসটি দিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা যদিও বলছে, আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় প্রাণহানির সংখ্যা ৩ লাখে দাঁড়াবে তবে মানুষ মাস্কের ব্যাপারে খুঁতখুঁতে হলে এই সময়ে ৭০ হাজার জীবন বাঁচানো সম্ভব।

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অবন হেলথ ম্যাট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন এর পরিচালক ডা. ক্রিস্টোফার মুরে বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রে একটা নাটকীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করছি। দেখা যাচ্ছে সংক্রমণ মানুষ মাস্ক পরে আর সামাজিক দূরত্ব মানে কিন্তু সংক্রমণ কমলে আবার এসব করতে দেখা যাচ্ছে না তাদের।’

অধ্যাপক ডা. ক্রিস্টোফার মুরে আরও জানাচ্ছেন, সংক্রমণ কমলেও মানুষ যদি এসব সুরক্ষা সংক্রান্ত বিধি মেনে না চলে তাহলে তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। আর যদি মানুষ মাস্ক পরাসহ সামাজিক দূরত্ব রক্ষার মতো স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনে চলে তাহলে অনেকগুলো প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।